সিটিনিউজবিডি : খেলাপি হয়ে পড়ছে যাচাই–বাছাই না করে দেওয়া ঋণ। আবার নিয়মবহির্ভূতভাবে দেওয়া ঋণও আদায় করা যাচ্ছে না। ফলে এসব ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হচ্ছে ব্যাংকগুলোকে। যাতে টান পড়ছে মূলধনে। এতে গত জুন শেষে সরকারি-বেসরকারি নয়টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা।
ঝুঁকি এড়াতে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ১০ শতাংশ হারে মূলধন সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও গত জুন শেষে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ছয়টি ব্যাংক সংরক্ষণ করেছে মাত্র ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ব্যাংকগুলোর জুনভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, চলতি বছর থেকে ব্যাসেল-৩ নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে ১০ শতাংশ ন্যূনতম মূলধনের পাশাপাশি দশমিক ৬২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত মূলধন সংরক্ষণ (ক্যাপিটেল কনজারভেশন বাফার) করতে হয়। গত জুন শেষে ন্যূনতম মূলধন সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে নয়টি ব্যাংক। এ ছাড়া অতিরিক্ত মূলধন সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে ১০টি ব্যাংক।
চলতি বছরের এপ্রিল-জুন—এ তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা। আর জানুয়ারি-জুন সময়েই খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১১ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা। ফলে গত জুন শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৬৩ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণে মূলধন ঘাটতি বেড়ে গেছে বলে জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গত জুনে ব্যাংকগুলোর মূলধন সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল ৭৭ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলো সংরক্ষণ করেছে ৭৬ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা। এতে করে সামগ্রিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৪০ কোটি টাকা। তবে আলাদাভাবে নয়টি ব্যাংকের ঘাটতি রয়েছে ১৬ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা।
জানা গেছে, জুন শেষে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা। তিন মাস আগে ব্যাংকটিতে ঘাটতি ছিল ৭ হাজার ২৫ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ ইউসুফ বলেন, ব্যাংকটির অনেক ঋণ খেলাপি হয়ে আছে। এ কারণে মূলধন ঘাটতি আছে ব্যাংকটির। মূলধন সংস্থানে চেষ্টা অব্যাহত আছে।
জুন শেষে সোনালী ব্যাংকের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। গত মার্চে যা ছিল ২ হাজার ৮৫০ কোটি। এ ছাড়া বেসিক ব্যাংকে ঘাটতি রয়েছে ২ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা। তিন মাস আগে যা ছিল ২ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা।
এদিকে গত মার্চে প্রয়োজনের তুলনায় ৪৮ কোটি টাকা বেশি মূলধন ছিল রাষ্ট্রমালিকানাধীন জনতা ব্যাংকের। তবে তিন মাসের ব্যবধানে এখন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৬৪ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনতা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম আজাদ বলেন, খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় এর বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হয়েছে। ফলে মূলধন ঘাটতি হয়ে গেছে। সেপ্টেম্বর শেষে মূলধন ঘাটতি থাকবে না, এ লক্ষ্যে কাজ চলছে।
জানা গেছে, অগ্রণী ব্যাংকের মূলধন গত মার্চে ৫১ কোটি টাকার উদ্বৃত্ত ছিল। গত জুনে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া গত তিন মাসে রূপালী ব্যাংকের ঘাটতি ৪৪৪ কোটি থেকে বেড়ে ১ হাজার ৫৩ কোটি টাকা হয়েছে। আর রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ঘাটতি সামান্য কমে ৬৯৯ কোটি টাকায় নেমেছে।
বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ঘাটতি সামান্য বেড়ে ২৯৮ কোটি টাকা হয়েছে। আর আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাদেক মোহা. সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়াদ বৃহস্পতিবারই শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাই এসব বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’
এদিকে গত জুন শেষে ১০টি ব্যাংক দশমিক ৬২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত মূলধন সংরক্ষণ করতে পারেনি। ব্যাংকগুলো হলো সোনালী, রূপালী, অগ্রণী, বেসিক, জনতা, বাংলাদেশ কমার্স, ফারমার্স, আইসিবি ইসলামিক, বাংলাদেশ কৃষি ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক।
