সিটি নিউজ ডেস্কঃ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে, তারা যতই ষড়যন্ত্র করুক, বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে যাবে না।
আজ বুধবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুর ১টায় কুমিল্লার চান্দিনায় রেদোয়ান আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ সরকার মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। ভুয়া নির্বাচন কমিশন ও সরকার মিলে দেশকে জবাই করেছে। আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্রকারী দল। তারা নানা কৌশলে বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু যতই ষড়যন্ত্র করুক, বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে যাবে না।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাকি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বাস করবো। এই নির্বাচন নির্ধারণ করবে আমরা আমাদের স্বকীয়তা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবো কিনা।
মির্জা ফখরুল তার বক্তৃতায় বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে ভুয়া আখ্যায়িত করে বলেন, এ সরকারও ভুয়া এবং এ নির্বাচন কমিশনও ভুয়া। একজন নির্বাচন কমিশনার বলছেন- লেভেল প্লেইং ফিল্ড নেই, আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলছেন তার কথা সঠিক নয়। তাদের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যায় না।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছে এ সরকার। তারা জোর করে ক্ষমতায় ঠিকে আছে। নির্বাচনের সময় রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা অনৈতিক। সব রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করেছে। দেশবাসী এদের সব ষড়যন্ত্র জনগণ রুখে দেবে।
বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আপসহীন ও জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে জালিম সরকার আটকে রেখেছে। তিনি গণতন্ত্রের জন্য সব অন্যায় মাথা পেতে নিয়েছেন। গণতন্ত্র ও দেশবাসীর জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন।
লাঠি আর মামলা করে জনগণকে ঠেকানো যাবে না দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ দেউলিয়া হয়ে গেছে। তারা নির্বাচনকে ভয় পায়। অপনারা খালেদা জিয়ার মনোনীত প্রার্থী রেদওয়ান আহমদকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। এ নির্বাচন প্রহসনের নির্বাচন বানাতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। জনগণকে বোকা ভাববেন না। জনগণের ঐক্যে সবকিছু ছারখার হয়ে যাবে। জনগণের কাছে কোনো চক্রান্তই কাজ হবে না। ৩০ ডিসেম্বর সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে।
তিনি বলেন, এখন টাকা আর আওয়ামী লীগ ছাড়া চাকরি পায় না। আমরা ক্ষমতায় গেলে চাকরি পাওয়ার আগ পর্যন্ত বেকার ভাতা চালু করবো। বিনা পয়সায় নাগরিকদের চিকিৎসা দেওয়া হবে। ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করবো। দাড়ি-টুপি পরলেই নাকি জঙ্গি, এটা তার ধর্মীয় বৈশিষ্ট্য। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।
জনসভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তফা খান সফরী ও মো. সালাহ্উদ্দিন ভুইয়া শিশির, চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সভাপতি কাজী সাখাওয়াত হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপি ও এলডিপির নেতৃবৃন্দ।
