আগের মতো পিছিয়ে নেই,পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বেড়েছে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
গোলাম সরওয়ার, সিটি নিউজ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, বরগুনায় প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যায় গ্রেপ্তার চলছে, তদন্ত চলছে সবাইকে গ্রেফতার করা হবে। আমাদের পুলিশের দক্ষতা, সক্ষমতা বেড়েছে। আগের মতো পিছিয়ে পড়া পুলিশ আমাদের নেই।
বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) বিকেল তিনটায় নগরের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের (বিপিডব্লিউএন) অ্যাওয়ার্ড প্রদান- ২০১৯ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব বলেন।
আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন,২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন-তিনি যদি ক্ষমতায় আসেন তাহলে দেশকে বদলে দেবেন। তিনি ঠিকই বাংলাদেশকে বদলে দিয়েছেন। একটি সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ ও মধ্যম আয়ের বাংলাদেশে আমরা পৌঁছে গেছি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে। এখন তার টার্গেট দেশকে উন্নত দেশে নিয়ে যাওয়া। এ জন্য তিনি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন ২০৪১ সাল।
তিনি আরো বলেন, বৃষ্টি ও রোদের মধ্যেও পুলিশের নারী সদস্যরা সড়কে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো অবহেলা করেন না। বিশেষ করে পুলিশের সাইবার ইউনিটে তারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন দেশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত ১০ পুলিশ সদস্য। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছেন।
অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ বাহিনীতে নারীর সংখ্যা আরো বাড়ানোর ঘোষণাও দিয়েছেন। এতে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ বাহিনীতে নারী ও পুরুষ সদস্য সংখ্যায় ‘গ্যাপ’ থাকার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পুলিশ বাহিনীতে ১০ শতাংশ নারী সদস্যের কথা বলছি। সেটা কিন্তু এখনও হয়নি। পুলিশে এখন নারীর সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। আর মোট পুলিশ সদস্য আছেন দুই লাখের মতো। এ জায়গায় নারীরা পিছিয়ে আছে।’
পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নারী পুলিশের দক্ষতা নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো সংশয় নেই। টেকসই উন্নয়নের জন্য টেকসই শান্তি দরকার। টেকসই শান্তির জন্য টেকসই নিরাপত্তা ব্যবস্থা দরকার। নারী পুলিশ, পুরুষ পুলিশ একসঙ্গে কাজ করলে আমরা টেকসই নিরাপত্তা পাব।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নারী পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মতো চ্যালেঞ্জিং পেশায় দক্ষতার সঙ্গে নারীরা কাজ করছেন। কয়েকটি জেলায় নারী এসপি আছেন, তারাও অনেক দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। নারী সার্জেন্টরা রোদ-বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে কাজ করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নারীরা পিছিয়ে নেই।’
মাদক প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এটি অবশ্যই আমরা করব। আমাদের যুব সমাজ, যারা ভবিষ্যতে এই দেশের নেতৃত্ব দেবে, তাদের বাঁচাতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমাদের ফেল করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা অবশ্যই দেশকে মাদকমুক্ত করব।’
একই অনুষ্ঠানে মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘উন্নয়ন টেকসই হবে না যদি নারীরা এগিয়ে না যায়। উন্নয়নের সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা আমাদের বড়ো চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নারীদের এগিয়ে নিতে হবে। বিপুল সংখ্যক নারী জনবল নিয়োগ করে পুলিশের তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীতে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নারী সদস্য থাকা এখন জাতীয় প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।’
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি)কমিশনার মো. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়শা খান, পুলিশ নারী কল্যাণ (পুনাক) সমিতির সভাপতি হাবিবা জাবেদ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্ডকার গোলাম ফারুক ও নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ অভিযান) আমেনা বেগম।

যারা পুরস্কার পেলেন
অতিরিক্ত ডিআইজি ও র্যাব-৮ এর অধিনায়ক আতিকা ইসলাম, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শম্পা রাণী সাহা, পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (হেলথ অ্যান্ড এডুকেশন) তাপতুন নাসরীন, পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মাফুজা বেগম, পিবিআই’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা, কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মাহফুজা লিজা, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাহমিদা হক শেলী, চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন এবং বরগুনা জেলার নারী সহায়তা কেন্দ্র জাগরণীতে দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) জান্নাতুল ফেরদৌস এবং পুলিশের জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কর্মরত কনস্টেবল নুসরাত জাহান।
