মায়াকান্না দেখাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া: হাছান মাহমুদ

0

নিজস্ব প্রতিবেদক:: আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেছেন বেগম খালেদা জিয়া বিশৃংখলা সৃষ্টির লক্ষ্যে সড়ক পথে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাচ্ছেন। তিনি এতোদিন অসুস্থতার নাম করে লন্ডনে পরিবারের সাথে সময় কাটিয়েছেন। কোটি টাকার শপিং করেছেন। দেশে ফিরে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পর এখন বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে সড়ক পথে কক্সবাজার যাচ্ছেন। একজন অসুস্থ মানুষ কখনো ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সড়ক পথে যাওয়ার সামর্থ রাখেন না। এর থেকে প্রতিয়মান হয় তিনি অসুস্থ নন। খালেদা জিয়া সড়ক পথে কক্সবাজার যাওয়ার নাম করে যদি কোন ধরনের উস্কানি প্রদান করেন। কোন ধরনের বিশৃংখলা সৃষ্টি করেন তাহলে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

ড. হাছান মাহমুদ এমপি শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগ আয়োজিত এক মানবন্ধন কর্মসূচীতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি বখতেয়ার সাঈদ ইরানের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদব আবু তৈয়বের সঞ্চালনায় উক্ত মানবন্ধনে ড. হাছান মাহমুদ আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বড় বড় মন্ত্রী, রাষ্ট্রপ্রধানের স্ত্রীরাও রোহিঙ্গাদের দেখতে বাংলাদেশে এসেছেন। খালেদা জিয়া চিকিৎসার নামে এতোদিন যে বৃটেনে অবস্থান করছিলেন সেই বৃটেনের মন্ত্রীও রোহিঙ্গাদের দুর্দশা দেখতে বাংলাদেশে এসেছিলেন। কিন্তু খালেদা জিয়া আসার সময় পাননি। তিনি চিকিৎসার নামে নাতি নাতনিদের সাথে আনন্দময় অবকাশ যাপন করছিলেন। এখন দেশে ফিরে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পর বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে দেশে একটি বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি করার উস্কানি দিতে তিনি সড়ক পথে ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাচ্ছেন।

সড়ক পথে খালেদা জিয়ার কক্সবাজার যাত্রাপথে সরকার খালেদা জিয়ার সবরকম নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহন করেছে জানিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন খালেদা জিয়া এখন বিরোধীদলীয় নেত্রী বা এমপি নন। তবু সরকার তার প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার সার্কিট হাউজে খালেদা জিয়ার থাকার জন্য রুম বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যখন মন্ত্রীর পদমর্যাদা নিয়ে বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে চট্টগ্রাম এসেছিলেন তখন বিএনপি সরকার শেখ হাসিনাকে সার্কিট হাউজে থাকার জন্য কক্ষ দেয়নি। বাধ্য হয়ে শেখ হাসিনাকে আগ্রাবাদ হোটেলে রুম ভাড়া করে থাকতে হয়েছিলো। এখন খালেদা জিয়া সড়ক পথে কক্সবাজার যাওয়ার নাম করে দেশে বিশৃংখলা সৃষ্টির চেষ্ঠা করছেন। খালেদা জিয়া যদি কোন ধরনের উস্কানি দিয়ে বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্ঠা চালান তাহলে তার দাঁত ভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

রোহিঙ্গাদের প্রতি লোক দেখানো মায়া কান্না দেখাতে খালেদা জিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাচ্ছেন উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, রোহিঙ্গাদের যেভাবে মায়ানমারে পুড়িয়ে মারা হয়েছে, ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এদেশে পেট্রোল বোমার সন্ত্রাস এবং আন্দোলনের নামে মানুষকে পুড়িয়ে মারার সাথে এর সাদৃশ্য রয়েছে। পেট্রোল বোমার’র সন্ত্রাসের সময় দেশের জনগনের জন্য খালেদা জিয়ার কান্না আসেনি। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর সময়ও খালেদা জিয়ার চোখে পানি দেখা যায়নি। অথচ তিনি যখন ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি হারিয়েছেন তখন তিনি কান্না করেছেন। আদালতে গিয়ে তিনি কেঁদেছেন। আসলে তিনি মানবিকতার জন্য কান্না করেন না। তিনি নিজের স্বার্থের জন্য, সম্পত্তির জন্য কান্না করেন।

খালেদা জিয়া সড়ক পথে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার যাওয়ার সময় যাতে কোন বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে না পারে। এবং খালেদা জিয়ার উস্কানির ফাঁদে পা না দিতে ছাত্রলীগসহ দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান ড. হাছান মাহমুদ।

মানবন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, আওয়ামীলীগ নেতা ইউনুছ গণি চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম, খোরশেদ আলম, আকতার হোসেন খান, দেলোয়ার হোসেন মিন্টু, এডভোকেট নিখিল নাথ, আবদুর রউফ, এম কায়চার উদ্দিন, ফারুক তালুকদার, ওমর ফারুক, শওকত হোসেন, আবদুল হালিম, মাহমুদুল হক, তৌহিদ চৌধূরী, এমদাদ হোসেন, মুজিবুর রহমান স্বপন, নুরুল আলম, শীমুল গুপ্ত, কাজী নিজাম উদ্দিন প্রমুখ।

 

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.