সাংবাদিক তনয়া রাইফার মৃত্যুঃ  ম্যাক্সের লাইসেন্সও নাই

0

সিটি নিউজঃ  সাংবাদিক তনয়া রাইফা হত্যাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিএমএর কতিপয় নেতাদের বাড়াবাড়ি সীমা অতিক্রম করছে বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। কাল রাতে ম্যাক্স হাসপাতালে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে চট্গট্রাম বিএমএ ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বিএমএ নেতারা অযাচিত হস্থক্ষেপ করেন। এর প্রতিবাদে সাংবাদিক সমাজ বৈঠক থেকে বেরিয়ে রাজপথে নেমে এসে বিক্ষোভ করেন। সাথে যোগ দেন সাধারণ জনতা।

এদিকে নগরীর ম্যাক্স হাসপাতালের লাইসেন্স ত্রুটিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল-ক্লিনিক) প্রফেসর কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন। রবিবার সাংবাদিক রুবেল খানের কন্যা রাইফার মৃত্যুর কারণ তদন্তে এসে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

এসময় কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স নেই ম্যাক্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। তারা সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে সেবা দিচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ অবৈধ।

এর আগে রাইফার মৃত্যুর কারণ তদন্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গঠিত তিন সদস্যের টিম রবিবার বিকেলে চট্টগ্রাম আসে। রাত দশটার দিকে তদন্ত দল ম্যাক্স হাসপাতালে পৌঁছায়। এসময় তদন্ত কমিটির সদস্য, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সাংবাদিক নেতারা বৈঠকে বসেন।

কিন্তু বৈঠকের এক পর্যায়ে সাংবাদিক নেতারা কথা বলতে চাইলে বিএমএ নেতা ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী খান হস্তক্ষেপ করেন। এতে সাংবাদিক নেতারা ক্ষুব্ধ হয়ে বৈঠক বর্জন করেন। এরপর হাসপাতালে সামনে এক ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সাংবাদিকেরা। পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সাংবাদিকরা চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে পৌঁছান।

এরপর রাত বারোটার দিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত দল চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। এসময় তদন্ত দলের প্রধান কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, রাইফার মৃত্যুর তদন্তের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি টিম গঠন করে। সেখানে আমাকে প্রধান করা হয়েছে। আমরা এখানে এসেছি ভুক্তভোগী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিতে। এরপর তদন্ত রিপোর্ট জমা দিব।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ম্যাক্স হাসপাতালের লাইসেন্সে আমরা ত্রুটি পেয়েছি। তদন্ত রিপোর্টে আমরা বিষয়টি উল্লেখ করবো। এছাড়াও বিধি মোতাবেক ম্যাক্স হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোনো চিকিৎসক সেবা বন্ধের ঘোষণা দিতে পারে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, লাইসেন্সের কারণে কোনো চিকিৎসক নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া সেবা বন্ধের ঘোষণা দিতে পারে না। এটা সম্পূর্ণ আইনের পরিপন্থি।

সাংবাদিকদের ম্যাক্স হাসপাতাল বন্ধের দাবির প্রেক্ষিতে কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দিয়েছি। এখানে যেসব অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক গড়ে উঠেছে, সেগুলোর তালিকা দিতে। আমরা দ্রুত এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।

অন্য একটি সূত্র জানায়, ম্যাক্স হাসপাতালের কোনো লাইসেন্স নেই। সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্সে চলছে এটি। স্বাস্থ্য অধিদফতরের শর্তাবলির কিছুই পূরণ করা নেই। সিডিএ এর অনুমতি আবাসিক কাম বাণিজ্যিক ভবন হিসেবে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে অবৈধভাবে ম্যাক্স হাসপাতাল চলছে। আর চট্টগ্রাম বিএমএর কতিপয় নেতারা এই ম্যাক্সের পরিচালক।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে ম্যাক্স হাসপাতালে সমকালের স্টাফ রিপোর্টার রুবেল খানের কন্যা রাইফা খানের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ উঠে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.