আ জ ম নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে খুনের তথ্যপ্রমাণ দেব- মহিউদ্দিন চৌধুরী
জুবায়ের সিদ্দিকী:: মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে খুনের তথ্যপ্রমাণ থাকার কথা জানিয়ে প্রয়োজনে তা প্রকাশের কথা বলেছেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী।মঙ্গলবার(১১ এপ্রিল) দুপুর ২ টায় নগরীর জিইসি মোড়ে নিজের অফিস কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।নাছিরের খুনের তথ্য-উপাত্ত চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মহিউদ্দিন বলেন, “প্রমাণ দেব যখন প্রয়োজন হয়- মামলা করবে তো।
“কমপক্ষে ১২টা ছাত্রলীগের ছেলেকে খুন করেছেন উনার রাজনৈতিক জীবনে। তার ইন্ধনে। মামলা তো হয়েছে। হয়তো উনি ক্ষমতায় আছেন বিধায় মামলাগুলো তুলে ধরা হচ্ছে না।”বেসরকারি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাসিম আহমেদ সোহেল খুনের ঘটনা উল্লেখ করে মহিউদ্দিন বলেন, “প্রিমিয়ারের একটা ছেলেকে মেরে ফেলল। ক্যামেরা ছিল। ফুটেজ কেটে দিয়েছে, কার সাহস? উনার (নাছির) সাহসের জোরেই তার নির্ধারিত ছেলেরা খুন করেছে। খুন করে কি রাজনীতি করা যায়?”
মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, “উনি মামলার আসামি ছিলেন। শেখ হাসিনা অনেক আগে লালদীঘিতে মিটিং করছিলেন। সে মিটিংয়ে তিনি গুলি করেছিলেন। আহত ব্যক্তি মামলা করেছে। তার ট্রায়াল চলছিল।“পরবর্তী পর্যায়ে যখন নির্বাচন হলো, হওয়ার পর উনি ক্ষমতায় বসতে পারেননি। দাগী আসামি এজন্য। প্রায় এক মাস পরে জজ সাহেবকে হাতে-পায়ে ধরে মামলা তার পক্ষে নিয়ে উনি ক্ষমতায় বসতে সক্ষম হন। প্রমাণ তো এই একটা আছেই। বাকিগুলো আছে।”
১৯৯৩ সালের ২৪ জানুয়ারি নগরীর লালদীঘি মাঠে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় তখনকার নগর ছাত্রলীগ নেতা সুফিয়ান সিদ্দিকীর ওপর অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার অভিযোগে এ মামলা করা হয়। সুফিয়ান সিদ্দিকীর করা এই মামলায় নাছিরসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। ওই বছরের ৭ মার্চ ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
আসামিপক্ষের করা সাক্ষীদের অধিকতর জেরার আবেদন, রিভিশন ও স্থগিতাদেশ পেরিয়ে ২০১৫ সালের ৬ এপ্রিল মামলা শেষ করতে উচ্চ আদালতের নির্দেশ চট্টগ্রামের আদালতে পৌঁছায়।
এরই মধ্যে ২৮ এপ্রিল নির্বাচনে জিতে চট্টগ্রামের মেয়র হন নাছির। ওই বছরের ২২ জুলাই মামলায় রায় দেয় চট্টগ্রামের আদালত।
অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় নাছিরসহ ১৮ আসামির সবাইকে খালাস দেয়া হয়। নাছিরের বিরুদ্ধে এ মামলা ছাড়াও ১৯৯৩ সালের ১৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম মেডিকেলে তিন খুন, ১৯৯৪ সালে ইসলামিয়া কলেজে দুই খুন এবং ১৯৯৯ সালে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে ছাত্রলীগের এক নেতাকে হত্যাচেষ্টার মামলা ছিল।এর মধ্যে হত্যা মামলা দুটিতে বেকসুর খালাস এবং হত্যাচেষ্টা মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন বলে নির্বাচনের আগে দেওয়া হলফনামায় জানিয়েছিলেন নাছির।
‘কিভাবে নির্বাচিত হয়েছে তা তো জানেন’ সিটি মেয়র হিসেবে আ জ ম নাছির ‘কিভাবে নির্বাচিত’ হয়েছেন তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মহিউদ্দিন।নাছিরের সঙ্গে ‘গ্রুপিং বা ‘দ্বন্দ্ব’ নেই দাবি করে মহিউদ্দিন বলেন, “সে ছোট ভাই। সে যখন দাম্ভিকতা-অহমিকা দেখায় স্বাভাবিকভাবে তা দলের ওপর পড়ে। সাধারণ সম্পাদক অন্যায়-ভুল করে থাকলে তা দলের ওপর বর্তাবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকার রাখি বলেই বলেছি। তাছাড়া আমি মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি।”
বর্ধিত হোল্ডিং ট্যাক্স সম্পর্কিত আন্দোলনে সাবেক মেয়র মনজুর আলমকে ‘সঙ্গে’ নেবেন কি না জানতে চাইলে মহিউদ্দিন বলেন, “আমি তাকে বলেছিলাম আসার জন্য।“তার না কি লজ্জা লাগে। হেসে হেসে বলেছেন। সে আমার বাসায় আসে। আমি তার বাসায় যাই।”
