‘যৌন সন্ত্রাস বিরোধী গণ কনভেনশন’ অনুষ্ঠিত

0

সিটি নিউজ ডেস্ক :: যৌনসন্ত্রাস মুক্ত বাংলাদেশ গড়ব স্লোগানে দেশের নাগরিকদের একত্রে কাজ করা, নারীর সমান অধিকার ও যৌনসন্ত্রাস নিয়ে রাজনীতি না করা, মানুষের মনোজগতকে নিয়ন্ত্রন করা, স্কুল পর্যায় থেকে মেয়েদের আত্মরক্ষার নিয়মাবলী শেখানোর আহ্বান জানিয়েছে যৌনসন্ত্রাস বিরোধী গণ কনভেশন।

তারা বলছেন সকলে সম্মিলিতভাবে মানবিক দৃঢ়তায় যৌনসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে ‘পথ কুকুরের ন্যায় পলাইবে ধেয়ে’।

আজ শুক্রবার (১১ মে) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে যৌনসন্ত্রাস বিরোধী গণ কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটি ‘যৌন সন্ত্রাস বিরোধী গণ কনভেনশন’ এর আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে নারীদের সমান অধিকার বিরোধী কার্যক্রম বন্ধ ও ক্ষমতাবানদেন যৌনসন্ত্রাসের কঠোর শাস্তি এ ঘৃণ্য অপকর্ম প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে জানান তারা।

অধ্যাপক মাহমুদা খানম বলেন, যৌনসন্ত্রাস বন্ধে আমাদের মনোজগত নিয়ন্ত্রন করতে হবে, মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে, এ জন্য প্রয়োজন সমাজে নারী পুরুষের সম-অধিকার এবং দায়িত্ববোধের ধারণা প্রতিষ্ঠা করা। আইন প্রণয়ন করে ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে।

বিচারপতি জিনাত আরা বলেন, একজন ধর্ষিতাকে আদালতে যে ধরণের প্রশ্ন করা হয় তা ঠিক নয়, সব সময় তার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, তাকে এক পর্যায়ে পতিতার সঙ্গে তুলনা করা হয়। আমি আমার অনেক সহকর্মী বিচারপতিকে দেখেছি আদালতে হাসাহাসি করতে, যা নারী হিসেবে কষ্ট দিয়েছে। কিন্তু পতিতাকে ধর্ষণ করার অধিকার তো কারো নেই। সে অভাবের তাড়নায় পতিতাবৃত্তি বেছে নিয়েছে।

যৌনসন্ত্রাস দমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অবশ্যই স্কুল পর্যায় থেকে মেয়েদের আত্মরক্ষার নিয়মাবলী শেখাতে হবে। গণমাধ্যমগুলোকে যৌন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিজ্ঞাপন, নাটক, প্রতিবেদন প্রচার করতে হবে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী গত সাড়ে পাঁচ বছরে দেশে ৫ হাজার ২৪৮ জন ধর্ষণের শিকর হয়েছে। এ হিসাব অনুযায়ী প্রতি দিন ৩ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির বলেন, আমাদের দেশে প্রথমদিকে ধর্ষণ হলে কেউ মুখ খুলত না, ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করত। ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ায় এখন মুখ খুলছে। এর কারণ নারীরা এখন সব জায়গাতেই তাদের স্থান করে নিয়েছে, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে।

তিনি বলেন, নারীর ইজ্জতের সঙ্গে ধর্ষণের কোন সম্পর্ক নেই, ধর্ষণ একটা অপরাধ। ভুক্তভোগীর বিব্রত, লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। লজ্জিত হবে অপরাধী, মুখ লুকাবে অপরাধীরা।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ যৌনসন্ত্রাস: সংকট ও উত্তরণ তুলে ধরে যৌনসন্ত্রাস বিরোধী গণ কনভেশনের সভাপতি ডাকসুর সাবেক ভিপি লেলিন চৌধুরী বলেন, যে সমাজে যৌনসন্ত্রাস বেশি সে সমাজ কম সভ্য এবং যে সমাজে যৌন সন্ত্রাস কম তারা বেশি সভ্য। তাই সভ্য সমাজে যৌনসন্ত্রাস থাকতে পারে না। যৌনসন্ত্রাসের কারণ, সমাজ ও মনস্তত্ব এবং বিদ্যমান অর্থনীতির বিচার বিশ্লেষণের মধ্য দিয়েই এই সংকট থেকে উত্তরণের উপায় নির্ধারণ করতে হবে।

যৌনসন্ত্রাস বিরোধী গণ কনভেশনে আরো বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক নাসিম আকতার হুসাইন, অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান, রোকেয়া কবীর, ডা. রওশন আরা বেগম এবং রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, নারী, ছাত্র, যুব ও বিভিন্ন শ্রেণীপেশার প্রতিনিধিসহ কনভেনশনের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল।

অনুষ্ঠানে যৌনসন্ত্রাস সংকট ও উত্তরণে ছয়টি দাবী জানানো হয়। এছাড়াও সামগ্রিক বিষয়াদি বিবেচনা করে সাতটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.