সাংবাদিক গোলাম সরওয়ার অপহরণের ঘটনায় কোতোয়ালীতে মামলা
সিটি নিউজঃ চট্টগ্রামের সাংবাদিক গোলাম সরওয়ারকে অপহরণের ঘটনায় অজ্ঞাত ৬ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে নগরের কোতোয়ালী থানায় গোলাম সরওয়ার নিজে বাদী হয়ে মামলাটি করেন বলে ওসি মোহাম্মদ মহসীন নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, অপহরণের ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
গোলাম সরওয়ার বলেন, চেরাগী পাহাড়স্থ অফিসে কাঝ শেষে আমার বর্তমান ঠিকানার বাসায় যাই। বাসায় গিয়া খাবার খাওয়া শেষে আমার গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে কোতোয়ালী থানাধীন চট্টেশ্বরী রোডস্থ গুলশান ক্লাবের নিচে মোটরসাইকেল গ্যারেজের সামনে হতে একটি মোটরসাইকেল ভাড়া করি। মোটরসাইকেলে কর্ণফুলী নতুন ব্রীজ এলাকায় যাওয়ার জন্য রওয়ানা দিলে কাজীর দেউরী ভিআইপি টাওয়ার সামনে রাস্তার উপর পৌঁছামাত্রই অজ্ঞাতনামা মোটরসাইকেল চালক মোটরসাইকেল থামাইয়া দেয়। তাৎক্ষনিক অজ্ঞাতনামা ১ জন লোক (যাহার বয়স অনুমান ২৮ হবে) আমার সিটের পিছনে উঠে আমাকে মুখে ও নাকে চেতনানাশক ঔষুধ লাগিয়ে দেয়। উক্ত ঔষুধের কারনে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।
ঘন্টাখানেক পর আমার জ্ঞান ফিরিলে দেখি যে, আমার চোখ ও পা বাঁধা। আমি বুঝিতে পারি যে, আমাকে অপহরন করা হয়েছে। জ্ঞান ফেরার পর গাড়ীতে অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন্সের আওয়াজ শুনতে পাই। বুঝি যে, আমি একটি এ্যাম্বুলেন্সে আছি। আমাকে চোখ বেঁধে তিন দিন অপহরনকারীরা অজ্ঞাত একটি ঘরে আটক করে রাখে।
সরওয়ার বলেন, আমি যেখানে ছিলাম সেখানে ট্রেন চলাচলের আওয়াজ শুনতে পেতাম। অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন লোক আমাকে তিন দিন যাবৎ হঠাৎ হঠাৎ এসে “আর কোন নিউজ করবি কিনা ?” বলে বলে এলোপাতাড়ী গাছ জাতীয় জিনিস দিয়ে দুই পায়ে এবং বেল্ট দিয়ে পিঠে ও বুকে এবং কিল ঘুষি মেরে আহত করে। তাদের মারধরে আমি চিৎকার করিলেও তাহারা আমাকে আরো বেশি মারধর করত।
তাকে শুধু পাউরুটি আর পানি ছাড়া কিছুই খেতে দিতনা বলে সরওয়ার বলেন, আমাকে নির্যাতন করাকালে অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন ব্যক্তি তাদের মোবাইল ফোনে তাদের স্যার এর সঙ্গে কথা বলার সময় শুনতে পাই যে, “সেখানে আমাকে খুন করা হবে কিনা অজ্ঞাতনামা ১ জন মোবাইলে কথা বলার সময় তার স্যার নিকট হতে জানতে চান, কিন্তু বস খুন করার জন্য নয়, সাংবাদিকদের ভয় লাগানোর জন্য অপহরণ করেছে বলে জানায়।
সরোয়ার আরও জানান, তিনি এখনও মানসিকভাবে সুস্থ নন। শারীরিক দুর্বলতাও আছে। তিনি চান আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে।
