আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি ও প্রস্তুতি

0

জুবায়ের সিদ্দিকী, সিটি নিউজঃ সরকার বিরোধী নতুন একটি আন্দোলনের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে নুরের নেতৃত্বে ছাত্র অধিকার পরিষদ শাহবাগে অবস্থান কর্মসুচী গ্রহন করেছে। ৯ দফা দাবীতে ছাত্রদের পক্ষ থেকে এই কর্মসুচী গ্রহন করা হয়েছে।

এ ধরনের আন্দোলন কর্মসুচীর সঙ্গে বিএনপি ও বামমোর্চাসহ অন্যান্য সংগঠন যুক্ত হবে এমন রাজনৈতিক পুর্বাভাস পাওয়া গেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আন্দোলন মোকাবেলায় রাজনৈতিকভাবে কতটা প্রস্তুত? আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শক্তি কি এসব আন্দোলন মোকাবেলায় রাজনৈতিক প্রস্তুতি আছে? যদিও একটি রাজনৈতিক কর্মসুচীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আশঙ্কা থাকে।

জনগণের জানমালের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে তবে সেক্ষেত্রে সেটি প্রশাসনিকভাবে আহবান করা হয় আ্ইনপ্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে। কিন্তু যে কোন রাজনৈতিক সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো রাজনৈতিক আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা। সে ক্ষেত্রে কাজ হলো শক্তিশালী সংগঠনের সাংগঠনিক ক্ষমতা ও রাজপথে অবস্থান করা। কিছু বিষয়ে সাংগঠনিক ক্ষমতা আওয়ামী লীগের খুবই দুর্বল। সে সব হল যেমন, ঢাকা মহনাগর কমিটি হয়নি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দুর্বলতা ও নেতৃত্বদানকারী নেতার অভাব।

গত ১২ বছরে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকান্ড পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সব সময় বিরোধীদলের হরতাল, অবরোধ কর্মসুচীর সময় অবস্থান করেছে রাজপথে। সুবিন্যস্ত রাজনৈতিক শক্তি থাকার কারনে মহল্লায় পাড়ায় আওয়াামী লীগের অবস্থান ছিল সুন্দর দৃশ্যমান। এ কারনেই ২০১৪ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত বিএনপি-জামাত কোন আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি।

আওয়ামী লীগের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি, মনোবলের কারনেই আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে আন্দোলন মোকাবেলা করেছে। রাজপথে অতীতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অবস্থান হতে ঢাকায় মহানগরের ২টির কমিটি নেই। ঢাকায় যুবলীগের লোকবল ও কর্মী সমাবেশ করার মত ক্ষমতা ছিল ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের। যিনি এখন ক্যাসিনোর মামলায় কারাগারে রয়েছেন।

ঢাকায় কর্মীবান্ধব রাজপথের সাথী ছিলেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, নানকসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতা। তারাও নানা সমস্যায় রাজনীতি থেকে নিজেদের গুটিয়ে ফেলেছেন। এর ফলে আন্দোলনের শোডাউন করার যে সক্ষমতা ও শক্তি ছিল তা স্থিমিত হয়ে পড়েছে।

যুবলীগের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা ব্যবসা বাণিজ্য নিয়েই ব্যস্ত। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর টানা তিন মেয়াদে এসে রাজনীতি থেকে আখের গুছানোর কাজেই ছিলেন এবং আাছেন এমন নেতাদের সংখ্যাই বেশি। ছাত্রলীগ ইদানীং ধর্ষণ বিরোধী শোডাউন করলেও প্রানবন্ত হয়নি সাধারন ছাত্র/ছাত্রীদের কাছে।

এই চিত্র শুধু ঢাকার নয়, সারাদেশে। আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া নেতারা এখন ক্ষমতার হালুয়ারুটি ভক্ষনেই ব্যস্ত। অনেক জেলা পর্যায়ের নেতা বিদেশে বাড়ি ও অর্থ পাচার করেছেন। সংকটময় সময়ে দেশান্তরী হতে পাসপোর্ট নবায়ন করে কেউ ভিসাও নিয়ে রেখেছেন। যে কোন সময়ে যেন দেশত্যাগ করতে পারেন। এসব নেতাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা না নিলে দলীয় কার্যক্রমে ভাটা ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করবে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.