বাংলাদেশ-ভারত সর্ম্পক গভীর হলেই বিএনপির বুক কাঁপে

0

সিটি নিউজ ডেস্ক :: ভারতের সঙ্গে এখন বাংলাদেশ ও আওয়ামী লীগের সর্ম্পক এখন মধুর ও গভীর। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সর্ম্পক গভীর হলেই বিএনপির বুক কাঁপে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

আজ সোমবার (২৮ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের এক আলোচনা সভাই এ মন্তব্য করেন তিনি।

হাছান মাহামুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে প্রশ্ন তুলবে কেন? আমার জিজ্ঞাসা আপনাদের বুকটা কাঁপে কেন? আপনাদের বুক কাঁপে কারণ এখনো পাকিস্তানি ভাবধারা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি।

বর্তমান সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে ভারতের সঙ্গে সমুদ্র সীমার মীমাংসা যেমন হয়েছে, তেমনি স্থলসীমান্ত চুক্তি কার্যকর হয়েছে। ছিটমহল বিনিময়ে বাংলাদেশ ১০ হাজার একর জমি বেশি পেয়েছে। এর আগেও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সই হয়েছে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি।

গত এক বছরের বেশি সময় ধরে তুমুল আলোচিত সীমান্ত হত্যার বিষয়টি নিয়েও উচ্চকিত বাংলাদেশ। এরই মধ্যে এই হত্যা বহুলাংশে কমে এসেছে। বিজিবির তথ্যমতে চলতি বছর সীমান্তে কোনো বাংলাদেশি হত্যা হয়নি।

তবে এখনও ভারত-বাংলাদশের সম্পর্কে প্রশ্ন হয়ে রয়েছে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি। ২০১১ সালে সই হতে যাওয়ার আগে আগে পশ্চিমবঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আপত্তিতে স্থগিত হয়ে যাওয়া চুক্তি সইয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি।

তবে ২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় সে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের চলতি মেয়াদেই এই চুক্তি করার অঙ্গীকার করেছেন। কিন্তু মমতা তার আগের অবস্থান থেকে এতটুকু সরেছেন, তার প্রমাণ মিলছে না।

তবে হাছান বলছেন, আওয়ামী লীগ ভারতের কাছ থেকে নানা সময় বহু কিছু আদায় করেছে। কিন্তু বিএনপি কিছুই করতে পারে না। তারা প্রকাশ্যে ভারতবিরোধিতা করলেও গোপনে ভারত তোষণ করে।

বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ভারত সফরে গিয়ে গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে আলোচনা করতে ভুলে যাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করেই আওয়ামী লীগ দেশের স্বার্থ অক্ষুন্ন রাখে জানিয়ে হাছান বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সর্ম্পক ভালো হলে পাকিস্তানের যেমন বুক কাপে, তেমনি বিএনপিরও বুক কাঁপে।

প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় টিকে থাকতে ভারত গেছেন, বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর এমন সমালোচনার জবাব দিয়ে হাছান মাহামুদ বলেন, ভারত এসে আমাদের ভোট দেয় না। আমাদের ভোট জনগণ দেয়।

আমরা দেশের জনগণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমাদের ক্ষমতার উৎস দেশের জনগণ। বরং বিএনপিই জনগণের কাছে যায় না, তারা অস্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে।

বিএনপি নেতাদের কাজ সকাল-বিকাল মিথ্যাচার করা। একজন নেতা সকাল ও বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যাচার করে। আর কিছু নেতারা বিভিন্ন কূটনৈতিকদের কাছে গিয়ে নালিশ করে।

দুষ্টু লোকে বিএনপিকে-বাংলাদেশ নালিশ পার্টি বলে। আমি আপনাদের বলবো, কূটনৈতিকদের কাছে নালিশ না করে জনগণের কাছে যান। অতীত কর্মকা-ের কারণে ক্ষমা চান। জনগণ চাইলে আপনাদের ক্ষমা করে দিতে পারে।

আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে হাছান বলেন, বিএনপি ভোট থেকে পালানোর জন্যই এখন নানা রকম কথাবার্তা বলছে, পালিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছে। দয়া করে ভোট থেকে পালাবেন না, এবার সংসদ নির্বাচন থেকে পালিয়ে গেলে আগামীতে দেশ থেকেও পালিয়ে যেতে হবে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.