চট্টগ্রামে শেভরন ল্যাবে ভূল রিপোর্ট : রোগী বিভ্রান্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক,সিটি নিউজ: চট্টগ্রামে ল্যাবে রোগীর পরীক্ষার ভূল রিপোর্ট প্রকাশ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি । মেরুদণ্ডের ব্যথার জন্য ৮৫ বছরের বৃদ্ধ নাজির আহমেদের লাম্বো সাক্রাল স্পাইনের (মেরুদণ্ডের নিচের অংশ) এমআরআই করা হয়। কিন্তু ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মেরুদণ্ডের পরীক্ষা প্রতিবেদনের পরির্বতে এলো মস্তিস্কের ক্যান্সারের প্রতিবেদনের ভূল রিপোর্ট প্রদানে রোগীকে বিভ্রান্ত। বিস্ময়কর ঘটনাটি ঘটেছে নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার শেভরন ডায়গনস্টিক সেন্টারে।
মেরুদন্ডের ব্যাথার কারনে চিকিৎসকের পরামর্শে লাম্বো সাক্রাল স্পাইনের (মেরুদন্ডের নিচের অংশ) এমআরআই করা হলে শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাব এই রিপোর্ট প্রদান করে। এই ঘটনায় সমগ্র চট্টগ্রামে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
তার সন্তান শাহিদুল কাওসার সিটি নিউজকে জানান, কয়েকদিন আগে তার বাবা পড়ে গিয়ে মেরুদণ্ডের হাড়ে আঘাত পান। চট্টগ্রামের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা চলছিল। এরমধ্যে গত শনিবার ১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসকের পরামর্শে শেভরনে নিয়ে লাম্বার স্পাইনের এমআরআই করান। গত সোমবার রাতে শেভরণ থেকে রিপোর্ট দেয়া হয়। ওই রিপোর্ট মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসককে দেখালে তিনি বিস্মিত হন। স্পাইনের পরীক্ষায় কিভাবে মাথার রিপোর্ট আসল তা নিয়ে তিনি রীতিমতো অবাক হন। পরে শেভরনে গিয়ে যোগাযোগ করলে তারা সংশোধিত রিপোর্ট দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেভরনের জিএম পুলক পারিয়ালকে ফোন করলে তিনি সিটি নিউজকে বলেন, আপনাকে কিছুক্ষণ পরে ফোন দিবো। এ রিপোর্ট ছাপার আগ পর্যন্ত তিনি আর ফোন দেননি।
রিপোর্টের শেষাংশে ‘সিনিয়র রেজিস্টার ডা. ভিনয় ভি’ এর স্বাক্ষর রয়েছে। যেই স্বাক্ষরটি একটি স্ক্যানিং স্বাক্ষর। অর্থ্যাৎ কম্পিউটারে কপি পেস্ট করেই ওই স্বাক্ষরটি দেয়া হয়েছে। এছাড়া রিপোর্টের শেষাংশে ছোট করে লেখা হয়েছে রিপোর্টটি এনএইচ টেলিরেডিওলোজি থেকে জেনারেট করা হয়েছে।
চিকিৎসা খাত সংশ্লিষ্ট একাধিক উর্ধ্বতন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই ধরণের রিপোর্ট রোগী কিংবা তাদের স্বজনকে সরবরাহ করার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে (এক্ষেত্রে রেডিওলোজিস্ট) দেখিয়ে তার অনুমোদন ও স্বাক্ষর নিয়ে তারপর সরবরাহ করতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে হয়তো অনভিজ্ঞ ল্যাব টেকনিশিয়ান রিপোর্টটি প্রস্তুত করেছেন। ফলে লাম্বো সাক্রাল স্পাইনের এমআরআই করার পর মস্তিষ্কের ক্যান্সার ধরা পড়ার মতো ব্যাপার ঘটেছে।
বিষয়টি নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান বলেন, ‘এ ধরণের রিপোর্ট দেয়ার ক্ষেত্রে রেডিওলোজিস্ট দেখে দেয়ার কথা। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে আমরা বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নিবো।’
