অর্থ ও বাণিজ্য : রিজার্ভ চুরির ঘটনায় তদন্ত কমিটির পুর্নাঙ্গ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকে জড়িতদের নাম। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের কেউ জড়িত নয় এমনটি বললেও সোমবার দেয়া চুড়ান্ত প্রতিবেদনে এ অবস্থান থেকে সরে এসেছে ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্তকারী কমিটি।
তদন্ত প্রতিবেদন ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, রিজার্ভ চুরির বিষয়ে ড. ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্তকারী দলের দেয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ছয়জনের নাম এসেছে। এরা হলেন, অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা, উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, জিএম আব্দুল্লাহ ছালেহীন, শেখ রিয়াজউদ্দিন ও রফিক আহমেদ মজুমদার, গভর্নর সচিবালয় বিভাগে কর্মরত মইনুল ইসলাম। এদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং অবহেলার কারণে সার্ভার হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেছে কিম্বা তারা হ্যাকারদের সহায়তা করেছেন এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। গভর্নর সচিবালয় বিভাগে কর্মরত মইনুল ইসলাম এবং অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের শেখ রিয়াজউদ্দিন তাদের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ‘কমপ্রোমাইজড’ হয়েছে কিম্বা ব্যবহার হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয় জুবায়ের বিন হুদা ও জি এম আব্দুল্লাহ ছালেহীনের ইউজার আইডির পাওয়ার্ড চুরি করে তা ব্যবহার করেছে হ্যাকাররা। এমন কি এরাই আগে জানতে পারে তাদের পাওয়ার্ড চুরি হয়েছে। কিন্তু তারা সেটা আমলে নেয়নি। এতে তারা দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করেছেন।
অর্থমন্ত্রণালয়ে চুড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন অর্থমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন ড. ফরাসউদ্দিন। এর পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে মনে হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এখন পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু কি ধরনের পরিবর্তন তা প্রতিবেদনের মধ্যে আছে। তিনি আরো বলেন, সুইফটেরও দায় দায়িত্ব আছে, সম্পূর্ণ দায় বা মূল দায় তাদের কি না, সেই বিশ্লেষণও প্রতিবেদনে আছে। তবে সুইফটের সাহায্য নিয়েই আমদের ভবিষ্যতের প্রবলেমটা সলভ করতে হবে। চুরি যাওয়া টাকার মধ্যে কতোটা আদায় করা সম্ভব- তার একটা চিত্রও প্রতিবেদনে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

Comments are closed.