চট্টগ্রামে বিএনপি-জামায়াত শিবিরের জামিনপ্রাপ্তরা গোয়েন্দা নজরদারীতে

0

জুবায়ের সিদ্দিকী : বিএনপি জামায়াতের ও শিবিরের নাশকতা মামলায় জামিনে থাকা নেতাকর্মীদের পুলিশসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা নজরদারীতে রেখেছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে। সরকারের উচ্চ পর্য্যায়ের নির্দেশ এই ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা। যেন ফের কোন সহিংসতায় জড়িত হতে না পারে সেদিকে সর্তক থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে আবারও গ্রেফতারের নির্দেশনা ও দেওয়া হয়েছে।

২০১৩ সালের ৫ জানুয়ারী জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার যাবতজীবন কারাদন্ড দেওয়ার পর থেকে সারাদেশে সহিংসতা শুরু হলে চট্টগ্রামে ব্যপক সহিংসতা সৃষ্টি হয়। ২৮শে ফেব্রুয়ারী দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির আদেশ দেওয়ার পর সহিংসতায় হাজার হাজার গাড়ী ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালীতে বাড়ীঘরে অগ্নিসংযোগে’র ঘটনা ঘটে। এসব মামলায় একহাজার নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১১ হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। সীতাকুন্ড ও মিরসরাইতে ২ হাজারের বেশী গাড়ী ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এসব ঘটনায় তিনশত মামলা হয়েছে। বিভিন্ন ঘটনায় ও মামলায় দেড় হাজার নেতাকর্মী আটক হলেও একহাজার নেতাকর্মী এখন জামিনে আছেন।

জামিনে থাকা নের্তাকর্মীদের নজরদারীতে রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা কি করছেন? কোথায় যাচ্ছেন, কার সাথে যোগযোগ করছেন, নাশকতার পরিকল্পনা করছেন কিনা, এসব বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টি বা গোলযোগ বাঁধাতে না পারে সেদিকে পুলিশের পাশাপাশি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা নজরদারীতে রেখেছে জামিনে আসা নেতাকর্মী ছাড়াও বিএনপির মাঠ পর্য্যায়ের নেতাকর্মীদেরও নজরদারীতে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, সীতাকুন্ড ও মীরসরাইতে বিগতদিনে ব্যাপক সহিংসতায় বাড়ীঘর, ব্যবসা প্রতিষ্টান, শিক্ষা প্রতিষ্টান ও রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি অনেক আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বাড়ী লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে করে নিরহ অনেক মানুষও প্রাণহারায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ব্যাপকভাবে ধ্বংসযজ্ঞ করে অনেকে এলাকাছাড়া আবার অনেকে পুলিশের হাতে আটক হয়ে জেলহাজতে গেলেও পরবর্তীতে জামিনে চলে আসেন অনেক নেতাকর্মী। এসব নেতাকর্মীদের নিয়ে টেনশনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ বলছে, নাশকতা করে এখন পার পাবেনা, ধরা পড়তেই হবে। সকলের গতিবিধি কঠোর নজরদারীতে রাখা হয়েছে।

সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) বাবুল আকতার বলেন, যারা জামিনে আছে, তাদের ব্যপারে আমরা খোঁজখবর রাখছি। এদের যেন মামলায় চার্জশীট হয় সেদিকেও দৃষ্টি আছে। পুলিশ এদের ব্যপারে সতকর্তা অবলম্বন করছে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.