সিটি নিউজ ডেস্ক :: নগরে কোরবানি পশুর চামড়া বেচাকেনা শুরু হয়েছে। পাড়া, মহল্লার অলি-গলি, সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়ার পসরা সাজিয়ে বসেছেন।
চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মুসলেম উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামে ৫ লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বুধবার (২২ আগস্ট) আড়াই লাখ চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব চামড়া বিক্রি হওয়ার পর গ্রাম থেকে বাকি আড়াই লাখ চামড়া নগরে আনা হবে। যেগুলো গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ২২ ট্যানারির মধ্যে ২০ টি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চামড়া শিল্পের প্রায় পুরোটাই ঢাকা কেন্দ্রিক হয়ে গেছে। তাই ৫ লাখ চামড়া একসঙ্গে নগরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নগরের ভেতরে সংগ্রহ করা আড়াই লাখ চামড়া আড়তে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে। এগুলো সম্পূর্ণ বিক্রি হওয়ার পর গ্রাম থাকা বাকি আড়াই লাখ চামড়া আড়তে আনা হবে।
কাঁচা চামড়া আড়তদাররা জানান, এবারে গরুর প্রতিটি ভালো চামড়া ৭৫০ টাকা দরে ও নিম্ন পর্যায়ের চামড়া ৫০০ টাকা দরে সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া ছাগলের চামড়া ৪০-৫০ টাকা দরে সংগ্রহ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ঈদুল আজহার প্রথম দিনেই সংগ্রহ করা আড়াই লাখ চামড়ার দাম ১০ কোটি ৫০ লাখ। ৫ লাখ সংগ্রহ করার পর কারবার হবে প্রায় ২১ কোটি টাকার।
তবে চামড়া ব্যবসায়ীরা লাভবান তখনই হবেন যখন ঢাকার ব্যবসায়ীরা এসব চামড়া ৪০-৫০ টাকা বাড়িয়ে কিনবেন।
মুসলেম উদ্দিন বলেন, ঢাকার ব্যবসায়ীরা ৪০-৫০ টাকা বেশি দিয়ে কিনলে চট্টগ্রামের চামড়া ব্যবসায়ীরা লাভবান হবে।
জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কোরবানির পশুর চামড়ার দর নির্ধারণ সংক্রান্ত এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পবিত্র ঈদুল আযহায় কোরবানি পশুর চামড়া সংগ্রহের জন্য দাম নির্ধারণ করা হয়। এবার প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া দাম (ঢাকায়) ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। খাসি ১৮ থেকে ২০ টাকা, বকরি ১৩ থেকে ১৫ টাকা। অথচ গত বছর ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। আর খাসি ও ভেড়ার ক্ষেত্রে দেশের সর্বত্র প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম ছিল ২০ থেকে ২২ টাকা। আর বকরির চামড়ার দাম ১৫ থেকে ১৭ টাকা।
দরপতনের প্রভাব পড়ায় চট্টগ্রামের চামড়া বাজারে গতবারের চেয়ে এবার হতাশাজনক বাজার পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাজার পরিদর্শনে দেখা গেছে, ৬০/৭০ হাজার টাকা দামের গরুর চামড়া মৌসুমি ব্যবসায়ীরা কোরবানিদাতার কাছ থেকে কিনছেন সর্বোচ্চ ৩০০ টাকায়। এক লাখ ৩০ হাজার টাকা দামের গরুর চামড়া কেনা হচ্ছে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকায়। এই পর্যায়ে ব্যবসায়ীরা সরকারি নির্দেশ মোতাবেক বর্গফুট মেপে চামড়া কিনছেন না। তারা ঠিগায় চামড়া কিনে নিচ্ছেন। এক্ষেত্রে কোরবানিদাতাদের মধ্যেও অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে।
আতুরার ডিপো, মুরাদপুর, আগ্রাবাদ, চৌমুহনী, কোতোয়ালী মোড়, বহদ্দার হাট এলাকায় নগরের উল্লেখযোগ্য পাইকারী চামড়ার বাজার বসে। এসব বাজারে গিয়ে দেখা যায়, স্তুপ করে চামড়া সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু ক্রেতা তেমন দেখা যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা চিন্তিত মনে রয়েছেন। অন্যান্য বছর বাজারে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী এবং আড়তদারদের দৌঁড়ঝাঁপ লক্ষ্য করা গেলেও এবার তা আশাব্যঞ্জক নয়। কয়েকজন ঘুরাঘুরি করলেও তাদেরকে চামড়া নিয়ে বিক্রেতার চেয়ে মোবাইলে বেশি কথা বলতে দেখে গেছে।
এ ব্যাপারে আগ্রাবাদ মোড়ে চামড়া ব্যবসায়ী শফিউল আলমের সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান, দর পড়ে যাওয়ায় এ বছর বাজারের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। তাছাড়া পূর্বে চট্টগ্রামে ২২টি ট্যানারি ছিল। বন্ধ হতে হতে দুইবছর আগেও দুটির অস্তিত্ব টিকে ছিল। দুইবছর আগে দুইটির একটি বন্ধ হয়ে যায়। চামড়া বাণিজ্যে চট্টগ্রাম ট্যানারি শিল্পের আশা বলতে গেলে নেই। এখন ঢাকার ক্রেতাদের দিকে তাকিয়ে আছে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা।
