চট্টগ্রামে নোমান শিবিরে হতাশা-ক্ষোভ

0

দিলীপ তালুকদারঃ নব গঠিত বিএনপির কিন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে পদবঞ্চিত নেতা কর্মীদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা,বাড়ছে ক্ষোভ-দুঃখ।বিশেষ করে চট্টগ্রামের নেতা কর্মীদের মধ্যে গভীর হতাশার পাশাপাশি দুঃখ-ক্ষোভ যে কোন সময় বিক্ষোভে রূপ নিতে পারে বলে আভাস পাওয় গেছে।তাদের মতে চট্টগ্রাম বিএনপির কান্ডারী ও জাতীয় রাজনীতির পরীক্ষিত নেতা আব্দুল্লা আল নোমানকে জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে পদ না দিয়ে তাকে অপমান করা হয়েছে।চট্টগ্রামের নেতারা মনে করেন সফলতার সাথে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী বিএনপি রাজনীতির ক্লিন ইমেজ রাজনীতিক ২য়টা পাওয়াও বর্তমানে দুস্কর।অনেক আনকোড়া ব্যক্তিকে উচ্চ পদে রাখনেও নোমানকে জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে না রেখে এক প্রকার তার সাথে তামাশা করা হয়েছে বলে মনে করেন।চট্টগ্রাম বিএনপির নেতা কর্মীরা বলেন নোমান ভাই “নেতাদের নেতা”।

আগের কমিটিতে তি্নি ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন।গত ১৯ মার্চ ঢাকার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনে ৬ষ্ট জাতীয় কাউন্সিলের পর থেকে অনেক জল্পনা কল্পনা ছিল আব্দুল্লাহ আল নোমান জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে পদ পাবেন এ প্রবীন নেতা।যার কারনে চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনীতিতে বড় ধরনের তোলপাড় শুরু হয়েছে।
এদিকে জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে চট্টগ্রাম থেকে স্থান পেয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌদুরী,ও সালাউদ্দিন আহমদ।তাদের তুলনায় জ্যেষ্ট নেতা নোমান বাদ পড়ায় দলের নেতা কর্মীরা ক্ষুব্ধ আরো বেশী।আর খসরু শিবিরে মিষ্টি বিতরন চল্লেও নোমান শিবিরে জ্বলছে তুসের আগুন।

নগর ছত্রদলের সাধারন সম্পাদক আহমেদুল আলম রাসেল বলেন,নোমান ভাই ত্যাগী নেতা,তিনি প্রায় ৩৭ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয়।রাজপথের আন্দোলনে পিছিয়ে যাননি কখনো।দলের জন্য জেল জুলুমও খেটেছেন।বিএনপির রাজনিতিতে তার মতো যোগ্য ও ত্যাগী নেতা পাওয়া দুস্কর।জাতীয় কমিটিতে তাকে অবমুল্যায়ন করা হযেছে। এটা জিয়া আদর্শের একজন সৈনিক হিসেবে মেনে নিতে পারি না।

নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন,চট্টগ্রামে যারা বিএনপির রাজনীতি করছেন তারা অনেকেই নোমান ভাইয়ের শিষ্য।তাকে জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে না রাখায় আমরা ক্ষু্ব্ধ-দুঃখিত।বিষয়টি আমরা ম্যডামকে জানাবো।

মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক এম এ সবুর বলেন,দলের বৃহত্তর স্বার্থে নোমান ভাইকে স্থায়ী কমিটিতে নেওয়া উচিৎ।যার সাথে মাঠে ময়দানে নেতা কর্মীদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ থাকে সেই ধরনের যোগ্য নেতাকে অবমূল্যায়ন করে আনকোরা লোকজনকে নিয়ে আসা হয়েছে।

এ ব্যাপারে আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন,দলের নেতা কর্মীদের প্রত্যাশা ছিল আমি স্থায়ী কমিটির সদস্য হব।প্রত্যশা অনুযায়ী পদ না পাওয়ায় তারা আশাহত হয়েছেন।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,এ পদটি তার প্রাপ্য ছিল,সবাই তাই মনে করেছিলেন,আমি নিজেও আশাবিদি ছিলাম।সেজন্য কিছুটা খারাপ লাগছে।

তবে একটি সুত্র জানায়,গত ১/১১ এর সময় তিনি দলের নেতা কর্মীদের পাশে না থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য দুবাইতে অবস্থান করছিলেন।সেটা দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতারা ম্যডামের কানে তুলেছেন,অনেকটা সেকারনেই তিনি বাদ পড়েছেন বলে অনেকেই মনে করেন।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.