স্মার্টফোন ফ্যাক্টরি করবে ওয়ালটন

0

তথ্যপ্রযুক্তি : ২০১৬ সালের মাঝামাঝিতে স্মার্টফোন তৈরি হবে বাংলাদেশে। দেশে স্মার্টফোন তৈরির ফ্যাক্টরি করবে দেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস ও অটোমোবাইল পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে বাংলাদেশ বিজনেস অ্যাওয়ার্ড-২০১৪ প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন ওয়ালটন গ্রুপের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণকারী গ্রুপটির পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম।

অনুষ্ঠানে বেস্ট এন্টারপ্রাইজ অ্যাওয়ার্ড-২০১৪ পায় ওয়ালটন গ্রুপ। পুরস্কারপ্রাপ্তির পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, ওয়ালটন একাধারে পণ্য উৎপাদন এবং বিপণনে সম্পৃক্ত। ওয়ালটনের উভয় চ্যানেলেই দক্ষ এবং বিশেষায়িত জনবল কাজ করছে। আবার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অদক্ষ এবং অর্ধদক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নও চলমান। ওয়ালটনের বিভিন্ন সেক্টরে বিপুলসংখ্যক লোকবল নিয়োজিত আছে। সেইসঙ্গে নতুন নতুন প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদন, বাজারজাত এবং সার্ভিস নেটওয়ার্কে প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছেন অনেকেই, যা দেশের বেকার সমস্যা সমাধান এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে অবদান রাখছে।

ওয়ালটন নিয়ে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানতে চাইলে এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, সব ঠিক থাকলে আগামী বছরের মাঝামাঝিতে দেশে স্মার্টফোন তৈরির ফ্যাক্টরি করবে ওয়ালটন। এ ছাড়া মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন এবং ফ্রিজের কম্প্রেসার তৈরির ফ্যাক্টরিও তৈরি করবে। ফলে আগামী বছরের মধ্যেই দেশে তৈরি ইঞ্জিন নিয়ে চলবে ওয়ালটনের মোটরসাইকেল। ওয়ালটনের তৈরি ইঞ্জিন এবং কম্প্রেসার দেশের অন্যান্য উৎপাদন ও সংযোজনকারীরাও ব্যবহার করতে পারবেন। এমনকি রফতানিও সম্ভব।

ওয়ালটন সূত্রে জানা গেছে, দেশে এখন মোটরসাইকেলের চাহিদা বার্ষিক তিন লাখ। এর মধ্যে ওয়ালটনের উৎপাদন ক্ষমতাও চাহিদার সমপরিমাণ। ওয়ালটন নিজস্ব কারখানায় মোটরসাইকেল উৎপাদন করলেও ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ আমদানি করা হয় বাইরে থেকে। যদিও সেসব যন্ত্রাংশ বাংলাদেশের আবহাওয়া এবং অবকাঠামো উপযোগী করে নেয় ওয়ালটন। কিন্তু আরো বেশি জ্বালানিসাশ্রয়ী, টেকসই এবং বাংলাদেশের উপযোগী করে বিশ্বের সর্বশেষ প্রযুক্তি দিয়ে ইঞ্জিন তৈরি করতে চায় দেশীয় এই কোম্পানিটি। এতে একদিকে ওয়ালটন মোটরসাইকেল হবে অতি উচ্চমানের, অন্যদিকে দামও কমে আসবে।

জানা গেছে, ইতিমধ্যে ইঞ্জিন এবং কম্প্রেসার তৈরির জন্য ওয়ালটনের গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রকৌশলীরা কাজ শুরু করেছেন। নেওয়া হচ্ছে উপযুক্ত এবং দক্ষ লোকবল। অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রায় শেষ পর্যায়ে। গাজীপুরের চন্দ্রায় হচ্ছে নতুন এই ফ্যাক্টরি। এরই মধ্যে দুটি বহুজাতিক কোম্পানি ফ্রিজ ও এসির কম্প্রেসার ফ্যাক্টরির জন্য জয়েন ভেঞ্চারের প্রস্তাব দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ প্রস্তাবের সম্ভাব্যতা যাচাই করে দেখছে।

কম্প্রেসার কারখানায় প্রাথমিকভাবে বছরে ১০ লাখ কম্প্রেসার তৈরি হবে, যা দেশের চাহিদা মেটাবে। পরে রফতানির জন্য উৎপাদন বাড়ানো হবে। ওয়ালটন মোটরবাইকের ইঞ্জিন এবং কম্প্রেসারের এই ফ্যাক্টরি করা হচ্ছে মূলত উন্নত বিশ্বের বাজারে প্রতিযোগিতার জন্য। কারণ, ওয়ালটন পণ্য এখন ১৯টি দেশে রফতানি হচ্ছে। বিশ্বের সেরা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিই উদ্যোক্তাদের প্রধান লক্ষ্য।

কর্তৃপক্ষ জানায়, ওয়ালটনের ইঞ্জিন হবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর। প্রতিটি মোটরসাইকেলের দামও কমে আসবে অন্তত ১০০ ডলার। ফ্রিজের দামও কমে যাবে প্রতিটিতে অন্তত ১০ ডলার। এ প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের দিক থেকে বাংলাদেশ পৃথিবীর শীর্ষ ২০টি দেশের মধ্যে জায়গা করে নেবে। পর্যায়ক্রমে এসির কম্প্রেসার এবং মোবাইল ফোনসেট তৈরির দিকে যাবে ওয়ালটন। একই সঙ্গে কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ আইসিটি (ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি)ও অন্যান্য মেশিনারিজ প্রস্তুতের দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস ও অটোমোবাইল পণ্য উৎপাদনকারী এই প্রতিষ্ঠানের।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.