চট্টগ্রামের বড় হুজুর ছিলেন বুজুর্গঃ রাজনীতিবিদরা খেলেছেন তাঁকে নিয়ে

0

জুবায়ের সিদ্দিকী, সিটি নিউজঃ চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় বিক্ষোভের জের ধরে মাদ্রাসার পরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পরপরই অসুস্থ হয়ে বেশ কয়েক ঘন্টা চিকিৎসাধীন থারার পর ঢাকায় মারা যান হেফাজত ইসলামের আমীর আহম্মদ শফি। আহম্মদ শফীকে বাংলাদেশ কওমী ধারার সংগঠন ও অনুসারীদের শীর্ষ নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যিনি ঢাকার শাপলা চত্বরের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছিলেন।

২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকা অবরোধ এবং রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র শাপলা চত্বরে তার হেফাজত ইসলামের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে ঘটনা প্রবাহ শুরু হয়েছিলো তা সারা দেশেই ছড়িয়ে দিয়েছিল চরম উদ্বেগ আর উৎকন্ঠা। কিন্তু সেই কর্মসূচীর আগেই এর উদ্যোক্তা আল্লামা আহম্মদ শফির নাম জানা হয়েগিয়েছিল প্রায় সবার।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুুনিয়ার পাখিয়ার টিলায় শাহ আহম্মদ শফীর জন্ম। যিনি পরিচিত হয়ে উঠেন মাওলানা আহম্মদ শফি নামে। শুধু ইসলামী জ্ঞান বা পান্ডিত্য নয়, বরাবর তাকে আলোচনায় এনেছে ব্লগারদের একটি অংশকে নাস্তিক আখ্যা দিয়ে কমমি মাদ্রাসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করে তাদের একক নেতায় পরিনত হওয়ার বিষয়টি। ঢাকার শাহবাগের আন্দোলন চলাকালে হেফাজত ইসলামের ব্যানারে নানা তৎপরতার পাশাপাশি চট্টগ্রামে তার মাদ্রাসায় গিয়ে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়মিত সাক্ষাতের ঘটনাও তাকে নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরী করেছিল।

শোলাকিয়ার ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ বলেছেন, আহমদ শফি’র ইসলামী জ্ঞান ও পান্ডিত্য নিয়ে তার কোন সংশয় নেই। তবে তাকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন একটি গোষ্ঠী এবং তারাই আহমদ শফির হয়ে তার বক্তব্য, বিবৃতি তৈরী ও প্রচার করতো।

তিনি আরো বলেছেন, উনার রাজনৈতিক কোন মূল্যায়ন হবেনা। মূল্যায়ন হবে ধর্মীয় তাত্বিক ও বুজর্গ হিসেবে। উনার নামে অন্যরা বক্তব্য দিয়েছে। সরাসরি উনি কোন উগ্র বক্তব্য দেননি।

আহমদ শফির সহযোগীদের অনেকের বিরুদ্ধেই উস্কানী মূলক বক্তব্য দেয়ার অভিযোগ উঠেছিল এবং তারা ব্লগারদের যে তালিকা তৈরী করে কর্তৃপক্ষকে দিয়েছিলেন সে তালিকার কয়েকজনকে পরে নির্মমভাবে হত্যাকান্ডের শিকার হতে হয়েছে। আবার নারীদের নিয়ে তার একটি বক্তব্যও সমালোচনার ঝড় তুলেছিলো। যদিও অভিযোগগুলো প্রত্যাখান করেছিলো হেফাজতে ইসলাম।

অভিজ্ঞমহল মনে করেন, আহমদ শফিকে রাজনীতিবিদরাই নিজস্ব স্বার্থে ব্যবহার করতে গিয়ে বড় শক্তিতে পরিনত করেছিলেন। এর প্রভাব পড়েছিল রাজনীতিতেও। রাজনীতিবিদরা মনে করেন, মাওলানা আহমদ শফি কি ইসলামী পন্ডিত হিসেবেই সমাদৃত থাকবেন নাকি হেফাজতে ইসলামের মাধ্যমে ধর্ম নিয়ে যে পরিস্থিতির সূচনা করেছেন তিনি একইভাবে একইসাথে সেটিতেও তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে তাঁর অনুসারীদের মধ্যে।

আল্লামা শফি দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। যাদের কাছে তিনি “বড় হুজুর’’ নামে পরিচিত। দেশের আলেমদের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র আল্লামা শফি বাংলায় ১৩টি এবং উর্দূতে ৯টি গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি দেশের কওমী মাদ্রাসাসমূহের সম্মিলিত শিক্ষা ব্যবস্থা আল-আইয়াতুল উলয়ালিন জামিয়াতুল কওমিয়া বাংলাদেশ ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক) এর সভাপতি পদে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আসীন ছিলেন।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.