জুবায়ের সিদ্দিকী : চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা ছিল, রাজপথের নেতা ফিরে আসবেন জনতার মাঝে। সেই চিরচেনা বেশে, সফেদ পাঞ্জাবি পাজামা, কালো মুজিব কোট পরে। মুখে থাকবে সদা কৌতুকময় হাসি। মহিউদ্দিন চৌধুরীকে মিছিলে ফেরত চান সবাই। জনতার নেতা জনতার মাঝে ফিরে এসেছেন। কথা ছিল এবারের বিজয় র্যালিতে তিনি নেতৃত্ব দেবেন। নেতা রাজপথে ফিরে এসেছেন ঠিকই, তবে জনতার কাঁধে চড়ে। সমাজ ও রাজনীতিতে সবাই নেতা বা নায়কের স্থান নিতে পারে না।
হাতেগোনা মানুষের পক্ষেই কেবল তা সম্ভব হয়। নায়ক হওয়ার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ সব কালে, সব যুগে সৃষ্টি হয় না। ইতিহাস আপন তাগিদেই তার নায়কের উদ্ভব ঘটায়। চট্টলবীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী তেমনই এক অবিসংবাদিত নেতা। তিনি ছিলেন সাধারন মানুষের নেতা, ছিলেন জনতার নেতা। রাজনীতির তাত্বিক, পন্ডিত কখনোই ছিলেন না।
কিন্তু তিনি ছিলেন অসাধারন প্রজ্ঞাবান একজন নেতা। মানুষের কাছ থেকে গ্রহন করতে পারতেন, বিচার বিবেচনার রসদ সঞ্চয় করতে পারতেন। সব বিষয়ে শেষ ভরসা করতেন মানুষের উপরে। মানুষের প্রতি এমন ভালবাসা ও নৈকট্যেই তিনি সত্যিকারের জননেতা হয়ে উঠেছেন। ছাত্রাবস্থা থেকেই সাধারন খেটে খাওয়া মানুষের প্রতি তাঁর টান। সাথে অসাম্প্রদায়িক বোধের জাগরন। গত বছর ডিসেম্বরে জন্মদিনে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছার জবাবে তিনি বলেছিলেন,’টিল ডেথ, আই উইল ডু ফর দ্য পিপল অব চিটাগাং, চট্টগ্রামের মানুষে আমি ভালবাসি’। চট্টগ্রামের স্বার্থের প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপোষহীন।

ছাত্র রাজনীতির সিঁড়ি বেয়ে ধীরে ধীরে পুর্নাঙ্গ রাজনীতিবিদে পরিণত হয়ে আলোর মশাল জ্বালিয়েছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। তিনি এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন, যাঁকে ভয় ছুঁতে পারত না। যদি এক শব্দে তাঁকে প্রকাশ করতে হয়, বেছে নিতে হবে সাহসী শব্দটি। তিনি কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি থাকলেও তাঁর জীবন, ভবিষ্যৎ বা পরিবার নিয়ে চিন্তা করেননি। তিনি শুধু চট্টগ্রামবাসীর জন্য চিন্তা করে গেছেন। তিনি যেন একটা লক্ষ্য নিয়েই পৃথিবীতে এসেছেন। লক্ষ্যটা হলো, গতকালের অন্ধারকে আগামীকালের আলোতে পরিণত করা। তাঁর জীবন একটা মুলমন্ত্রের ওপর বিন্যাস্ত আর তার হলো জনগনের কল্যান।
চট্টগ্রামের কিংবদন্তি আওয়ামী লীগ নেতা এম.এ আজিজ ও জহুর আহমদ চৌধুরী। তারা দুজনই ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর। তাদের পদাঙ্ক অনুসরন করে যিনি চট্টলবীর উপাদীর পাশাপাশি চট্টগ্রামের সকল শ্রেনি পেশার মানুষের অভিভাবকে পরিনত হয়েছেন, তিনি হলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। এ কথা বলা-ই যায়, মহিউদ্দিন ছিলেন চট্টগ্রামের শেষ কথা। তবু তিনি নিজে যেমন সাধারন মধ্যবিত্ত জীবনযাপন করতেন, তাঁর পবিরারের সদস্যদেরও সেভাবে পরিচালনা করতেন।
নগরীর মেয়র গলিতে তাঁর কাছে যাওয়ায় কোন বাধা ছিল না। সম্পদ বা পদমর্যাদার দিকে কোন নজর ছিল না, সম্পুর্ন রুপে আন্তরিক ছিলেন জনগনের প্রতি। মহিউদ্দিন চৌধুরীর জীবনে রয়েছে নানা সংগ্রামী ঘটনা। নানা ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। জীবনের তাগিতে তাঁকে করতে হয়েছে রেডিও মেকানিকের কাজও। সেই তিনি আবার চট্টগ্রামের লালদীঘিতে যখন হাজির হন, তখন তার জ্বালাময়ী বক্তব্য শোনার জন্য হাজার হাজার মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে। মেয়র থাকা অবস্থায় যখন যে দলই ক্ষমতায় থাকুক, চট্টগ্রামের স্বার্থে আন্দোলন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে কখনোই কুন্ঠাবোধ করেননি তিনি।
