নিজস্ব প্রতিনিধি,চন্দনাইশ :: সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এম.পি বলেছেন আগামী সংসদ নির্বাচনে জন বিচ্ছিন্ন কোন নেতাকে আ.লীগের মনোনয়ন দেয়া হবে না। জনপ্রিয়তা দেখে মনোনয়ন দেয়া হবে। যারা দল গঠন করে,পকেট ভারী করে তাদের স্থান আ.লীগে নেই। খারাপ লোক, অস্ত্রধারী দাগী আসামীদের জায়গা আ.লীগে নেই।
বেগম জিয়া ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে সড়কের উপর জনসভা করে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করেছেন। আ.লীগ সড়কের উপর জনসভা করে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করে না। কারণ এসব সড়ক আ.লীগেরই তৈরী করেছেন মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য।
তার গাড়ীর বহরে সড়কের উপরে নেতা-কর্মীদের তান্ডব ছিল, সাধারণ মানুষ ছিল না। ঢাকা-চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক, বাশঁখালী দিয়ে যে সড়কে মানুষ চলাচল করছে তা আ.লীগের আমলে হয়েছে। কর্ণফুলী’র নদীর নিচে ট্যানেল তৈরি করা হচ্ছে, তা আ.লীগেরই অবদান।
রাজনীতিতে কিছু লোক আছে ঘনঘন প্যান্ট-শার্টের মত রাজনীতিক দল পাল্টায়। মওদুদ খালেদা জিয়ার বাড়ীর জন্য মামলা করে হেরেছেন। এক কাপড়ে বের করে দেয়ার কথা বলছেন, অথচ ৬০/৬৫টি সুইট কেইস, ৩০টি মালামালের বস্তা নিয়ে গেছেন। মওদুদ আহমেদ বিএনপি থেকে এখন এরশাদের সাথে মন্ত্রী হওয়ার জন্য গেছেন।
বেগম জিয়া কক্সবাজার যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে কুমিল্লা হাসপাতালে ভর্তি হলে প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশে তাকে দেখতে যায়। সেখানে দেখলাম মওদুদ বেগম জিয়াকে হাসপাতালে রেখে এরশাদের সাথে মন্ত্রীর হিসাব করতে চলে গেছেন। মওদুদ ২০০১ সালের রঙিন স্বপ্ন দেখছেন।
পরিকল্পিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশে আর আসবে না। বেগম জিয়া বলেছিলেন যারা তত্ত্বাবধায়ক কথা বলেন তারা শিশু বা পাগল। এখন বিএনপির যারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা সহায়ক সরকার নির্বাচন চান তাদেরকে খালেদা জিয়া পাগল না শিশু বলবেন। এসময় তিনি শেখ হাসিনার সরকার আরেকবার দরকার বলে নৌকার স্লোগান দেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্টিত হবে। ২০০১ সালের মত ম্যাকানিজম করে প্রশাসন,পুলিশ ম্যানেজ করে কোন লাভ হবে না। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, উপবৃত্তি প্রদান, সার্টিফিকেট ও ভোটার আইডি কার্ডে পিতার নামের পাশা-পাশি মায়ের নাম অর্ন্তভুক্তকরণ বর্তমান সরকারের অবদান।
আজ শনিবার (৪ নভেম্বর) বিকাল ৩ টায় চন্দনাইশ উপজেলা আ.লীগের উদ্যোগে কাঞ্চনাবাদ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাবেশ অনুষ্টিত হয়। আ’লীগ নেতা আবুল বশর ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এম.পি। বিশেষ অতিথি ছিলেন যথাক্রমে কেন্দ্রীয় আ.লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এম.পি, সাংগঠনিক সম্পাদক এ.কে.এম এনামুল হক শামীম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আ.লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম -১৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী, সংসদ সদস্য শামসুল হক চৌধুরী,দক্ষিণ জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি শাহজাদা মহিউদ্দীন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোকন, দক্ষিণ জেলা আ.লীগে সহ-সভাপতি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান,পৌর মেয়র মাহবুল আলম খোকা প্রমুখ। তাছাড়া মঞ্চে উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল আবদুল জব্বার চৌধুরীসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের কয়েকজন চেয়ারম্যান ও আ।লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা আ.লীগের সমাবেশে উপজেলা আ.লীগের সভাপতি-সম্পাদক উপস্থিত না থাকলেও আ.লীগের কার্যকরী পরিষদের অধিকাংশ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তবে বিদ্যালয়ের মাঠ পরিপূর্ণ হয়নি। ১০টি অধিক তোরণ দিয়ে অতিথিদের স্বাগত জানানো হয়েছে। সড়কের দুই পাশে ছিল রং-বেরঙ্গের ব্যানার, ব্যানারে সংগঠনের নাম থাকলেও ছিল না স্থানীয় নেতাদের ছবি।
