আন্তর্জাতিক : মিয়ানমারে আং সান সুচির সরকার রোহিঙ্গা মুসলিমদের সঙ্গে যে আচরণ করছে তার তীব্র নিন্দা করেছে জাতিসংঘ। সেইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের উপর দমন-পীড়ন থামাতে শনিবার মিয়ানমারকে কঠোর বার্তা দিলো আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটি।
মিয়ানমারে প্রতিদিনিই সংখ্যালঘু রোহিংঙ্গাদের হত্যা, নির্যাতন এবং ধর্ষণের খবর পাওয়া যাচ্ছে বলে জানায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দফতর। খবর ডেইলি মেইল ও বিবিসি’র। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দফতরের প্রধান যাইদ রাদ আল হুসেইন বলেছেন, রাখাইন রাজ্যের সমস্যা মোকাবেলায় মিয়ানমারের সরকার যে নীতি নিয়েছে তাতে বরং উল্টো ফল হচ্ছে। মিয়ানমারের সরকার জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকদেরকেও রাখাইন রাজ্যে ঢুকতে দিচ্ছে না। সেখানকার পরিস্থিতির কোনো স্পষ্ট চিত্র জাতিসংঘের কাছেও নেই। এ অবস্থায় রাখাইন রাজ্যের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ব্যাপারে সবচেয়ে খারাপ আশংকাই করছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান হুসেইন আরো বলেছেন, যেভাবে মিয়ানমারের সরকার গুরুতর মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগকে বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিচ্ছে এবং সেখানে স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের প্রবেশ করতে দিচ্ছে না, তা ঘটনার শিকার রোহিঙ্গাদের জন্য খুবই অবমাননাকর।
মিয়ানমারের সরকার অবশ্য রাখাইন রাজ্যে কোনো ধরণের গণহত্যা চালানোর কথা বরাবরই অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রাসবাদ দমনেই সেনাবাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। এই অভিযানের মুখে ইতোমধ্যে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমরা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত এবং অবহেলিত জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মিয়ানমার সরকার তাদেরকে সেদেশের নাগরিক বলে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করছে।
এদিকে, শুক্রবার মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংঘি লি রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে রেঙ্গুন সফরে গেলে সেখানে তার গাড়ি বহরে হামলা করে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা।