রাজনৈতিক জীবনে অনেকবার কারাগারে গেছেন। ওয়ান ইলেভেনের সময়ও তাকে যেতে হয়েছিল কারাগারে। সেই সময় তার কন্যা ফৌজিয়া সুলতানা টুম্পার মৃত্যু তাকে ভীষন রকম আবেক তাড়িত করে। ফেলে দেয় জীবনের মানবিকতার পরীক্ষায়।
সেই পরীক্ষা আমৃত্যু মোকাবিলা করেছেন তিনি। তাছাড়া আক্রমনের শিকার হয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে এসেছেন একাধিকবার। আহত হয়েছেন অসংখ্যবার।
গত শহকের ষাটের দশকের ছাত্র রাজনীতিতে ৬ দফা, ১১ দফা ও এক দফার আন্দোলনের মাঠের কর্মী বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য মহিউদ্দিন ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সুচনালগ্নে গ্রেপ্তার হন। পাকিস্তানি নেভাল রেইসের টর্সার ক্যাম্পে নির্যাতিত হন। পরে পাগলের বেশে কারাগার থেকে বের হয়ে ভারতে ট্রেনিং নিয়ে যুক্ত হন মাউন্টেন্ট ডিভশনে।
মুক্তিযুদ্ধের আগ থেকেই জ্যেষ্ট নেতাদের পাশাপাশি চট্টগ্রামের তরুন যুবকদের আরো একটি রাজনৈতিক ধারা সক্রিয় ছিল। তারা ছিলেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির অনুসারী। এই ধারার নেতারা মিলে একাত্তরে জয় বাংলা স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে তারা চট্টগ্রামে সর্ব প্রথম পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করেছিলেন।
সেই বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন তখনকার যুবনেতা মৌলভী সৈয়দ এবং শ্রমিকনেতা মহিউদ্দিন। ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রতিবাদে প্রথমে দেশে ও পরে ভারতে পলাতক অবস্থায় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্রিয় হন। ভারতে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রতিরোধ সহজতর না হলে কঠিন মানবেতর অবস্থায় পড়েন তিনি। কারখানার শ্রমিক, টঙের চা বিক্রেতাও হতে হয় তাকে। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রধানতম নেতা হয়ে উঠেন মহিউদ্দিন।
পরবর্তীতে বন্দরটিলা ট্র্যাজেডিতে গান পাউডারে ক্ষতবিক্ষত মানুষের লাশ নিজের হাতে ধুয়ে ও দাফন করে ব্যাপক আলোচনায় আসেনি। কালুরঘাটে গার্মেন্টসে আগুনে পুড়ে অর্ধশতাধিক শ্রমিকের মৃত্যু বা বন্দরটিলায় নৌবাহিনীর সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে নিহত ব্যক্তিদের দাফন দাফন, সৎকারে সবার আগে এগিয়ে এসেছিলেন তিনি।
১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘুর্নিঝড়ের পর বহু বেওয়ারীশ লাশ নিজ কাঁধে বহন করে দাফন ও সৎকার করেছেন। অস্থায়ী হাসপাতাল গড়ে তুলে চিকিৎসকদের জড়ো করেছিলেন। প্রান রক্ষা করেছিলেন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শত শত রোগীর। তাই একবার ১৯৯৫ সালে তাঁকে গ্রেফতার করার পর যেভাবে ফুঁসে উঠেছিল চট্টগ্রামের মানুষ, সে রকম জনরোষের নজির এ অঞ্চলে আর নেই।
আমেরিকার এসএসএ পোর্ট ১৯৯৭সালে চট্টগ্রাম বন্দরের মোহনায় আমেরিকার এসএসএ কোম্পানীর পোর্ট নির্মানের উদ্যোগকে তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে ভন্ডুল করে দিয়ে বলেছিলেন, আমার মোহনা একদিন সোনা হবে। আমার দেশ একদিন ধনী হবে। তখন সমগ্র বিশ্ব আমাদেরকে তোয়াজ করবে। তখন আমাদের নিজস্ব বিবেচনায় আমাদের মহামুল্যবান মোহনাকে আমরা কাজে লাগাব।
সাবধান! আমেরিকা। মহিউদ্দিন চৌধুরী জীবন দেবে, কিন্তু তোমাকে বন্দর দেবে না। মার্কিন প্রতিষ্টান স্টিভিডোর সার্ভিসেস অব আমেরিকার (এসএসএ) সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রাইভেট কন্টেইনার টর্মিনাল স্থাপনের চুক্তির উদ্যোগ থেকে সরকারকে সরে আসতে হয়েছিল মহিউদ্দিনের কঠোর মনোভাবের কারনে। পরে তাঁর বিরোধিতার যুক্তি অনুধাবন করতে পেরেছিল সবাই।
