অর্থ ও বাণিজ্য : ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশ গ্যাস আমদানির অনুরোধ জানালেও ভারত আপাতত দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশকে ভারত জানিয়েছে, দেশে গ্যাসের এমন প্রাচুর্য নেই যে এখনই তা অন্য কোনো দেশকে দেওয়া যেতে পারে। তবে বাংলাদেশের এই অনুরোধ না মানলেও তুর্কমেনিস্তান থেকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান হয়ে ভারতে যে গ্যাস পাইপলাইন আসার কথা, সেখানে বাংলাদেশকে যুক্ত হতে ভারতের আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের জ্বালানি সচিব নাজিমউদ্দিন চৌধুরী।
গত সোমবার দিল্লীতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জ্বালানিবিষয়ক প্রথম বৈঠকে (এনার্জি ডায়ালগ) ভারত বাংলাদেশকে গ্যাস না দেওয়ার সিদ্ধোন্তের কথা জানিয়ে দেয়। এই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন জ্বালানি সচিব নাজিমুদ্দিন চৌধুরী এবং ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস সচিব কে ডি ত্রিপাঠি। এ-সংক্রান্ত পরের বৈঠক আগামী জানুয়ারিতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় ফিরে বৃহস্পতিবার জ্বালানি সচিব নাজিমুদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, ভারত আপাতত বাংলাদেশকে ত্রিপুরা থেকে পাইপ-লাইনে গ্যাস রপ্তানি করবে না বলে জানিয়েছে।
কারণ মাত্র ৪ কিলোমিটার পাইপলাইন হলেই ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশ গ্যাস পেতে পারে। কিন্তু কে ডি ত্রিপাঠি বৈঠকে বলেন, এই মুহূর্তে ভারতে গ্যাসের প্রাচুর্য নেই। নিজেদের প্রয়োজনের তুলনায় জোগান কম। তাই এই অনুরোধ এখনই মানা সম্ভব নয়। তবে তুর্কমেনিস্তান থেকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান হয়ে ভারতে যে গ্যাস পাইপলাইন আসছে সেখানে বাংলাদেশ নিজেদের সংযুক্ত করলে ভারতের কোনো আপত্তি থাকবে না। প্রস্তাবিত ওই পাইপলাইন ভারতের যেখানে আসার কথা, তার ২০০ কিলোমিটারের মধ্যেই বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্তি ঘটানো যায়। এই আরজির পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় প্রতিনিধিরা বৈঠকে জানান, ওই পাইপলাইন স্থাপনের কাজ তুর্কমেনিস্তানে সবে শুরু হয়েছে। এখনো অনেক সময় বাকি। তবে বাংলাদেশের এই অনুরোধে ভারতের আপত্তির কোনো কারণ নেই, বরং সহায়তা করা হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি সচিব বলেন, বর্তমানে ত্রিপুরা থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। আগামী জানুয়ারির বৈঠকে আবারও গ্যাস আমদানির সুপারিশ করা হবে। তাতে ভারত সন্মত হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। তাছাড়া গ্যাস ও কয়লা খনি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৌশল বিষয়ে বাংলাদেশের জনবলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। এটি চলমান থাকবে বলে জানান তিনি।

Comments are closed.