সিনিয়র প্রতিবেদক, সিটি নিউজঃঃ অনেক ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন তথা সামগ্রিক উন্নয়নে নেওয়া মেঘা প্রকল্পের কাজ। চট্টগ্রামের এই মেঘা প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে পাস করা হয় ৭মাস আগে গত বছর আগষ্ট মাসে। এর পর থেকে শুরু হয় চট্টগ্রাম নগরীর ৩টি সেবা সংস্থার রশি টানাটানি। এই মধ্যে সিডিএ ও সিটি কর্পোরেশন নেমে পড়ে বাকযু্দ্ধে।
বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশনকে বাদ দিয়ে সিডিএকে কাজ দেওয়ায় সহজভাবে নেয়নি সিটি কর্পোরেশন। এর মধ্যে সিডিএ চেয়ারম্যান সন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের জন্য সবাই সবাইকে অপেক্ষা করার অনুরোধও জানান।অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে প্রকল্প তদারকির দায়িত্ব দেন। স্থানীয় সরাকার সন্ত্রণালয় একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করে কয়েক দফা সভাও করেন। কিন্তু কাজ শুরু করা যাচ্ছিল না।
এদিকে বর্ষাও আবার সমাগত। চট্টগ্রামবাসীও গতবর্ষার কথা স্মরণ করে বলা শুরু করে মেঘা প্রকল্প হয়তো মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়েছে। সেই প্রকল্পের আলো মেঘ ভেদ করে আর আলোর মুখ দেখবে না। চট্টগ্রামবাসীর আশা নিরাশার এমন বেড়াজালের আশার আলো হচ্ছে আজ মঙ্গলবার পেতে যাচ্ছে জিও অর্ডার।আইডির আজকের অনুষ্ঠেয় বৈঠকে মেঘা প্রকল্পে অর্থ ছাড় দেয়া হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় অবশ্য গত ১ মার্চ প্রকল্পটির চুড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে দেন।
জানা গেছে, জিও পেলে আগামী দুএকদিনের মধ্যে সেনাবাহিনীর সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করবেন সিডিএ। এর আগেই সিডিএ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেনাবাহিনীর সহযোগীতায় প্রকল্পের কাজ করবেন। সিডিএ সুত্র জানায়, যেহেতু বর্ষা সমাগত তাই জরুরী ভিত্তিতে জলাবদ্ধতা নিরসনে দৃশ্যমান কিছু কাজ করবে। সিদ্ধান্ত মোতাবেক চট্টগ্রাম নগরীর ১৬টি খাল খনন করা হবে।
সিডিএ সুত্র জানায়, মেগা প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যে ১৬ খালের খনন কাজ শুরু করবে সেগুলো হচ্ছে, চাক্তাই খাল,বির্জা খাল, রাজাখালী খাল–১, রাজাখালী খাল–২, রাজাখালী খাল–৩, মির্জা খাল, হিজরা খাল, মহেশখাল, মরিয়মবিবি খাল,কলাবাগিচা খাল, ডোমখাল, চাক্তাই ডাইভার্সন খাল, বামুনশাহী খাল (কোদালাকাটা খাল, কাটা খাল,সানাইয়া খাল, মধুছড়া খালও বামুনশাহী খালের অনর্ত্মভুক্ত), নোয়া খাল, নাছির খাল এবং খন্দকিয়া খাল।
সিডিএ মনে করছে বর্ষা শুরুর আগে অন্তত এই ১৬টি খাল খনন করা গেলে জলাবদ্ধতা সত্তর শতাংশ নিরসন হবে।
