নিজস্ব প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ ১১ নং ওয়ার্ডে চন্দনাইশ উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু আহমদ জুনু ১শ ৮৫ ভোটের মধ্যে ১শ ৭৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার এ বিপুল ভোটে জয়ের নেপথ্যে যা রয়েছে।
বুধবার(২৮ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১৫টি সাধারণ ওয়ার্ডের মধ্যে মিরসরাই, আনোয়ারা ও রাঙ্গুনিয়াতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ৩ জন। একইভাবে সংরক্ষিত ২টি ওয়ার্ডেও ২ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ১৫টি সাধারণ ওয়ার্ডের মধ্যে ১২টিতে ভোটযুদ্ধে আ’লীগ আ’লীগের বিরুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। চন্দনাইশের ১টি পৌরসভা, ৯টি ইউনিয়ন ও পটিয়ার ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে সাধারণ ১১ নং ওয়ার্ড গঠন করা হয়।
নির্বাচন হওয়া ১২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১১ নং ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ তথা ১শ ৮৫ ভোটের মধ্যে ১শ ৭৮ ভোট পেয়ে বিজয় লাভ করেছেন চন্দনাইশ উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু আহমদ জুনু। এ ধরনের ভোটের ব্যবধান আর কোন আসনেই হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে চন্দনাইশ নয় পুরো চট্টগ্রামে। চন্দনাইশে আবু আহমদ জুনুর প্রাপ্ত ভোট নিয়ে খুবই খুশি নেতা-কর্মীরা। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা উপজেলা আ’লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক, স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নিকটতম আত্মীয় এড. সিহাব উদ্দিন রতন পেয়েছেন মাত্র ৪ ভোট। অপর প্রার্থী আবুল কালাম পেয়েছেন ৩ ভোট। ভোটারদের ক্যালকুলেশনে দুইজনের প্রস্তাব-সমর্থনকারী ছাড়া অপর দুই ও এক ভোট কে দিল বিশ্লেষণ চলছে ভোটারদের মাঝে।
আবু আহমদ জুনু এত ভোট পাওয়ার নেপথ্যে ছিল প্রত্যাহারের পূর্বের দিন স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে দক্ষিণ জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, পৌর মেয়র মাহবুবুল আলম খোকাসহ চার প্রার্থীকে নিয়ে বৈঠক বসে। বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে আবু আহমদ জুনুকে আনুষ্ঠানিকভাবে একক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। তাছাড়া তপশীল ঘোষণার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য দেশের বাইরে থাকাকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার চৌধুরী পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নের সকল প্রতিনিধিদের নিয়ে সভা করে সবার কাছ থেকে আবু আহমদের ব্যাপারে সমর্থন আদায় করে নেন।
একইভাবে নির্বাচন প্রচারণার শেষ দিন পুনরায় উপজেলা চেয়ারম্যান জনপ্রতিনিধিদের তার বাড়ীতে ডেকে এনে সমর্থন আদায় করে নেন। যেহেতু আবু আহমদ জুনু আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ন্যায্য অধিকার নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন। ফলে সকল জনপ্রতিনিধিরা তাকে অকপটে ভোট দিয়েছেন। তিনি ছাত্র জীবন থেকে সাংগঠনিকভাবে তৎপর এবং দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ ছিলেন।
তাছাড়া পুরো এলাকা জুড়ে তার একটি জনসমর্থন রয়েছে উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। তারপরও আবু আহমদ জুনু পুরো মাঠ চষে বেরিয়েছেন, নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন ভোটযুদ্ধে। প্রতিটি ভোটারের দ্বারে দ্বারে একাধিকবার গিয়ে বিনয়ের সহিত ভোট প্রার্থনা করেছেন। সুযোগ বুঝে অনেককে ওয়াদাও করিয়েছেন তার প্রতীক “তালা” মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য।
চন্দনাইশের বিভিন্ন এলাকায় এলডিপি ও বিএনপি সমর্থিত জনপ্রতিনিধিরা তাকে অকপটে ভোট দিয়েছেন। একইভাবে পটিয়ার ৪ ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরাও ভোট দিয়েছেন আবু আহমদ জুনুকে। ফলে আবু আহমদ জুনু তার অবস্থানে সুদৃঢ় থেকে উপজেলা আ’লীগের সুনাম অক্ষুন্ন রেখে মাত্র ৭ ভোটে হারিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন।
অপরদিকে এড. সিহাব উদ্দিন রতন উপজেলা আ’লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে কমিটিতে থাকলেও ২০১৪ সালে কমিটিতে আসার পর থেকে বিগত তিন বছরে আ’লীগের কোন সভা-সমাবেশ বা কার্যকরী পরিষদের সভায় উপস্থিত ছিলেন না বলে আ’লীগের নেতা-কর্মীদের দাবী। তাছাড়া তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও প্রচার-প্রচারণায় তেমন ছিলেন না। এমনকি ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনার জন্যও খুব একটা যাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধুমাত্র এসএমএস এবং ফেইসবুকের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন তিনি।
ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা না করায় এ ফলাফল এসেছে বলে মন্তব্য বিজ্ঞ রাজনৈতিক মহলের। তাছাড়া এড. সিহাব উদ্দিন রতন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মনছফ আলী মাষ্টারের ছেলে হলেও তাকে অনেকেই চিনেন না চন্দনাইশে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করলেও সাধারণ মানুষের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে না পারায় এ ভরাডুবি হয়েছে বলে মন্তব্য তাদের। অন্যান্য প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা সহ সবকিছুতে পিছিয়ে থাকা সহ যোগ্য প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন আবু আহমদ জুনু। উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার চৌধুরী এক্ষেত্রে মূখ্য ভূমিকা পালন করে এগিয়ে নিয়ে গেছেন আবু আহমদ জুনুকে।
ফলে আবু আহমদ জুনু নির্বাচিত হওয়ার পরপরই ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আবদুল জব্বার চৌধুরীকে তার বাড়ীতে এবং সেখানে দুপুরে অর্ধ সহস্রাধিক নেতা-কর্মীকে ভুরিভোজ করান তিনি। বিজ্ঞ মহলের মতে আগামী উপজেলা নির্বাচনে আ’লীগের প্রার্থীতা নিশ্চিত করতে তিনি আবু আহমদ জুনুকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়ী করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন।
