আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্ব জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি এবং তেলআবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের ঘোষণার প্রতিবাদে ফিলিস্তিনে বিক্ষোভ অব্যাহত আছে। এর মধ্যেই আগামীকাল বুধবার জেরুজালেম সফরে আসছেন মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। এ নিয়ে ফিলিস্তিনে নতুন করে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে পেন্সের সফরকে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটির রাজনৈতিক শাখার এক সদস্য হুসাম বাদরান লিখিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, পেন্সের সফরকে রুখে দিবে ফিলিস্তিনি জনগণ।
সম্ভাব্য সকল স্থান, বিশেষ করে জেরুজালেম ও আল-আকসা মসজিদের আশপাশে বিক্ষোভ এবং ইসরাইলি বাহিনীকে রুখে দিতে ফিলিস্তিনিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাদরান।
তুরস্কের সরকারি বার্তা সংস্থা আনাদলু বলেছে, পেন্স জেরুজালেমের বিতর্কিত ‘আল-বুরাক ওয়াল’ এবং ‘ওয়েলিং ওয়াল’ পরিদর্শন করতে পারেন। ইসরাইলের দাবি অনুযায়ী, এ দুটি ইহুদিদের প্রখ্যাত সমাধি।
অন্যদিকে, মুসলমানরা ওই স্থানকে আল-আকসা মসজিদের কম্পাউন্ড হিসেবে দাবি করছে। আর আল-আকসা ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান।
প্রসঙ্গত, পেন্সের সফরে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ৬ ডিসেম্বর ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পর তা প্রত্যাখ্যান করেন আব্বাস। একই সঙ্গে মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং দেশটির খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের এক নেতার সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল পেন্সের। কিন্তু ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পর তারাও বৈঠক প্রত্যাখ্যান করেন।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্য তথা ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে দ্বন্দ্বের অন্যতম কারণ হলো জেরুজালেম। ইসরাইলের দাবি, জেরুজালেম হবে তাদের রাজধানী। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিরা আগে থেকেই বলে আসছে, তাদের ভবিষ্যত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হবে জেরুজালেম।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওই ঘোষণার পর ফিলিস্তিনে বিক্ষোভ অব্যাহত আছে। সেইসঙ্গে ইসরাইলি বাহিনীর দমন-পীড়নও অব্যাহত আছে। এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলা ৮ জন ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৫৩৫ জন। সেইসঙ্গে তেলআবিবের বিমান হামলায় ফিলিস্তিনের ১৪ অ্যাম্বুলেন্স ধ্বংস হয়েছে।জেরুজালেমকে ইসরাইলি রাজধানী ঘোষণার প্রতিবাদে ফিলিস্তিনের পাশাপাশি অন্যান্য দেশেও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন, ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা, বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভো এবং পাকিস্তানের করাচিসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে।
এ বিভাগের আরও খবর

