নিজস্ব প্রতিবেদক:: সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি মো. ইমাম আলী বলেছেন,
বাংলাদেশে শিশু অপরাধ বাড়ছে। এর জন্য শিশুরা দায়ি নয়।
জন্মগতভাবে কেউ অপরাধী হয়ে জন্মগ্রহণ করে না। শিশুদের সংশোধন ও বিচারের জন্য প্রত্যেক জেলায় শিশু আদালত প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
তিনি আজ শনিবার(২২ জুলাই) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় ও ইউনিসেফ এর যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে Consulation on Effective Implementation of Children Act-2013 এর কর্মশালায় এসব কথা বলেন।
পরিচালক স্থানীয় সরকার চট্টগ্রাম, দ্বীপক চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমীন এতে সভাপতিত্ব করেন।
বক্তারা বলেন, শিশুদের সংশোধনের জন্য নিজেদের মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে।
রাজনের মত এ ধরণের নির্যাতন আর কোন শিশুর জীবনে না ঘটে সেজন্য আমাদের সজাগ থাকতে হবে।
শিশুরা অপরাধ করছে না তাদের দ্বারা করানো হচ্ছে। যতদ্রুত সম্ভব শিশু মামলা নিষ্পত্তি করার আদেশ দেন বিচারপতি।
শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৩২ এর বিধানবলী ক্ষুন্ন না করে উক্ত ধারার উপধারা (৪) এর সুষ্ঠু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিজ্ঞ শিশু আদালতকে সহযোগিতার জন্য ধারা ৩২ উপধারা (৪) এ উল্লিখিত যে সকল মামলার বিচারকার্য ৪২০ দিনের মধ্যে শেষ হবে না এবং যে সকল মামলার অভিযুক্ত শিশু অব্যাহতি পাওয়ার উপযুক্ত তাদের অব্যাহতি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ শিশু আদালতে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রবেশন অফিসারগণকে আবেদন করার জন্য অনুরোধ করা হলো শিশু আইন, ২০১৩ মোতাবেক ধারা ৩২।
বিচার সমাপ্তির সময়সীমা-
১) ফৌজদারী কার্যবিধি বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশু আদালত উক্ত আদালতে শিশুর প্রথম উপস্থিত হইবার তারিখ হইতে ৩৬০ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করিবে।
(২) কোন যুক্তি সঙ্গত বা বাস্তব কারণে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করা সম্ভব না হইলে শিশু-আদালত, উক্ত কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, সংশ্লিষ্ট বিচারকার্য সম্পন্নের সময়সীমা আরও ৬০ দিন বর্ধিত করিতে পারিবে।
(৩) শিশু আদালতে বিচার আরম্ভ হইবার পর হইতে, বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ধারা ১৭ এর উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুসারে, একাদিক্রমে উহার কার্যক্রম প্রত্যেক কার্যদিবসে বিনা বিরতিতে চলিতে থাকিবে।
(৪) উপ-ধারা (১) ও (২) এ বর্ণিত সময়ের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করা না হইলে সংশ্লিষ্ট শিশু, হত্যা, ধর্ষণ, দস্যুতা, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা বা অন্য কোন জঘন্য, ঘৃণা বা গুরুতর অপরাধের দায়ে দায়েরকৃত মামলা ব্যতিত, শিশু আদালতের বিবেচনায় তাহার বিরুদ্ধে আনীত লঘুমাত্রার অভিযোগ হইতে অব্যাহতি পাইবে এবং একই অপরাধের জন্য তাহার বিরুদ্ধে অন্য কোন বিচার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা যাইবে না।
কর্মশালায় বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ, পুলিশ কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ তানভীর, অতিরিক্ত ডিআইজি কুসুম দেওয়ান, ইউনিসেফ চট্টগ্রাম প্রধান মাধুরী ব্যানার্জি উপস্থিত ছিলেন।
