বিশ্বব্যাপী আতংকের নাম- করোনা এড়ানোর উপায় !

0

সিটি নিউজ ডেস্কঃ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী আতংকের নাম নভেল করোনা। প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মৃতের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আক্রান্ত হচ্ছে নতুন নতুন দেশ। ১১৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে এক লাখ ১৩ হাজারেরও বেশি মানুষ সংক্রামিত হয়েছেন। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন চার হাজার ২৭ জন।করোনাভাইরাসের এই সংক্রমণ নিয়ে আতঙ্কে ভুগছে গোটা বিশ্ব।

বাংলাদেশে তিনজন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর এখন দেশজুড়ে আতংকের একটি শীতল প্রবাহ বয়ে চলছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআর তথ্য অনুযায়ী করোনা আক্রান্ত নতুন কোনো রোগী পাওয়া গেলেও জনমনে শঙ্কা। যদিও গণমাধ্যমগুলোতে বার বার বলা হচ্ছে, করোনা থেকে সুরক্ষা পেতে প্রয়োজন সচেতনতা। তবু আতঙ্ক কাটছে না। ডালপালা মেলে ছড়িয়ে পড়ছে গুজব।

 

এ পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এর দেওয়া সংক্ষিপ্ত কিছু টিপস তুলে ধরা হলো।

করোনা কী এবং লক্ষণ

করোনাভাইরাস এমন একটি জুনেটিক রোগ, যার লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্লু, কাশি, সর্দি, গলাব্যথা, জ্বর, মাথাব্যথা, হাঁচি ও ক্লান্তি। গুরুতর ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো হলো–নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়া। করোনা আক্রান্ত হলেই যে মৃত্যু নিশ্চিত এ ধারণা ঠিক নয়। বরং সাধারণ চিকিৎসায় অনেক রোগী সুস্থ হয়েছেন। দ্রুততর গতিতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতাটাকে মূলত ভয়ংকর বলে মনে করছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা।

প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ নয়

জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোথাও ভ্রমণ এড়িয়ে চলুন। আর ফ্লুর মতো লক্ষণ দেখা দিলে (কাশি, জ্বর, সর্দি বা হাঁচির মতো সমস্যা থাকলে যতই প্রয়োজন পড়ুক যে কোনো ধরনের ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকুন।

জনবহুল এলাকা এড়িয়ে চলা

ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে জনবহুল এলাকা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। কারণ এমনও হতে পারে–কোনো ব্যক্তির মধ্যে করোনা ভাইরাসের কোনো লক্ষণ নেই, কিন্তু তিনি এই রোগের জীবাণু বহণকারী। কারণ ১৪ দিনের মধ্যে এ ভাইরাসের লক্ষণ প্রকাশ হয় না। তাই জনবহুল জায়গা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। কারণ এই জনবহুলতা থেকেই ভাইরাসটি আপনাকে সংক্রমিত করতে পারে।

যেকোনা শ্বাসকষ্ট হলেই পরীক্ষা

ফ্লুর লক্ষণ ও শ্বাস নিতে অসুবিধা হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের সাহায্য নিন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করোনা টেস্ট করান।

হাত পরিষ্কার বার বার

কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান এবং পানি বা অ্যালকোহলভিত্তিক হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে ঘন ঘন হাত ধুয়ে নিন। যে কোনো কিছু খাওয়ার আগে হাত ধুয়ে নেওয়া জরুরী।

পরিস্কার-পরিচ্ছনতা সর্বত্র

বাড়ির চারপাশ, টেবিল, টয়লেট, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, সুইচ এবং স্টেশনারি জিনিস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাতে হবে। এগুলো পরিস্কার করতে ক জীবাণুনাশক ব্যবহার করুন।

চোখ স্পর্শ করবেন না

সংক্রমিত ব্যক্তি মাস্ক ছাড়াই হাঁচি দেয় বা কাশি হয়, তখন প্যাথোজেনগুলো ফোঁটা আকারে বেরিয়ে আসে এবং চেয়ার বা টেবিলের মতো জিনিসগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। অন্য কোনো ব্যক্তি যখন সেই জিনিসগুলোকে স্পর্শ করেন এবং সেই হাত দিয়ে তার চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করেন, তখন রোগের জীবাণুগুলো দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এবং তাকে সংক্রামিত করে। প্যাথোজেন জিনিসগুলোতে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা বেঁচে থাকতে পারে।

মুখ ও নাক ঢেকে রাখুন আপনার যদি ফ্লুর মতো লক্ষণ থাকে ও কাশি বা ঘন ঘন হাঁচি হয়, তবে সর্বদা টিস্যু ব্যবহার করুন এবং ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গেই এটি ত্যাগ করুন। আর অ্যালকোহলভিত্তিক সাবান ও প্রবহমান পানিতে হাত ধুয়ে নিন।

দূরত্ব বজায় রাখুন

যাদের ফ্লু বা সর্দির লক্ষণ রয়েছে, তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন। কোনো ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার সময় ০.৫ মি থেকে ২ মি দূরত্ব বজায় রেখে কথা বলুন।

প্রবীণদের প্রতি দৃষ্টি দিন

বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে, যার কারণে বৃদ্ধ এবং পরিবারের অসুস্থ সদস্যদের বিশেষ যত্ন নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। কারণ করোনা ভাইরাসে প্রবীণরাই বেশি মারা যাচ্ছেন।

মাস্ক স্পর্শ করবেন না

আপনি যদি মুখ ও নাক ঢাকতে মাস্ক পরে থাকেন, তবে একবার এটি পরে যাওয়ার পর খালি হাতে এটিকে স্পর্শ করবেন না। মাস্কটি ব্যবহারের পর এটি নিরাপদে সরিয়ে ফেলুন। সঙ্গে সঙ্গে হাত ধুয়ে ফেলুন।

কাঁচা খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন

কাঁচা, কম সিদ্ধ বা আধাসিদ্ধ রান্না করা খাবার খাবেন না। সঠিকভাবে রান্না খাবার খাবেন। মাংসজাতীয় খাবার এড়ানো উচিত। কাঁচা মাংস বা মৃত প্রাণীর কোনো অংশ স্পর্শ করলে অবিলম্বে হাত ধুয়ে ফেলুন।

থুতু ফেলবেন না যেখানে-সেখানে

জনসাধারণের মাঝে, রাস্তাঘাটে যেখানে-সেখানে থুতু ফেলবেন না। এর মাধ্যমেও কেউ সংক্রামিত হতে পারে।

প্রাণীদের সংস্পর্শে যাবেন না

ঘরে বা বাইরে প্রাণীদের সংস্পর্শে যাবেন না। খামার বা পশুর বাজারে বা যেখানে পশু কাটা করা হয়, সেখানে যাওয়া এড়িয়ে চলুন। এ ছাড়া জীবিত প্রাণী যারা অসুস্থ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ এড়ান। আদর করা, গায়ে হাত দেয়া যাবে না। এমনকি পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকাও যাবে না। করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষা পেতে সচেতনতার বিকল্প নেই।

 

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.