সাতকানিয়ায় ফতোয়াবাজির শিকার নুরুর আত্মহত্যা

0

সাতকানিয়া প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ফতোয়াবাজির বলি হলো মো. নুরু (৫০)নামে এক ব্যক্তি।আলেম ওলামা বাদ দিয়ে সাতকানিয়ায় সমাজপতিদের ফতোয়াবাজির অপমান সহ্য করতে না পেরে অবশেষে বিষপানে আত্মহত্যা করলেন মো. নুরু প্রকাশ মিলুর বাপ। নুরু ৩ ছেলে ও ২ মেয়ের জনক। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার নুলুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড মরিচ্যাপাড়া এলাকায়। নিহত নুরু এলাকার ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে।

জানা যায়, মাস দু’য়েক আগে নুরু তার স্ত্রীকে তালাক দেন। পরে জনৈক ইমামের কাছ থেকে ফতোয়া নিয়ে নুরু তার স্ত্রীর সাথে সংসার চালিয়ে যেতে থাকেন। বিষয়টি এলাকার সমাজপতিরা বিশেষ করে মো. আবু, মো. নবী ওরফে মালনবী, নুরুল ইসলাম, মো. পেঠান, কামাল উদ্দিন ও মো. বাদশা মেনে নিয়ে পারেননি। তারা বারবার নুরুকে বিষয়টি নিয়ে অপমান অপদস্থ করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এমন কি এ বিষয় নিয়ে সমাজপতিরা নুরুকে স্থানীয় মসজিদে নামাজ পড়তেও বাধা সৃষ্টি করে।
অভিযোগে জানা যায়, গত শুক্রবার সমাজপতিরা জুমার নামাজ আদায় করতে নুরুকে বাধা সৃষ্টি করে এবং এক পর্যায়ে মসজিদ থেকে বের করে দেয়। এ ঘটনায় এলাকায় পক্ষ-বিপক্ষ সৃষ্টি হলে সমাজপতিরা ওই দিন রাতে সমাধানের কথা বলে সালিশী বৈঠক ডাকে। অভিযোগ উঠেছে,তথাকথিত সমাজপতিরা সমাধানের বাহানা দিয়ে নুরুর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকাও নেয়। বৈঠকে সামাজিক বিষয়টি মীমাংসা না করে উল্টো জনসমক্ষে নুরুকে অপমান করে সমাজচ্যুত করা হয়।
এ অপমান সহ্য করতে না পেরে নুরু গত শুক্রবার রাত একটার সময় বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর অসুস্থ নুরুকে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে কেরানিহাট আশশেফা হাসপাতাল পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রোববার (২১জানুয়ারী) ভোর ৪টায় নুরু মারা যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আবদুল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, নুরু অত্যন্ত নামাজি মানুষ ছিলেন। ভালো মানুষ বলা চলে। সমাজের কয়েকজন লোকের অপমান সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করতে হলো তাকে।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ মৃত নুরুর স্ত্রী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামীরা গা ঢাকা দিয়েছে, তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.