দেবী বিসর্জনে শেষ হলো দুর্গোৎসব

0

সিটি নিউজ,চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে। বেলা একটার পর থেকে দেখতে দেখতে নানা বয়সী মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় সৈকত। সাগরের ঢেউয়ের গর্জন ছাপিয়ে ভক্তকণ্ঠের ‘জয় দুর্গা মায়ের জয়’ স্লোগানে চলছে প্রতিমা বিসর্জন।

ভক্তদের কারও চোখে জল ছলছল করছে। কেউ শেষবারের মতো প্রণাম করছেন। কেউ দুর্গামায়ের চরণে, হাতে গুঁজে দিচ্ছেন চিরকুট। কেউ আবার মহাযজ্ঞের ভিড় এড়িয়ে দূর থেকে এক মনে প্রার্থনা করছেন।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বিকেলের পতেঙ্গা সৈকতের দৃশ্যটা এমনই ছিলো। বেলা দুইটার পর থেকে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। ঠেলাগাড়ি, রিকশাভ্যান, ট্রাক, পিকআপে করে নগরের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিমার মিছিল আসতে থাকে পতেঙ্গা অভিমুখে।

সকাল থেকে নগরের মণ্ডপে মণ্ডপে বাজে বিদায়ী সুর। ষোড়শ উপাচারে দশমীর বিহিত পূজা, দর্পন বিসর্জন, শাস্ত্রীয় আচার, দেবীর চরণে অঞ্জলি নিবেদন, দেশ-জাতি, ব্যক্তিগত ও পরিবারের সুখ, শান্তি, মঙ্গল কামনায় ব্যস্ত ছিলেন পূজার্থীরা।

মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার বলেন, এবার নগরে ২৭০টি মণ্ডপে পূজা হয়েছে। এর মধ্যে পতেঙ্গা সৈকতে ১২০-১৩০টি প্রতিমা বিসর্জন হবে। এর বাইরে ফিরিঙ্গিবাজারের অভয়মিত্র ঘাটে, কাট্টলী সৈকতে, পাহাড়তলীর বিভিন্ন পুকুর-দীঘিতে, কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীতে প্রতিমা বিসর্জন হবে। রাতেও প্রতিমা বিসর্জনের সুবিধার্থে আলোকায়নসহ পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উৎপল বড়ুয়া জানান, প্রতিমা নিরঞ্জন নির্বিঘ্ন করতে একটি অস্থায়ী পুলিশ কনট্রোল রুম চালু করা হয়েছে সৈকতে। তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। র‌্যাবের টহল, নিয়মিত পুলিশ, নারী পুলিশ সদস্য, টুরিস্ট পুলিশসহ সাদা পোশাকে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের টিমসহ ডুবুরিরাও।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.