আবারও দাম কমলো ওয়ালটন এলইডি টিভির

0

ঢাকা : এলইডি টিভি বিক্রিতে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড ওয়ালটন। ২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ৩ মাসে যে পরিমাণ বিক্রি হয়েছিল তার তুলনায় গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসে প্রায় ২১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

চাহিদা ও বিক্রি ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে উৎপাদন। ফলে কমেছে টিভির ওভারহেড উৎপাদন খরচ। এরই প্রেক্ষিতে এলইডি টিভির দাম আবারও কমালো ওয়ালটন।

ওয়ালটন সূত্রে জানা গেছে, পণ্যমান বৃদ্ধি এবং দাম কমানোর ফলে সম্প্রতি তাদের এলইডি টিভি বিক্রি ব্যাপক হারে বেড়েছে। ক্রমবর্ধমান গ্রাহক চাহিদা মেটাতে নিজস্ব কারখানায় বাড়ানো হয়েছে উৎপাদন। ফলে প্রতিটি পণ্যের ওভারহেড কস্ট অনেকাংশে কমেছে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে সবার্ধুনিক প্রযুক্তি।

২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে এলইডি টিভি বিক্রিতে ৬৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। কিন্তু ২০১৫ সালের শেষের দিকে ওয়ালটন কারখানায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন এবং উচ্চমান নিশ্চিত করতে ব্যাপক বিনিয়োগ করা হয়। ফলে ২০১৪ সালের শেষ ২ মাসের তুলনায় ২০১৫ সালের শেষ দুই মাসে টিভি বিক্রির আনুপাতকি হার প্রায় তিনগুণ বেড়ে যায়।

গত বছরের জানুয়ারি মাসের সঙ্গে তুলনা করলে চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিক্রি বেড়েছে প্রায় ২১০ শতাংশ। আবার ২০১৫ সালের ডিসেম্বর এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে মাসিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে প্রায় ৪০.২১ ও ৩৫ শতাংশ। ওয়ালটন কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা আগামী দিনগুলোতে ওয়ালটন এলইডি টিভি বিক্রির এই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।

গত ২৫ ফ্রেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে বিভিন্ন মডেলের এলইডি টিভির দাম কমিয়েছে ওয়ালটন। দাম কমানোর ফলে গ্রাহকরা এখন ওয়ালটন ব্র্যান্ডের ১৯ ইঞ্চি এলইডি টিভি পাচ্ছেন মাত্র ১২,১৫০ টাকায়। ২৪ ইঞ্চি এলইডি টিভির দাম এখন ১৫,৬০০ টাকা। এছাড়া দেশীয় ব্র্যান্ডটির ২৮ ও ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভি আগের চেয়ে আরো কম দামে যথাক্রমে ২১,৫০০ ও ২৭,৭০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। গ্রাহকরা মাত্র ৮,৭০০ টাকায় পাচ্ছেন ওয়ালটনের ১৪ ইঞ্চি সিআরটি টিভি।

বর্তমানে সিআরটি, এলইডি ও এন্ড্রয়েড স্মার্ট টিভিসহ মোট ৭১টি মডেলের টেলিভিশন বিক্রি করছে ওয়ালটন।  এরমধ্যে রয়েছে ৩৯টি মডেলের এলইডি এবং তিনটি মডেলের (৪৩, ৪৯ ও ৫৫ ইঞ্চির) এন্ড্রয়েড স্মার্ট টিভি। নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি এই টিভিগুলোতে রয়েছে ইউএসবি পোর্ট, ভিজিএ পোর্ট, এইচডিএমআই, ওয়াইপিবিআর, এভি,  ইন্টারনেট ব্রাউজিং ও ডাউনলোড, ওয়াইফাই, ব্রডব্যান্ড কানেকশন, ইন্টারনেটে গেমস এবং ভিডিও ও ছবি দেখাসহ আরো অনেক সুবিধা।

ওয়ালটন টেলিভিশন বিপণন বিভাগের প্রধান মো. আব্দুল বারী বলেন, ঝকঝকে ছবি, জোড়ালো শব্দ এবং চোখের ক্ষতি হয় না এমন প্রযুক্তি আসায় ক্রেতাদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এলইডি (লাইট ইমটিং ডায়োড)।

ওয়ালটনের সোর্সি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সিনিয়র সহকারি পরিচালক প্রকৌশলী মোস্তফা নাহিদ হোসেন জানান, গুণগত মান নিশ্চিত করতে ওয়ালটন এলইডি টিভিতে ব্যবহার করা হচ্ছে আইপিএস (ইন প্ল্যান সুইচিং), এডিএস (অ্যাডভান্স সুপার ডাইমেনশন সুইচ) এবং এইচএডিএস (হাই অ্যাডভান্স সুপার ডাইমেনশন সুইচ) প্রযুক্তির প্যানেল। এর ফলে দর্শকরা ওয়াইড ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল এবং হাই কন্ট্রাস্টের পিকচার দেখতে পাবেন।

ওয়ালটন গ্রুপের অপারেটিভ ডিরেক্টর উদয় হাকিম জানান, ইতোমধ্যে তারা এলইডি টেলিভিশনের উৎপাদন খরচ বহুলাংশে কমাতে সক্ষম হয়েছেন।

সাশ্রয়ী মূল্যে এলইডি টেলিভিশন সরবরাহ করায় অনেকে হয়ত এর মান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতে পারেন। এ প্রসঙ্গে  তিনি বলেন, টেলিভিশনের মানের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে ওয়ালটন।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.