ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র তান্ডবে লন্ডভন্ড আনোয়ারা উপকূল

0

আনোয়ারা প্রতিনিধি : ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র আঘাতেআনোয়ারা উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়নরায়পুর, জুঁইদন্ডী ও বারশত ইউনিয়নের অনেক ঘরবাড়ি বিধ্বস্তসহ ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। মোরার প্রভাবে ভয়ংকর রূপধারণ করলে ও সমুদ্রে ভাটার কারণে উপকূলে জ্বলোচ্ছ্বাসের প্রভাব পড়েনি। তবে বিকেলে জোয়ার বাড়ার সাথে সাথে ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। মঙ্গলবার সকাল ৮টার পর থেকেই টানাসাড়ে ১২টা পর্যন্ত আনোয়ারায় ধমকা হাওয়া ও প্রচন্ড ঝড়ো বৃষ্টি শুরু হয়।

জানাযায়,উপজেলারউপকূলীয়ইউনিয়নরায়পুরের দক্ষিণ সরেঙ্গা,পূর্ব গহিরা,ঘাটকুল,দক্ষিণ গহিরা,বার আউলিয়া,মালি পাড়া,উঠান মাঝিরঘাট, দোভাষীর ঘাট,ছিপাতলী ঘাট, সত্তার মাঝির ঘাট, খোর্দগহিরা, ঘলাকাটার ঘাট,পরুয়া পাড়া, জুঁইদন্ডী ইউনিয়নের খুরুস্কুল, চর জুঁইদন্ডী,দক্ষিণ জুঁইদন্ডী, পূর্ব জুঁইদন্ডী, পশ্চিম জুঁইদন্ডী ও বারশতইউনিয়নের দুধকুমড়া, গোবাদিয়া, বোয়ালিয়া,ফুঁলতলীগ্রামে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি,দোকানপাট ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ১৩৫ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় মোরা’র তান্ডবেলন্ড ভন্ড হয়ে যায় আনোয়ারা উপকূল। বাতাসে অনেক বাড়ি ঘরের টিনের চাল উড়িয়ে নিয়ে গেছে। বিধ্বস্ত হয়েছে বহু কাঁচা ঘরবাড়ি। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। নষ্ট হয়ে গেছে অধিকাংশ সবজি ক্ষেত। এসব এলাকার বেশিরভাগ পোল্ট্রি ফার্ম বিধবস্ত হয়ে পড়ায় হাজার হাজার মুরগীর বাচ্চা মারা গেছে। উপড়ে পড়া গাছ পালার কারণে বেশ কয়েকটি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোথাও হতা হতের খবর পাওয়া যায়নি।
বেশির ভাগ মাছ ধরার ট্রলার গুলো উপকূলে নিরাপদ আশ্রয় নিলেও এখনও পর্যন্ত কয়েকটি ট্রলার নিখোঁজ রয়েছে। তাছাড়া, বাতাসের গতিবেগে ক্রিস্টাল গোল্ড নামক একটি বিদেশী জাহাজ পরুয়া পাড়া বাতি ঘরের সম্মুখ চরে উঠে এসেছে। জাহাজটি ঘিরে এলাকার কয়েক টিসিন্ডিকেট লুটত রাজ করার পায়তারা করছে বলে জানা গেছে।

এদিকে উপজেলার ৫৮টি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিত লোকজন তাদের বাড়ি ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। গত সোমবার বিকেলে ১০নং মহাবিপদ সংকেত উঠার পর থেকেই উপকূলের ১০ হাজারের বেশি মানুষ এসব আশ্রয় কেন্দ্রে ছুটে আসে। রাতেই এসব আশ্রিত মানুষদের সাহরীর ব্যবস্থা করেন ভূমি প্রতিমন্ত্রীর প্রতিনিধিরা।

এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও এনজিও সংস্থা আশ্রিত মানুষদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেছে। বার শত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ কাইয়ুমশাহ বলেন, এই ইউনিয়নে ৪২ টি ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। পারকি সৈকতের অনেক গাছপালা ও দোকান পাটউ পড়ে গেছে। আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গৌতম বাড়ৈইনকিলাব বলেন,আনোয়ারায় এখনো পর্যস্ত ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি। তবে বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ করা হবে। পরে ক্ষতি গ্রস্তদের তালিকা করে ত্রাণের ব্যবস্থা করা হবে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.