সিটি নিউজ ডেস্কঃ হাইকোর্ট ডিআইজি মিজানকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় পুলিশের বিতর্কিত ও সাময়িক বরখাস্ত ডিআইজি মিজানুর রহমানের আগাম জামিন আবেদন খারিজ করে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আজ সোমবার (১ জুলাই) বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
এ সময় মামলার আরেক আসামি ডিআইজি মিজানের ভাগ্নে পুলিশের এসআই মাহমুদুল হাসানকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্ম সমর্পণ করারও নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
শুনানিতে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেন, ডিআইজি মিজান পুলিশের ভাবমূর্তি পুরোপুরি নষ্ট করেছে। আমরা টিভিতে দেখেছি, (দুদকের একজন পরিচালককে) ঘুষ দেওয়ার ব্যাপারে সে ডেসপারেট বক্তব্য দিয়েছে।
এর আগে গতকাল রবিবার আইনজীবীর মাধ্যমে হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন ডিআইজি মিজান। গত ২৫ জুন রাতে পুলিশের এই ডিআইজিকে বরখাস্ত করে পুলিশ অধিদফতরে সংযুক্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে আদেশ জারি করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন ডিআইজি মিজানুর রহমানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার অপর তিন আসামি হলেন- মিজানের স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না ওরফে রত্না রহমান, ভাই মাহবুবুর রহমান ও ভাগ্নে পুলিশের এসআই মাহমুদুল হাসান।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তিন কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তিন কোটি ৭ লাখ ৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়।
২০০৪ সালের দুদক আইনের ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং আইনের ৪(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলাটি দুদকের ঢাকা জেলা সমন্বিত কার্যালয়ে করা হয়। দুদক পরিচালক মনজুর মোরশেদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার পর দুদক টিমের পক্ষ থেকে ডিআইজি মিজানসহ চার আসামির বিদেশ গমনের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করা হয়। এর পরপরই তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
এরপর অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে থাকা এক দুদক কর্মকর্তাকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার কথা নিজেই ফাঁস করে দিয়ে সম্প্রতি নতুন করে আলোচনায় আসেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এর আগে এক নারীকে জোর করে বিয়ের পর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠায় গত বছরের জানুয়ারিতে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ডিআইজি মিজানুর রহমানকে।
