কর আদায়ের ক্ষেত্রে বন্ধুভাবাপন্ন আচরণ করতে হবে -গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী

0

সিটিনিউজবিডি  :    ভ্যাট কর্মকর্তাদের একই ব্যবসায়ীর কাছে বারবার না যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, দেশে মোট ব্যবসায়ীর সংখ্যা ৪ কোটি। কিন্তু আমরা ক’জনে ভ্যাট দিচ্ছি। যদি আমরা এক কোটি ব্যবসায়ীর ভ্যাট নিশ্চিত করতে পারি তাহলে রাজস্ব আয় ৪ লাখ কোটি টাকায় উন্নীত হবে। এক্ষেত্রে রাজস্ব আদায়কারী কর্মকর্তাদের কর আদায়ের ক্ষেত্রে বন্ধুভাবাপন্ন আচরণ করতে হবে। শুক্রবার নগরীর আগ্রাবাদ হোটেলে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতীয় মূসক (মূল্য সংযোজন কর) সপ্তাহ উপলক্ষে অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজন করদাতাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।

কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার সৈয়দ গোলাম কিবরীয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম, মেট্টোপলিটন চেম্বারের সভাপতি খলিলুর রহমান, কর আপিল অঞ্চল চট্টগ্রামের কমিশনার কাজী ইমদাদুল হক, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিল কমিশনারেটের কমিশনার ড. মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম, কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, এক গরুকে বারবার জবাই করা ঠিক নয়। এর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

ভ্যাটের আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের টাকায় নয়, পদ্মা সেতু হচ্ছে এদেশের মানুষের টাকায়। এক্ষেত্রে রাজস্ব আয়ই মুখ্য ভূমিকা রাখছে। ভ্যাট কালেকশন সিস্টেমকে অনলাইনে নিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি। তাহলেই কেবল যথাযথ ভ্যাট প্রাপ্তি ও প্রদান নিশ্চিত হতে পারে। মন্ত্রী আরও বলেন, ১৬ কোটি বাঙালির এদেশ বর্তমানে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে এদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যেভাবে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে তাতে ২০৩০ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বে যোগ দেবে। সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ গোলাম কিবরীয়া বলেন, পুরো ভ্যাট আদায় প্রক্রিয়াকে আমরা অনলাইনে নিয়ে আসার জন্য কাজ করছি। এক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আমাদের একটি সমন্বিত প্রকল্প চলমান আছে।

ভ্যাট আদায় প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর করে ব্যবসায়ীদের দ্বারে তার সুফল পৌঁছিয়ে দেয়াই আমাদের লক্ষ্য। চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, পৃথিবীর কোথাও ১৫ শতাংশ ভ্যাট নেই। অথচ বাংলাদেশে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট নেয়া হচ্ছে। এটা কমানোর কোন বিকল্প নেই। এটা ৪-৬ শতাংশের বেশি হওয়া উচিৎ নয়। দেশের উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সেই ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এত উচ্চ হারে ভ্যাট আদায় কাম্য নয়। তিনি বলেন, বারবার একই ব্যবসায়ীর কাছে না গিয়ে ভ্যাটের আওতা বাড়াতে হবে। আর ভ্যাট আদায় প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়ী ও ভ্যাট কর্মকর্তাদের মধ্যে বিদ্যমান গ্যাপ কমাতে হবে। তবেই রাজস্ব আহরণ আরও গতিশীল হবে। মেট্টোপলিটন চেম্বারের সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, পণ্য কেনার সময় আমাদের কাছ থেকে ভ্যাট কেটে রাখা হয়।

এর মধ্যে সরকারের হাতে কত টাকা যায় আমরা জানতে পারি না। এ জানার প্রক্রিয়াটা নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। কাজী ইমদাদুল হক বলেন, আমরা যখন পরাধীন ছিলাম তখন কর আদায় নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হত। বর্তমান স্বাধীন বাংলাদেশে কর আদায় উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আজকের পদ্মা সেতু দেশের মানুষের রাজস্বের টাকায় হচ্ছে। ড. মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ী সমাজ ও মূসক পরিবারের সদস্যদের মাঝে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মনোভাব থাকা বাঞ্চনীয়। এতে রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়া সহজতর হয়। মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ভ্যাট আদায় ও প্রদান প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সকলকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। কর ও ভ্যাট দেশের উন্নয়ন অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম কাস্টমস এর কমিশনার হোসেন আহমদ ও কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের সহকারী কমিশনারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। ‘সময়মত মূসক দেবো, দেশ গড়ায় অংশ নেব’ এ স্লোগানে শুক্রবার (১০ জুলাই) থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত জাতীয় মূসক সপ্তাহ পালন উপলক্ষ্যে সকালে সরকারি কার্যভবন-১ চত্ত্বর থেকে মূসক উদ্বুদ্ধকরণ এক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের তিন সেরা ভ্যাট দাতা প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, পূর্ব নাসিরাবাদ শিল্প এলাকার মেসার্স জেনসন এন্ড নিকলসন বাংলাদেশ লিমিটেড। এ প্রতিষ্ঠান ২০১৩-১৪ সালে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা রাজস্ব প্রদান করেছে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন ম্যানেজার সাজ্জাদ হাসান। খুলশী এলাকার মেসার্স কেসিজে এন্ড এসোসিয়েট ৩ কোটি ২৪ লাখ ৬ হাজার টাকা রাজস্ব দিয়েছে এবার। প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন জেনারেল ম্যানেজার নজরুল ইসলাম। এছাড়া কালুরঘাটস্থ আইসক্রিম পরিবেশক প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইন্টারফোল্ড ট্রেডিং এবার ১১ লাখ ৩০ হাজার টাকা রাজস্ব দিয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন চৌধুরী।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.