চট্টগ্রামে গৃহকর্মীর উপর অমানুষিক নির্যাতন-আইনজীবি শ্যামলী গ্রেফতার
সিটি নিউজঃ চট্টগ্রাম মহানগরের হামজারবাগ এলাকায় বাসায় আটকে রেখে ১০ বছরের শিশুকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগে শ্যামলী ভট্টাচার্য্য শিমু নামে এক নারী আইনজীবিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নির্যাতনের শিকার ১০ বছরের শিশু রিয়াদকে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
রবিবার (২৮ জুলাই) রাতে নগরীর পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ জেকে টাওয়ারে বাসা থেকে এই নারী আইনজীবিকে পুলিশ গ্রেফতার করে।
এদিকে গ্রেফতারকৃত আইনজীবি শ্যামলীকে পুলিশ আজ সোমবার (২৯ জুলাই) দুপুরে আদালতে হাজির করলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-২ আবু সালেম নোমানের আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেছেন।
আদালতে দায়িতে থাকা এসি প্রসিকিউশন মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন জামিন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মহিলা আইনজীবি শ্যামলী ৮ মাসের অন্তঃসত্তা হওয়ায় আদালত চট্টগ্রাম আইনজীবি সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জিম্মায় তার জামিন মঞ্জুর করেছেন।
এদিকে স্থানীয়রা জানায়, হামজারবাগে একটি ভবনে গৃহকর্তী মহিলার নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন শিশু গৃহকর্মী রিয়াদ (১০)। তার সারা শরীরজুড়ে গরম খঞ্চি দিয়ে চ্যাকা ও কামড় আর মারধরের দাগ রয়েছে।
ওই ভবনের একজন বাসিন্দা জানান, শিশুটিকে ২ মাস আড়াই মাস বাসায় আটকে রেখে অমানুষিকভাবে নির্যাতন চালাতো গৃহকর্মী শ্যামলী। তিনি একজন উৎশৃঙ্খল নারী। তার স্বামী আদনান মুসলিম হলেও এই মহিলা হিন্দু। সকালে স্বামী স্ত্রী দুজন শিশু আদনানকে বাসায় বন্দি করে বাইরে তালা মেরে চলে যায়। রাতে এসে তার উপর নির্যাতন চালাতো। অন্য একটি সূত্র জনায়, শ্যামলী ভট্টাচার্য্য কনভার্টেট।
গতকাল দুপুরে ছেলেটি নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ভবনের ৬ তলা থেকে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলে ভবনের দারোয়ানের সহায়তায় এলাকার লোকজন তাকে উদ্ধার করে পুলিশের খবর দেয়। এই ঘটনায় গৃহকত্রী অ্যাডভোকেট শ্যামলী ভট্টাচার্য্যকে রাতে পুলিশ গ্রেফতার করেন।
আট বছরের শিশু রিয়াদ। তার গ্রামের বাড়ি বাঁশখালী। গৃহকর্মী হিসেবে তিন মাস আগে যোগ দিয়েছে হামজারবাগের এ বাসায়। নির্যাতন সইতে না পেরে বাসা থেকে ছয়তলার গ্রিল কেটে আটতলায় উঠে যায়। পরে ভবনের দারোয়ানের সহায়তায় স্থানীয়রা গতকাল রবিবার হামজারবাগের মোমিনবাগ আবাসিক এলাকার ১ নম্বর রোডের ঐ ভবন থেকে উদ্ধার করে তাকে।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূঁইয়া সিটি নিউজকে বলেন, বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। ছেলেটির শরীরে অসংখ্য আঘাতের দাগ রয়েছে। আমরা অভিযুক্ত মহিলাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। ছেলেটির পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে।
পাচঁলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরো বলেন,রিয়াদ নামে শিশুটিকে নির্যাতের পর এলাকার লোকজন থানায় নিয়ে আসে। এই শিশু বাদী হয়ে তার উপর নির্যাতনের মামলা করার পর আমরা গৃহকত্রী শ্যামলীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছি।
প্রত্যক্ষদর্শী সাইদুল ইসলাম বলেন, মোমিন টাওয়ারের ছয়তলার একটি ফ্ল্যাটের গ্রিল কেটে রিয়াদ নামের শিশুটি বিল্ডিংয়ের ছাদে উঠার চেষ্টা করছিল। আমরা ওই বিল্ডিংয়ের দারোয়ানের সহায়তায় ছেলেটিকে উদ্ধার করি। উদ্ধারের পর ছেলেটি আমাদের জানিয়েছে, তাকে মারধর করে প্রতিদিন বাসায় তালা দিয়ে রেখে যাওয়া হতো। তাই সে পালানোর জন্য গ্রিল কেটে ছাদে উঠার চেষ্টা করেছে। পরে আমরা পুলিশকে বিষয়টি জানাই। পুলিশ এসে ছেলেটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
রিয়াদকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা পাঁচলাইশ থানার এসআই সজীব বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মোমিনবাগ আবাসিক এলাকা থেকে রিয়াদ নামে এক শিশু গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। পরে তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই বাসায় তাকে মারধর করা হতো। তাই সে পালানোর চেষ্টা করেছে। ছেলেটির শরীরে মারধরের অসংখ্য দাগ আছে। তার উপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। যা ভাষায় প্রকাশ করাম মত না। পুরো শরীর দগদগে হয়ে গেছে। শরীরে হাতে কামড় এবং গরম লোহার খঞ্চি দিয়ে চ্যাকা দেয়া হয়েছে। আমি এই নারীর বিচার দাবী করছি।

ওর পেটে একটা সন্তান ও কিভাবে আরেক সন্তান কে মারতে পারলো। ওর মত কুকুরের জন্য ওর পেটের সন্তানটি আদালত ঘুরে গেলো এমনও হতে পারে এই ছেলে বড় হয়ে আবারো আদালত ঘুরে যাবে।
একদম ঠিক বলেছেন, পাপ বাপেরেও ছাড়ে না