চট্টগ্রামে সরকারি প্রতিষ্ঠান নিনমাস’র মনগড়া রিপোর্ট !
সিটি নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রামে অবস্থিত সরকারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন এন্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (নিনমাস) থেকে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর থাইরয়েড হরমোন টেস্ট করানোর পর অদ্ভুত ফলাফল পাওয়া গেছে।
চিকিৎসকের কাছে এই ফলাফল অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় পুনরায় বেসরকারি শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে একই পরীক্ষা করানো হয়। দুই পরীক্ষায় ফলাফলও এসেছে ভিন্ন।
জানা গেছে, গত ২২ জুন মিসেস সাইমা ইসলাম নামের এক রোগী ইন্সটিটিউট অভ নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস-এ এফটি৪ ও টিএসএইচ (থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন) পরীক্ষা করিয়ে ২ জুলাই রিপোর্ট পান।
ডা. নুর-ই আমরিন আলিম স্বাক্ষরিত রিপোর্টে টিএসএইচ এসটিমেটেড ভ্যালু ৫.৪৭৩ µIU/mL ও এফটি৪ ২৪.০৭ pmoI/L আসে।
এ রিপোর্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. শেখ আনোয়ারুল করিমকে দেখানো হলে তিনি তা অবিশ্বাস্য বলে দাবি করেন।
তার পরামর্শে পুনরায় শেভরনে পরীক্ষা করিয়ে ফলাফল টিএসএইচ এসটিমেটেড ভ্যালু ৩.৪৪৯ µIU/mL ও এফটি৪ ০.৯২০ ng/dL পাওয়া যায়। টিএসএইচ নরমাল রেঞ্জ থাকে ০.৩৫০-৫.০০ µIU/mL ও এফটি৪ থাকে ০.৬৫-২.৩ ng/dL.
ভুক্তভোগীর স্বামী নগরীর দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার সহ-সম্পাদক পদে কর্মরত শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “ইন্সটিটিউট অভ নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস-এ সাড়ে ১১শ’ টাকা ফি দিয়ে স্ত্রীর হরমোন টেস্ট করানোর পর তারা মনগড়া ফলাফল দেয়। এ রিপোর্ট দেখে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. শেখ আনোয়ারুল করিম সন্দেহ প্রকাশ করে পুনরায় পরীক্ষা করাতে বলেন। শেভরনে ৪ জুলাই এই পরীক্ষা করিয়ে ভিন্ন ফলাফল পেয়েছি। পূর্বের ফলাফল অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হলে গর্ভস্থ ভ্রুণের ক্ষতি হয়ে যেত বলেও জানান চিকিৎসক।”
তিনি বলেন, “সরকারি ল্যাবের অস্বাভাবিক রিপোর্ট পাওয়ার পর থেকে আমি, আমার স্ত্রীসহ পরিবারের সবাই বেশ চিন্তিত ছিলাম। আমার স্ত্রীকে প্রতি তিন মাস পর পরই থাইরয়েড ও হরমোন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে টেস্ট করিয়ে একই চিকিৎসককে দেখাচ্ছি এবং তার দেওয়া পরামর্শমতো চিকিৎসা চলছে।
সরকারি ল্যাবটিতে প্রতিবারই রক্ত নিতে গিয়ে আমার স্ত্রীকে একাধিক সুঁই ফোটানো হয় যা অস্বস্তিদায়ক ও কষ্টকর।”
সরকারি প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট যদি এমন হয় তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে বলে প্রশ্ন রাখেন তিনি।
এ ব্যাপারে সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পরিচালক বরাবরে অভিযোগ জানাতে বলেছেন সিভিল সার্জন।”
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, নারীদের থাইরয়েড হরমোনজনিত সমস্যা পুরুষদের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি। থাইরয়েড হরমোনের ওঠানামা নারীর সার্বিক ও প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তাই থাইরয়েডের সমস্যা নিরূপণ ও যথাযথ চিকিৎসা খুব জরুরি।
এ সমস্যার কারণে নারীদের মাসিকের জটিলতা, বন্ধ্যাত্ব, গর্ভপাত ও গর্ভকালীন নানা জটিলতা দেখা দেয়। অনেক সময় সমস্যাগুলো আগে থেকে বোঝা যায় না, কেবল প্রজননকালীন জটিলতার সময়ই ধরা পড়ে।
গর্ভধারণ পরিকল্পনাকারিণী থাইরয়েড হরমোনজনিত সমস্যায় আক্রান্ত কি না তা জানতে গর্ভধারণ পরিকল্পনার শুরুতেই স্ক্রিনিং টেস্ট করে নেওয়া ভালো। এতে হাইপোথাইরয়েডিজম ও হাইপারথাইরয়েডিজম শনাক্ত হলে গর্ভধারণের আগেই ওষুধ সেবন করে থাইরয়েড হরমোনের পরিমাণ স্বাভাবিক রাখতে হবে। হাইপোথাইরয়েডিজ়ম হলে রক্তে এফটি৪ কমে যায় এবং টিএসএইচ বেড়ে যায়। এর বিপরীত হয় হাইপারথাইরয়েডিজ়মের ক্ষেত্রে। এ ক্ষেত্রে ভুল রিপোর্ট অনুযায়ী চিকিৎসা প্রদান করা হলে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
চট্টগ্রাম ইন্সটিটিউট অভ নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস-এর পরিচালক ডা. আবু হায়াত মোহাম্মদ রকিবুল হক বলেন, “টিএসএইচ এবং এফটি৪ রিপোর্ট গুলোদে তেমন একটা ভুল আসে না। বিভিন্ন পদ্ধতিগত কারণে রিপোর্টে ভিন্নতা হতে পারে। আর যদি ভুলও হয় তাহলে বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করতে ভুল হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “গর্ভবতী নারীর প্রতিদিনই শারীরিক পরিবর্তন ঘটে। একটি টেস্ট করে কয়েকদিন পর আবারও পরীক্ষা করালে ফলাফলের তারতম্য হতে পারে। শুধু তাই নয় একই দিন দুইবার পরীক্ষা করালেও রিপোর্টে ভিন্নতা আসতে পারে।” এ সময় বিষয়গুলো নিয়ে সংবাদ পরিবেশন না করার অনুরোধ জানান তিনি।তথ্যসুত্র-অনলাইনডেস্ক
