ঢাকা : বিদ্যুৎ খাতে ভারতের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্সের দুটি প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। এই দুটি প্রস্তাবে মোট ২ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে বাংলাদেশের কাছে বিক্রির কথা বলা হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, আদানি ভারতে তাদের মালিকানাধীন কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রে উৎপাদিত মোট ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করার প্রস্তাব দিয়েছে। নওগাঁ জেলার সুবিধাজনক কোনো স্থান দিয়ে এই বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সঞ্চালন লাইনও আদানিই নির্মাণ করবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আদানির প্রস্তাবটি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বোর্ড সভা অনুমোদন করেছে। সেটি এখন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য আসবে। রিলায়েন্সের ৭৫০ মেগাওয়াটের প্রস্তাবটিতে মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে।
গত বছরের ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদির বাংলাদেশ সফরকালে আদানি ও রিলায়েন্সের সঙ্গে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) আলাদা দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করে। সেই সূত্র ধরে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কোম্পানি দুটির একাধিক বৈঠক হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কোম্পানি দুটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছে।
বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, আদানি গ্রুপের সঙ্গে স্বাক্ষরিত এমওইউ ও বর্তমান প্রস্তাব অনুযায়ী ভারতে স্থাপিত তাদের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে তারা বাংলাদেশে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। ভবিষ্যতে তা আরও বাড়তে পারে।
রিলায়েন্স গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় তাদের প্রস্তাবটি উপস্থাপন করে। প্রস্তাব অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে মোট তিন হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র করবে কোম্পানিটি। এর মধ্যে প্রথমটি হবে ৭৫০ মেগাওয়াটের। এই কেন্দ্রটির জন্য রিলায়েন্স সরকারের কাছে দীর্ঘ মেয়াদে গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা চেয়েছে।
মন্ত্রণালয় ও পিডিবির সূত্রে জানা যায়, আদানি বিদ্যুতের কোনো দাম প্রস্তাব করেনি। তবে রিলায়েন্স প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রস্তাব করেছে প্রায় সাত টাকা। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুতের এই দাম বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই বিদ্যুৎ উৎপাদন ও কেনা-বেচার বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ (বিশেষ বিধান)’ শীর্ষক বিশেষ আইনের আওতায় এবং আদানি ও রিলায়েন্সের অযাচিত (আনসলিসিটেড) প্রস্তাবের ভিত্তিতে।
‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ (বিশেষ বিধান)’ শীর্ষক আইনটি ২০১০ সালে সরকার তিন বছরের জন্য করেছিল। পরে একাধিকবার তার মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২০ সাল পর্যন্ত বহাল করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় প্রচলিত দরপত্র-প্রক্রিয়া ছাড়াই কোনো কোম্পানিকে আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ দিতে পারে সরকার। এ নিয়ে কখনো কোনো আদালতেরও শরণাপন্ন হওয়া যাবে না।

Comments are closed.