ফটিকছড়িতে জোটের নয়:নৌকা চায় আ.লীগ

0

জাহাঙ্গীর উদ্দিন মাহমুদ, ফটিকছড়ি,সিটিনিউজ : আসন্ন একাদশ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে প্রার্থীর হিসেব নিকাশও শুরু হয়ে গেছে। প্রাকতিক সৌন্দর্যে ঘেরা ফটিকছড়ি দেশের সবসময় আলোচিত একটি উপজেলা। এক সময়ের সন্ত্রাসীর জনপদ হিসেবে পরিচিতি থাকলেও তা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়েছে। সংসদীয় এ আসনে বর্তমানে সাংসদ ১৪ দলীয় মহাজোটের শরীক দল বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন‘র চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী।

তিনি বিএনপি বিহীন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রয়াত ড. মাহমুদ হাসানকে পরাজিত করে সাংসদ নির্বাচিত হন। সেবার তিনি নিজ দলের প্রতীক ফুলের মালার পরিবর্তে নৌকা নিয়ে নির্বাচনে লড়েন। জোটগতভাবে তখন তিনি এ আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন। সেবার আ.লীগের দলীয় প্রার্থী মনোনিত হন সাবেক সাংসদ রফিকুল আনোয়ারের একমাত্র কন্যা খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। তিনি দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে জোটের প্রার্থীকে নিজের মনোনয়ন ছেড়ে দেন।

এবারের মনোনয়নে পেয়ে নিজেদের দলের প্রার্থীর হাতে নৌকা চান আ.লীগের তৃণমূল হতে উপজেলা, জেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। একাধিক নেতারা জানান, জোটের প্রার্থী নয়, নিজেদের প্রার্থী যেই হোক না কেন তাকেই সংসদে পাঠাতে প্রাণপন চেষ্টা করবে আ.লীগ।

রফিকুল ইসলাম নামক উপজেলা পর্যায়ের এক নেতা বলেন, ‘বহু ত্যাগ, আর আ.লীগ নেতার রক্তের বিনিময়ে ফটিকছড়িতে আ.লীগের ঘাটি হয়েছে। অথচ এখন তার ফসল ভোগ করছে অন্য দলের নেতা। এটা আওয়ামী সমাজ কি করে মানবে ? আমরা অন্য দলের নেতাকে ফটিকছড়ির সাংসদ হিসেবে দেখতে চাইনা, বঙ্গবন্ধুর সৈনিককে সংসদে ফটিকছড়ির প্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চাই।
একাধিক নেতার সাথে কথা বলেই সবার কাছ থেকে একই উত্তর মেলে। সবার একটায় দাবী, দলীয় প্রার্থীই যেন ভোট করতে পারেন। তাদের দাবী, দলীয় এম.পি না হওয়ায় তারা কাঙ্কিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তাদের আক্ষেপ, আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় থাকলেও ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগের পছন্দ কিংবা চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়ন কার্য পরিচালিত হচ্ছে না।

অপরদিকে, বর্তমান সাংসদ সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী ইতিমধ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিজেকে আগামী নির্বাচনেও নৌকার প্রার্থী হিসেবে শতভাগ নিশ্চিত বলে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখেন।
এবারের নির্বাচনে আ.লীগের মনোনয়ন পেতে যারা আলোচনায় রয়েছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য নবম জাতীয় সংসদের ফটিকছড়ি আসন হতে নৌকা প্রতীকে লড়ে বিএনপি প্রার্থী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কাছে পরাজিত হওয়া আ.লীগের কেন্দ্রিয় নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম।

এটিএম পেয়ারুল ইসলাম আজকের সূর্যোদয়কে বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতিতেই সারাজীবন ব্যয় করেছি। দলের জন্য কাজ করেছি, জনপ্রতিনিধি না হয়েও ফটিকছড়ির মানুষের ভাগ্যন্নয়নে কাজ করেছি। দলের মধ্য থেকে ষড়যন্ত্র করে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাকে পরাজিত করিয়েছে। এবার আমি শতভাগ আশাবাদী, নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিয়ে সংসদে গিয়ে অবহেলিত ফটিকছড়ির মানুষের ভাগ্য বদলের কথা বলার সুযোগ দেবেন।

আ.লীগের টিকিট পাওয়ার আলোচনায় রয়েছেন উত্তরজেলা আ.লীগের নেত্রী ও সাবেক সাংসদ রফিকুল আনোয়ারে একমাত্র কন্যা খাািদজাতুল আনোয়ার সনি। গতবার নৌকার টিকিট পেয়ে জোটের কারণে ছাড় দিলেও এবার শতভাগ আশাবাদী দল তাকেই মনোনয়ন দেবে। গত বছর তিনি মহিলা সাংসদ হতে পারেন, এমন আলোচনায়ও ছিলেন।

আরো যারা নৌকার মনোনয়নে আলোচনায় রয়েছেন তারা হলেন, উত্তরজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফটিকছড়ির বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এম. তৌহিদুল আলম বাবু, জেলা আ.লীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ফখরুল আনোয়ার।

 

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.