একইভাবে বছরে মাত্র ছয় কোটি টাকার বিনিময়ে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর থাই কোম্পানীকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হয়েছিলেন তিনি। এখন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্টানটি গড়ে বছরে ৩৫ কোটি টাকারও বেশি আয় করে প্রমান করেছে যে সিদ্ধান্তটি ছিল হঠকারী।
চট্টগ্রামের পেশাজীবি নাগরিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনে প্রণোদনা দানকারী মহিউদ্দিন চৌধুরী গণজাগরণ সহ সর্বশেষ বিএনপি জামায়াত পেট্রোল বোমা নৈরাজ্যের প্রতিবাদে নগরীর ২৩টি পয়েন্টে সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশের উদ্যোগ নিয়েও রাখেন প্রধান নেতৃত্বের ভুমিকা। সর্বশেষ অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি কর্মীবাহিনী নিয়ে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের পাশে মানবিকতায় সচেষ্ট ছিলেন।
চট্টগ্রাম বন্দর ও কাষ্টমসের দুর্নীতিবাজদের রুখতে কখনো কখনো নৌপরিবহন সেক্টরে নৈরাজ্য রোধে, কখনো চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে নিজ দল ও বিরোধী মেয়রের বিপক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান নিয়েও আলোচনায় আসেন। এ ছাড়া কখনো ফিলিস্তিনিদের অসহায়ত্বেও লালদিঘি মাঠে সমাবেশ করে মুজাদিত পাঠানোর ঘোষনা দেন। সাংগঠনিক দক্ষতা, নিজস্ব ক্যারিশমার কারনে পর পর চারবার মেয়র পদে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার মনোনয়ন পান মহিউদ্দিন।
১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মেয়র ছিলেন তিনি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামের। তাঁর করা নির্বাচনের সময়েও দেখা গেছে জনগনির শক্তি। আওয়ামী লীগ তখন বিরোধী দলে থাকা সত্ত্বেও তিনি বিজয়ী হন জনতার ভোটে। ভোটের পরই সেবার রাস্তায় নেমে আসে সাধারন জনগন। সেদিন বাস বা কারের মতো ট্রান্সপোর্ট নিষিদ্ধ করা হলে মানুষ পায়ে হেঁটে শহরে চলে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসার চেষ্টায় শহরে কারফিউ জারি করা হয়। জনগন সারা রাত শান্তিপুর্নভাবে অবস্থান ধর্মঘট করে।
পরদিন সকালে জনগনের দাবীর কাছে তাকে মেয়র ঘোষনা করতে বাধ্য হয় এব্ং তার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা সবার সামনে উম্মুক্ত করা হয়। নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা বলেন,’ সেদিন জনগন পথে না নামলে ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনের ফল বদলে দিতে পারত। মহিউদ্দিন চৌধুরীর জীবনজুড়ে শুধু একটি স্বপ্ন ছিল চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামবাসীকে নিয়ে। অপার সম্ভাব চট্টগ্রাম একদিন উন্নত বিশ্বের বড় বড় শহরের মত সমৃদ্ধশালী হবে। থাকবে না ক্ষুধা ও দারিদ্র্য। শিক্ষা-চিকিৎসা বঞ্চিত হবে না কোন নাগরিক। রাস্তাঘাট হবে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন।
চট্টগ্রামের উন্নয়নের এ্ই স্বপ্নবান পুরুষ মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় চট্টগ্রামে পাঁচটি মেটারনিটি ক্লিনিক তৈরী করেন। তিনি দেশের প্রথম মেয়র ছিলেন, যার অধীনে কোন ব্যক্তিগত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্টিত হয়েছে। সেটার নাম প্রিমিয়ার বিম্ববিদ্যালয়।
