ট্যাক্স নিয়ে অপপ্রচারকারীদের বিরত থাকার অনুরোধ- মেয়র নাছির
নিজস্ব প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, অসচ্ছল, আদিবাসী, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী ও গরীবদের সর্বোচ্চ ছাড় দেয়া হচ্ছে। অনেক হোল্ডারের বছরে নামমাত্র ৫১ টাকা ট্যাক্স ধার্য্য করা হচ্ছে। নগরীর সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হোল্ডিং ট্যাক্স এর আওতামুক্ত রাখা হচ্ছে। তারপরও প্রতিহিংসার বসে যারা বিভ্রান্তি সৃষ্টির প্রয়াসে অপপ্রচারে লিপ্ত তাদেরকে বিরত থাকার অনুরোধ করছি।
শনিবার ১৮ নভেম্বর সকালে চট্টগ্রাম নগরীর ১০নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের ওয়ার্ড কার্যালয় প্রাঙ্গনে কাউন্সিলর আয়োজিত পৌরকর সংক্রান্ত সুধী সমাবেশ এবং নগর ডিজিটাল সেন্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তেব্য মেয়র এসব বলেন।
মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, আলোচনা সমালোচনার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেড়িয়ে আসে। সত্যকে গ্রহন করে সমালোচনার সমাধান করতে হয়। আমি প্রকৃত সত্যের মুখোমুখি হতে ভয় পাই না। সততাকে ধারণ করে জনকল্যাণকে সামনে রেখে ঈমানের সাথে দায়িত্ব পালন করি। সর্বনিম্ন ৫১ টাকা ট্যাক্সধারী সকলের হোল্ডিং ট্যাক্স আমি নিজ তহবিল থেকে পরিশোধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছি। অতীতে যারা সর্বনিম্ন হোল্ডিং ট্যাক্সধারী ছিল তাদের বকেয়া ট্যাক্স মওকুফ করে দেয়া হচ্ছে। আইনধারা সুবিধাপ্রাপ্ত সকলের সুবিধা অটুট রাখা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কোন ধরনের আপত্তি থাকার কথা নয়।

তিনি আরো বলেন, সম্মানিত নাগরিকদের মনে কষ্ট দেয়ার জন্য মেয়র নির্বাচিত হইনি। আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে পঞ্চবার্ষিকী পৌরকর অ্যাসেসমেন্ট করা হয়েছে। এ অ্যাসেসমেন্টের কারণে নাগরিকদের প্রতিক্রিয়া নিরসনে আপিল/আপত্তি দাখিল করার জন্য ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রি. পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। নাগরিক স্বার্থে এ সময় আরো একমাস বর্ধিত করা হবে। সর্বোচ্চ বিবেচনায় নাগরিকদের আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। অযোক্তিকভাবে পৌরকর চাপিয়ে দেয়ার কোন ইচ্ছা বা অভিপ্রায় আমার নেই। আপিল রিভিউ বোর্ডে হোল্ডারদের আপত্তি সমূহ পূঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে সহনীয় পর্যায়ে পৌরকর চূড়ান্ত করা হবে। কোন আপিলকারীর উপর অবিচার করা হবে না।
প্রসঙ্গক্রমে মেয়র বলেন, আগামী সোমবার নগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস রোড ও পোর্ট কানেকটিং রোড উন্নয়ন এবং মহেষখালের প্রতিরোধ দেয়াল, খালের পাড়ে রাস্তা নির্মাণ, খালের উপর ৩টি ব্রিজ নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করা হবে। এ সকল কাজে প্রায় ২০৯ কোটি টাকা ব্যয় হবে। অথচ বছরে পৌরকর বাবদ সে পরিমান টাকা পাওয়ারও কোন সুযোগ নেই। তা সত্ত্বেও নগরীর উন্নয়ন থেমে থাকেনি। সরকারের সহযোগিতায় দ্রুতগতিতে উন্নয়ন কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। গত দুই অর্থ বছরে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সম্পাদিত হয়েছে। চলতি বছরে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সম্পূর্ণ হবে। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন সেবা ও উন্নয়নের স্বার্থে সামর্থ্যবান সকলকে নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্যানেল মেয়র ও ১০নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) হাবিবুর রহমান, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবিদা আজাদ।
বক্তব্য রাখেন আকবরশাহ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান আহম্মদ, সাধারণ সম্পাদক কাজী আলতাফ হোসেন, উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক মো. ইকবাল চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা নুর উদ্দিন, ইঞ্জিনিয়ার তরুন তপন দত্ত, যুবলীগ নেতা আবুল কালাম আবু, কামাল উদ্দিন, আবু সুফিয়ান, গিয়াস উদ্দিন, রোখন উদ্দিন চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগ নেতা লোকমান আলী, আলহাজ্ব মছিউদৌল্লাহ চৌধুরী, শফিউল আলম, আলী আজগর চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন চৌধুরী, সেলিম উল্লাহ, ব্যাংক কর্মকর্তা সায়েদ মোহাম্মুদুল হক সহ অন্যরা। মেয়র বেলুন, পায়রা উড়িয়ে এবং ফিতা কেটে নগর ডিজিটাল সেন্টার উদ্বোধন করেন।
