সিটিনিউজ ডেস্ক:: বিকাল পাঁচটার মধ্যে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি না করলে সোমবার থেকে দেশের সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করবে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।
রবিবার বেলা একটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সামনে এই ঘোষণা দেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন।
ফারুক হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ৩২দিন পর হলের এখনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। সম্প্রতি দেশের পাঁচ জেলার নাম এক সপ্তাহের মধ্যে পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর দীর্ঘ ৩২দিন পার হলেও এখনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। আজকের (রবিবার) মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে আগামীকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করা হবে।
এর আগে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী রবিবার সকাল থেকে ঢাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে হাজারো শিক্ষার্থী একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি মধুর ক্যান্টিন, বিজনেস ফ্যাকাল্টি, বিজয় একাত্তর হল, বসুনিয়া, ভিসি চত্বর, শহীদ মিনার হয়ে কার্জন হলের দিকে যায়।
বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্বে দেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বাযক রাশেদ খান, নূরুল হক নূর। বিক্ষোভে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা ‘আর নয় কালক্ষেপণ, দিতে হবে প্রজ্ঞাপন’, ‘শেখ হাসিনার ঘোষণা, বাস্তবায়ন করতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। পরে টিএসসির সামনে গিয়ে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়।
সরকারি চাকরিতে কোটা ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবিতে গত ফেব্রুয়ারি থেকে আন্দোলনে নামে সংগঠনটি। গত ৮ এপ্রিল রাজধানীর শাহবাগে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের পর দেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। পরে নামে সরকারি চাকরিতে অনীহা দেখানো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও। আর ১২ এপ্রিল সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো কোটার দরকার নেই।’
এরপর ছাত্ররা ক্লাসে ফিরে গেলেও গত ২৬ এপ্রিল দ্রুত প্রজ্ঞাপন না হলে আবার আন্দোলনে নামার ঘোষণা আসে। পরদিন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক আলোচনায় বসেন কোটা আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে। জানান, প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন হবে।
প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে ২ মে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি কোটা বাতিলের বিষয়ে যে কথা বলেছেন, সেটা পাল্টাবেন না।
সর্বশেষ ১০ মে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোজাম্মেল হক খান ‘কোটা সংস্কার বা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়েছে’বলে জানালেও প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান। এরপর প্রজ্ঞাপনের দাবিতে আজ বিক্ষোভ কর্মসূচি ডাকে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।
