কাউন্সিলর জাবেদের টর্চার সেল !

0

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম নগরীর এক মুক্তিযোদ্ধার পরিবার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, কাউন্সিলর জাবেদের অত্যাচারে অতিষ্ট এলাকাবাসী এবং তার জাবেদ টাওয়ার টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করে চাঁদা আদায় করছে ব্যবসায়ীেদর কাছ থেকে ।

উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ জাবেদ ও তার ভাই জাহেদের অত্যাচার থেকে রেহাই পাওয়ার আকুতি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে এক মুক্তিযোদ্ধার পরিবার। মহানগর আওয়ামীলীগের প্রাক্তন সদস্য ও উত্তর পাঠানটুলি ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম হাজ্বী সৈয়দ আহমেদ চেয়ারম্যানের পরিবার ২৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এ আকুতি জানান।

পরিবারের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. রাশেদ আজগর আকবর বলেন, কাউন্সিলর জাবেদ ও তার ভাই জাহেদের ক্ষমতা ও তাদের পালিত সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে এলাকার লোকজন জিম্মি। জাবেদ কাউন্সিলর হওয়ার পূর্বেও পাহাড়তলী থানার নাছিম হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামী ছিলো। বিভিন্ন মামলার কয়েকবার জেলহাজতেও গিয়েছিল। তার ভাই জাহেদও একাধিক মামলার আসামী। জাবেদ কাউন্সিলর হওয়ার পর থেকে এলাকায় সন্ত্রাসীর রাজত্ব কায়েম করেছে। সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে অবৈধভাবে ভূমি দখল, চাঁদা আদায়, জুয়া, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্নরকম অসামাজিক কার্যকলাপ করছে।

তিনি বলেন, গত ২০ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিলর জাবেদ ও তার ভাই সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাদের বাড়িঘর দখল করার জন্য এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। গুলিবর্ষণ ও ধারালো অস্ত্রের মহড়া দেয়। উক্ত ঘটনা যে কাউন্সিলর জাবেদ ঘটিয়েছে তার প্রমাণস্বরুপ জাবেদের ফোনালাপের স্বীকরোক্তিমূলক অডিও ও ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত আছে। পুলিশের উপস্থিতি এ ঘটনা ঘটার পরের দিন আমরা থানায় অভিযোগ করি। এরপর থেকে আমাদের উপর তাদের অত্যাচার আরো বেড়ে যায়। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে ৩ নভেম্বর ডবলমুরিং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করলে তারা আবার আমাদের উপর হামলা করে। তখনও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলো।

জাবেদ টাওয়ার টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করা হয় জানিয়ে এক মুক্তিযোদ্ধার পরিবার বলেন, কোন ব্যবসায়ী জাবেদের সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে চাঁদা না দিলে তাকে জাবেদ টাওয়ারে নিয়ে যাওয়া হয়। ইতিমধ্যে রাজা মিয়া সওদাগরকে জিম্মি করে জাবেদ বাহিনী তার সম্পত্তি দখলে নিয়েছে। সুলতান খানের পুরাতন তিনতলা ভবন অবৈধ দখলে নিয়েছে। যেখানে তার পালিত সন্ত্রাসী রহিমদাদ খান বাদশা জুয়া, মাদকসেবন ও বিক্রিসহ অস্ত্র মজুদ ও অসামাজিক কার্যকলাপ করছে। পত্রিকায় এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।

কাউন্সিলর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টায় আছে জানিয়ে তিনি বলেন, জাবেদ বাহিনী আমাদের উপর হামলা করার পর আমরা নিরাপত্তার স্বার্থে ৯টি সিসি ক্যামরা স্থাপন করি। যার একটি জাবেদ বাহিনী চুরি করে নিয়ে যায়। তাছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যায় তার বাহিনী রাস্তায় কর্পোরেশনের লাইট বন্ধ রাখে। অবৈধ অস্ত্রের মহড়া দিায়ে এলাকার ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এ অবস্থায় আমাদের পুরো পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার সত্তরোর্ধ মেজভাইকে ওষুদের জন্য যাওয়ার পথে রাস্তায় ফেলে কিলঘুষি মারতে থাকে।

বিভিন্ন পত্রিকায় জাবেদ বাহিনীর অত্যাচারের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরও পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করছে জানিয়ে তিনি বলেন, এলাকায় সংঘর্ষ ও হামলা নিয়মিত পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। মাদকের উৎপাতও পত্রিকার শিরোনাম হয়েছে। কাউন্সিলর জাবেদের নেতৃত্বে এসব অপকর্ম হলেও পুলিশ প্রশাসন নিরব রয়েছে। র‌্যাব, পুলিশ কমিশনার, মেয়রকে এ বিষয়ে অভিযোগ করা হলেও কোন সুরহা হয়নি।

লিখিত বক্তব্যের পর সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলর জাবেদ বাহিনীর বিভিন্ন হামলার ভিডিও ফুটেজ প্রদর্শন ও ফোনালাপের অডিও রেকর্ড শুনানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন হাজী সৈয়দ তাহের আহমদ (৬৫), মো. জাহাঙ্গীর (৬০), মো. মায়মুন হোসেন(৫২), শেখ মো. জুলফিকার (৪০), শেখ লুতফা জাহান, মনোয়ারা বেগম, হারুফা বেগম, রোকেয়া বেগম, আলেয়া বেগম, রোশনারা বেগম, শেখ নাহিদ পারভিন, শেখ নাসরিন পারভিন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত এলাকার বাসিন্দা পারভীন আকতার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে তানভীর (১৮) আজ আট দিন ধরে এলাকা ছাড়া। কাউন্সিলর জাবেদ এবং তার ভাই জাহেদের ভয়ে আমার ছেলে এলাকায় আসতে পারছেনা।

এলাকার অপর বাসিন্দা আরেক মা পারভীন আকতার শিল্পী অভিযোগ করেন, তার ছেলে ইশতিয়াক উদ্দীন নাঈম (১৭) বাসা ছাড়া। জাবেদ আর জাহেদের ভয়ে এলাকায় আসতে পারছে না। ছোট মেয়ের স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.