চট্টগ্রামে অধ্যক্ষ গোপাল মুহুরী হত্যাঃ মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের দণ্ড হ্রাস
সিটি নিউজ ডেস্কঃ চট্টগ্রাম তথা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী চট্টগ্রামের অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত তিন আসামির সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন, তসলিম উদ্দীন ওরফে মন্টু, আজম ও আলমগীর কবির ওরফে বাইট্টা আলমগীর।
আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ইমান আলীর নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ ভার্চুয়াল কোর্টে এই রায় দেন। রায়ের বিষয়টি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাস গুপ্ত সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
এদিন আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন মোল্লা।
প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের ১ নভেম্বর চট্টগ্রামের জামালখান এলাকার বাসায় নাজিরহাট কলেজের অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে।এ মামলায় ২০০৮ সালের ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ একরামুল হক চৌধুরী চারজনকে ফাঁসি ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
উল্লেখ্য, গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী চট্টগ্রাম নগরীর নাজিরহাট কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি নাজিরহাট কলেজে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিলেন। ২০০১ সালের ১ নভেম্বর চট্টগ্রামের জামাল খান রোডে তাঁর বাড়ির ভিতরে ঢুকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। সকাল বেলা সংবাদপত্র পড়ার সময় একাধিক বন্দুকধারী মিলে বাড়িতে হামলা চালিয়ে গুলি করে হত্যা করে তাকে। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল ৬০ বছর।
তার পরিবার ১২ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলো। ২০০৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল চারজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত করে। ২০০৪ সালের ২৯ জুন “অপরাধীদের” সাথে বন্দুকযুদ্ধে একজন অভিযুক্ত মারা যান।
২০০৫ সালের ২ মার্চ অপর একজন আসামি আরেকজন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। অন্য দুই আসামি প্রফেসর জহিরুল হক ও অধ্যাপক তোফাজ্জল আহমাদও বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন মারা যান। ২০০৬ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ হাইকোর্ট নাসির ওরফে গিট্টু নাসির, আজম, আলমগীর কবির ওরফে বাইট্টা আলমগীর এবং তসলিম উদ্দিন মন্টুর মৃত্যুদণ্ড ও মহিউদ্দিন এবং হাবিব খানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন।রায় ঘোষণার সময় দুজনই পলাতক ছিলেন। রায়টিতে সাইফুল ইসলাম ওরফে ছোট সাইফুল ও শাহজাহান খালাস পেয়েছিলেন। আসামিদের মধ্যে আটজন ছিলো ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্য এবং অন্য তিনজন ছিলেন একই কলেজের অধ্যাপক।