যেটা স্পন্সর করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। তিনি চসিককে আতœনির্ভরশীল করার প্রচেষ্টা চালান। ছেলেমেয়েদের গড়ে তুলেছেন সৃশৃঙ্খল পরিবেশে। চাইল পারতেন তাদের বিদেশে লেখাপড়া করিয়ে পশ্চিমা কালচারে গড়ে তুলতে। কিন্তু তাদেরকেও লেখাপড়া করিয়েছেন নিজের হাতে গড়া সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষাপ্রতিষ্টান গুলোতে। ছাত্রছাত্রীরা যতটুকু সুবিধা নিত, নিজ ছেলেমেয়েরাও ততটুকু সুবিধা পেত। নির্যাতিত মানুষের রাজনীতি করতে গিয়ে চড়া দাম দিতে হয়েছে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে।
যখনই শামরিক শাসনের কবলে পড়েছে দেশ কিংবা ক্ষমতায় আসে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী, তখনই কারাবাস যেন বাধ্যতামুলক হয়ে যায় তাঁর জন্য। কারাবাসের কারনে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করা আদরের কন্যা টুম্পার মুখ দেখার সৌভাগ্য হয়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাঁর মেয়ে টুম্পা ক্যান্সারে আক্রান্ত। চিকিৎসকরাও হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। কারাভ্যন্তরে থাকা মহিউদ্দিনের প্যারোলে মুক্তি চেয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী। তৎকালীন সরকারের এক উপদেষ্টা হাসিনা মহিউদ্দিনকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, জীবনে আর রাজনীতি করবেন না এমন বন্ডে সই করলেই কেবল মুক্তি মিলবে মহিউদ্দিন চৌধুরীর। কঠিন সেই শর্তে রাজি হননি হাসিনা মহিউদ্দিন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রগতিশীল শিক্ষক আন্দোলন, বিভাগীয় ষ্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের উপর পুলিশী হামলার প্রতিবাদে আন্দোলনেও সর্বাত্বক সহযোগিতা দেন তিনি। চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার আয়োজন করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও নতুন প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে অনন্য ভুমিকা রাখেন তিনি। প্রায় তিন দশক ছুঁতে চলা এই মেলা আজ চাটগাঁর গন্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অনুষ্টিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের বিজয়, বীর বাঙ্গালীর অহঙ্কার স্লোগানটিও ছিল তাঁর।
২০১০ সালে বিএনপি প্রার্থী মনজুর আলমের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মেয়র নির্বাচনে পরাজয় বরন করলেও জনগন থেকে কখনা বিচ্যুত হননি। নানা রোগ ব্যধিকে উপেক্ষা করে অসীম সাহস, তৎক্ষনিক সিদ্ধান্ত আর জনগনের সুখ-দু:খে পাশে থাকার মাধ্যমে তিনি সকল শ্রেনী পেশার মানুষের অপনজনে পরিনত হয়েছেন।
বর্তমান মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক। তারপরও নগরবামীর স্বার্থবিরোধী যে কোন কর্মকান্ডের ক্ষেত্রে মেয়রের কঠোর সমালোচনা সহ বিভিন্ন কর্মসুচী পালন করেছেন। গৃহকর বৃদ্ধি নিয়ে তিনি মৃত্যুর কয়দিন আগেও সিটি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। এভাবে তিনি চট্টগ্রামের অভিভাবকের আসনে প্রতিষ্টিত হন।
রাজনৈতিক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকলেও সব দলমতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সখ্যতা ছিল। বিপদে সবার পাশে দাড়াতেন তিনি।
২০১৫ সালের ২৭ জানুয়ারী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকের গায়েবানা জানাজা অনুষ্টিত হয় জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গনে। এতে অংশ নিয়েছিলেন মহিউদ্দিন। রাজনীতির পরিসীমা ছাড়িয়ে মানবিকতার বিরল দৃষ্টান্ত গড়েছিলেন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। তাই সমাজবিজ্ঞানী ড.অনুপম সেন গর্ব করেন তাঁর প্রিয় ছাত্রের জন্য। তিনি মহিউদ্দিনকে অভিহিত করেন’ নিপীড়িত, নির্যাতিত, পরাজিত, গনমানুষের নেতা’ হিসেবে। তিনি বলেন,’ মহিউদ্দিন চট্টগ্রামের অহংকার ও অভিভাবকতুল্য।
