প্রধানমন্ত্রী জনসভা করলেও বিএনপিকে অনুমতি দিচ্ছে নাঃ খসরু
সিটি নিউজ, চট্টগ্রামঃঃ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের মধ্যদিয়ে সরকার তাদের ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে ফেলেছে।
আওয়ামীলীগ যে পথে হাটছে সেটা একদলীয় পথ, স্বৈরতন্ত্রের পথ, ফ্যাসিষ্টের পথ, নিপীড়ন নির্যাতনের পথ। আর বিএনপি চলছে গণতন্ত্রের পথে। আওয়ামীলীগ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস অথবা অন্য শক্তির উপর নির্ভর উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের উপর নির্ভর।
আজ ৬ মার্চ মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয় কাজির দেউড়ির নাসিমন ভবনের সামনে কেন্দ্রঘোষিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জনসভা করে প্রধানমন্ত্রীর নৌকায় ভোট চাওয়া সংবিধান পরিপন্থী। বেগম খালেদা জিয়া জেলে থাকলেও বিএনপির প্রধানমন্ত্রীর জনসভার চেয়ে কয়েকগুণ বড় জনসভা করার ক্ষমতা আছে।
আমির খসরু বলেন, অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সারাদেশ ঘুরে জনসভা করছেন। নৌকা মার্কায় ভোট চাচ্ছেন। এক বছর আগে ভোট খোঁজার কারণ কি? কারণ প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পেরেছেন উনার পায়ের নিচে মাটি নেই। প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পেরেছেন আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণভাবে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু ভোট চাচ্ছেন না, জনগণকে শপথও করাচ্ছেন। জনসভা থেকে জনগণকে শপথ করানো সংবিধান, আইন এবং নৈতিকতার পরিপন্থী। জনগণের উপর আস্থা হারিয়ে তাদের শপথ পড়িয়ে ভোট পাবার চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, আমরা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে চাই। প্রধানমন্ত্রী খুলনায় জনসভা করেছেন।
আমরাও ১০ মার্চ খুলনায় জনসভা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। সার্কিট হাউজ ময়দান চেয়েছি। সেখানে প্রধানমন্ত্রী জনসভা করলেও আমাদের অনুমতি দিচ্ছে না। হাদিস পার্ক চেয়েছি। সেখানেও গড়িমসি করছে। ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চেয়েছি। সেখানেও অনুমতি দিচ্ছে না। আমাদের যদি অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে বেগম খালেদা জিয়া জেলে থাকলেও আমরা বিএনপির সিনিয়র নেতারা প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে কয়েকগুণ বড় জনসভা করতে পারব।
সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশের জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী নির্বাচনে তারা আওয়ামী লীগের নৌকাকে ডুবিয়ে দেবে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, দেশনেত্রী বেগম জিয়ার মুক্তি আসবে আইনের শাসনের মাধ্যমে, বাক স্বাধীনতার মাধ্যমে। দেশনেত্রী যে পথ দেখিয়েছেন সেটি শান্তির পথ। সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের নেতাকর্মীরা এখন গ্রেফতারের ভয় করে না। মনে রাখবেন বেগম খালেদা জিয়া জেলের ভিতরে অনেক বেশী শক্তিশালী।
কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে নেওয়ার পর আওয়ামী লীগ চেয়েছিল আমরা যেন হরতাল-অবরোধ করি। কিন্তু আমরা সরকারের ষড়যন্ত্রে পা দিইনি। আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখব এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচন সরকারকে করতে দেব না।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেছেন, জনবিচ্ছিন্ন সরকার এখন জন আতঙ্কে ভুগছে। জনগণের সকল নাগরিক অধিকার কুক্ষিগত করে, প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভয় দেখিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছে। দেশের জনগণ অগণতান্ত্রিক সরকারের চোখ রাঙ্গানীকে ভয় পায় না। অচিরেই তারা সকল ভয় ভীতি উপেক্ষা করে অবৈধ সরকারের বিদায়ের ঘন্টা বাজাতে রাজপথে নেমে আসবে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তিনি বলেন, অবৈধ সরকার বেগম জিয়াকে বেশীদিন কারাগারে আটকিয়ে রাখতে পারবে না। আমরা আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ধীরে ধীরে কঠোর থেকে কঠোরতর করবো। সরকার বেগম জিয়াকে মুক্তি দিতে বাধ্য হবে।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য আলহাজ্ব শামসুল আলম, চট্টগ্রাম মহানগর মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আলহাজ্ব এম এ আজিজ, মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, সামশুল আলম, হাজী মো. আলী, সবুক্তগীন সিদ্দিকী মক্কি, হারুন জামান, শফিকুর রহমান স্বপন, সৈয়দ আহমদ, ইকবাল চৌধুরী, এস এম আবুল ফয়েজ,
এম এ হান্নান, যুগ্ম সম্পাদক এস এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, মো. শাহ আলম, ইসকান্দর মির্জা, আর. ইউ. চৌধুরী শাহিন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আাবদুল মান্নান, মনজুর আলম মঞ্জু, আনোয়ার হোসেন লিপু, মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, গাজী মো. সিরাজউল্লাহ, মো. শামসুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম,
প্রচার সম্পাদক শিহাব উদ্দিন মবিন, মহিলা দল সভানেত্রী মনোয়ারা বেগম মনি, শেখ নুরুল্লাহ বাহার, আলহাজ্ব বাবর মিয়া, সহ সাধারণ সম্পাদক মো. সালাহউদ্দিন, জি এম আইয়ুব খান, এস এম জি আকবর, আবু জহুর, জহির আহমদ, সম্পাদকবৃন্দ এম আই চৌধুরী মামুন, হামিদ হোসাইন, ডা. সরোয়ার আলম, নুরুল আকবর কাজল, দিদারুল আলম চৌধুরী, মশিউল আলম স্বপন,
জিয়া উদ্দিন খালেদ চৌধুরী, থানার সভাপতি মনজুর রহমান চৌধুরী, হাজী বাবুল হক, হাজী হানিফ সওদাগর, মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, আবদুল্লা আল হারুন, ডা. নুরুল আবছার, মো. সেকান্দর মিয়া, সহসম্পাদক এ কে এম পেয়ারু, রফিকুল ইসলাম, মো. ইদ্রিস আলী, খোরশেদ আলম কুতুবী, রেহান উদ্দিন প্রধান, রনজিত বড়ুয়া,
আজাদ বাঙালী, আবু মুসা, শফিক আহমদ, নকিব উদ্দিন ভূঁইয়া, আবুল খায়ের মেম্বার, আবদুল হাই, আলী আজম, সালাহ উদ্দিন লাতু, থানার সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন, জসিম উদ্দিন জিয়া, শাহাব উদ্দিন, রোকন উদ্দিন মাহমুদ, হাবিবুর রহমান, ২০ দলীয় জোট নোত মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. ইলিয়াছ, আবু মোজাফ্ফর মোহাম্দ আনাস, ওসমান গণি সিকদার, আনোয়ার সাদেক, আলা উদ্দিন আলী, নাজমুল আলম সেলিম, প্রমুখ।
