চালকের আসনে চীন; ভারতের আক্ষেপ!

0

সিটিনিউজ ডেস্ক :: রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) একটি সমঝোতা স্মারক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। এই চুক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে চীনের। এর দিন কয়েক আগেই ৩ দফা প্রস্তাব দিয়েছিলো বেইজিং।

অন্যদিকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কোনো ভূমিকা রাখতে পুরোপুরি ব্যর্থ নয়াদিল্লি। এ নিয়ে নাকি ভারতীয় কূটনৈতিক ও নেতাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার এমন দাবি করেছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় এক সংবাদ মাধ্যম।

পত্রিকাটিতে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা-কূটনীতির প্রশ্নে বাংলাদেশ, মিয়ানমার তথা দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বাড়ানোর সুবর্ণসুযোগ এসেছিল নয়াদিল্লির সামনে। প্রতিবেশী-রাজনীতিতে কোণঠাসা অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ট্রেন ফেল করল সাউথ ব্লক। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চালকের আসনে বসে পড়ল বেইজিং। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ব্যর্থ হওয়ায় এখন আক্ষেপ করছে ভারত।

শুক্রবার ‘রোহিঙ্গায় গোল চিনের, সুযোগ হারিয়ে পিছনের সারিতে দিল্লি’ শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পত্রিকাটি জানায়, সম্প্রতি রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে চীন ৩ দফা প্রস্তাব ঘোষণা করার পরেই টনক নড়ে ভারতের। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ওই প্রস্তাবের দিন কয়েক পরেই রোহিঙ্গা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।ফলে ভারতকে পিছনে ফেলে বাংলাদেশ এবং মায়ানমারে প্রভাব বাড়ানোতে এগিয়ে গেলো চীন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলে মানবাধিকারের প্রশ্নে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করারও চেষ্টা করছে চীন। বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে এমনটিই জানাচ্ছে পত্রিকাটি।

পত্রিকাটি আরও দাবি করছে, ‘এখন চীন যে পথে সমস্যা নিরসনের কথা বলছে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আগেই সেই কথা বলেছিলেন। তবে তাকে বাস্তবায়িত করতে উদ্যোগী হয়নি সাউথ ব্লক। সেপ্টেম্বরে মিয়ানমার সফরে গিয়ে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণই করেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বরং সে দেশের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে মিয়ানমারকে খুশি করার চেষ্টা করেছিলেন। কারণ, ভারতের বরাবরের আশঙ্কা, মিয়ানমারকে তুষ্ট না-রাখতে পারলে দেশটি পুরোপুরি চীনের প্রভাবে চলে যাবে।’

মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে চীন এবং ভারতের টানাপড়েন ক্রমবর্ধমান। আসিয়ান গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির সিংহদ্বার হিসাবে সে দেশের খুবই গুরুত্ব ভারতের কাছে। কিন্তু সড়ক, পরিকাঠামো নির্মাণ থেকে শুরু করে নতুন শিল্পোদ্যোগের ক্ষেত্রে চীনও প্রচুর বিনিয়োগ করছে দেশটিতে। বাংলাদেশেও বিনিয়োগ করছে চীন।

তাই পত্রিকাটির দাবি, ‘কার্যক্ষেত্রে চীনের রোহিঙ্গা-কিস্তিতে আপাতত মাৎ বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার উভয়েই।’

পত্রিকাটি আরও বলছে, ‘চীনের এই প্রস্তাবে খুশি ঢাকা। প্রায় রোহিঙ্গা শরণার্থী নিয়ে জর্জরিত বাংলাদেশ ভারতের কাছেও এমন দরাজ অবস্থান আশা করেছিলো।’ কিন্তু এতে চরমভাবে ব্যর্থ ভারতের এখন আফসোস ছাড়া আর কিছুই করার নেই। এখন তারা তাই করছে।

প্রসঙ্গত: চীনের ওই ৩টি প্রস্তাব হচ্ছে: ১) রাখাইন প্রদেশে অবিলম্বে সংঘর্ষ বিরতি ঘোষণা, রোহিঙ্গাদের দেশ ছেড়ে যাওয়া বন্ধ করা এবং শরণার্থীদের ফিরিয়ে আনা। ২) বাংলাদেশ এবং মায়ানমারের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানো। ৩) রাখাইনের দারিদ্র দূরীকরণে আন্তর্জাতিক সহায়তা জোগাড়। এ ব্যাপারে সিংহ ভাগ দায়িত্ব নিতে রাজি চীন।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.