গোলাম সরওয়ার,সিটি নিউজ : ঈদ ছুটিতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করে নিতে সবাই ছুটছেন বাড়ির পানে। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম শহর ছেড়েছেন অধিকাংশ মানুষ।
ট্রেন ও বাস স্টেশনে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। সবার মাঝে বাড়ির ফেরার টান। কেউ সিটে বসে, কেউ দাঁড়িয়ে- যে যেভাবে পারছে ছুটছে বাড়ির পানে। ঈদ যাত্রায় গতকাল ট্রেন ও বাস স্টেশনে জনস্রোত ছিল সবচেয়ে বেশি। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে অন্যান্য দিনের তুলনায় গতকাল সোমবার সবচেয়ে বেশি মানুষ নগরী ছেড়েছেন।
এবারের ঈদযাত্রায় বাসে ভ্রমণ হয়ে ওঠে তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক। অপরদিকে ট্রেনে আসন পেতে হুড়োহুড়ির কারণে কিছুটা দুর্ভোগ হয়েছে। সিলেটগামী উদয়ন এক্সপ্রেস, চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস, ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস-এর শিডিউল বিপর্যয়ের কারণেও ট্রেন যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে লোকজন নগরী ছাড়তে শুরু করে ৩১ মে থেকে। গতকাল সরকারি খোলার দিন থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ কেউ অফিসে হাজিরা দিয়েই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
সোমবার ৩মে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে ছিল ঘরমুখো মানুষের স্রোত। এত ভিড়, তবুও কারো চোখে মুখে কোনো বিরক্তির ছাপ নেই। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি ট্রেনে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না।
চট্টগ্রাম স্টেশন মাস্টার মো. নাজিম উদ্দিন জানান, সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিল ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস, চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস ও চাঁদপুর স্পেশাল, সিলেটগামী উদয়ন এক্সপ্রেসে। অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে এই চারটি ট্রেন ছাড়তে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে একটু দেরি হয়েছে। অন্যান্য ট্রেনেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। তিনি বলেন, সকাল থেকেই চট্টগ্রাম রেল স্টেশন ছিল লোকে লোকারণ্য। রাতের তূর্ণা ছাড়া পর্যন্ত মানুষের ভিড় লেগে ছিল। জানা গেছে, সিলেটের উদয়ন এক্সপ্রেস ৯টা ৪৫ মিনেটে চট্টগ্রাম স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সেটি ছেড়ে গেছে সাড়ের ১১টার পরে।
বিকাল ৩ টায় চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে শুধু মানুষ আর মানুষ। ট্রেনে উঠতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। সিটের বাইরেও দাঁড়িয়ে অনেকে নিজ নিজ গন্তব্যে যাচ্ছেন। অনেককে বগিতে জায়গা না পেয়ে ট্রেনের ছাদে করে যেতে দেখা গেছে। একপর্যায়ে দেখা যায় ছাদেও ঠাঁই নেই!
এদিকে বিকাল সাড়ে ৫টায় কদমতলী বাস স্টেশনে গিয়েও একই চিত্র দেখা গেছে। ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিন চট্টগ্রাম থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় ১ হাজারের মতো বাসে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে বলে জানান আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির মহাসচিব আলহাজ্ব মোঃ কফিল উদ্দিন আহমদ।
