জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচন- সাইমুল-উত্তম পরিষদই চুড়ান্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিটি নিউজঃ অবশেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্থক্ষেপে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবি সমিতির নির্বাচনে উত্তম দত্তকে সেক্রেটারী পদে মনোনয়ন দিয়ে প্যানেল ঘোষনা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে সমন্বয়ের সাকেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুই আইনজীবী নেতার বিরোধ সামাল দিতে চট্টগ্রামে ছুটে এসেছেন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতারা।
গতকাল দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সার্কিট হাউস মিলনায়তনে দুই দফা আলোচনায় বসেন নেতারা। চট্টগ্রাম জেলার সমন্বয় পরিষদের স্টিয়ারিং কমিটির ৩২ জন সদস্য আলোচনায় অংশ নেন। আরও প্রায় একশ আইনজীবী সার্কিট হাউসের ভেতর-বাইরে অবস্থান করেন।
ঢাকা থেকে আগত সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতারা হলেন, আহবায়ক ইউসুফ হোসাইন হুমায়ুন, যুগ্ম আহবায়ক সাহারা খাতুন, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার ও সদস্য সচিব শেখ ফজলে নুর তাপস। সমিতির নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় এই পাঁচ নেতার সঙ্গে বৈঠকের পর চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের বিরোধ মিটেছে বলে জানান সাবেক সভাপতি রতন কুমার রায়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের কেন্দ্রীয় আহবায়ক মোহাম্মদ ইউসুফ হোসেন হুমায়ন, উপস্থিত ছিলেন সদস্য সচিব ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপস এমপি, বার কাউন্সিলের সহ–সভাপতি এডভোকেট বাসেত মজুমদার ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন। ঐক্য ফেরানোর বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে এডভোকেট উত্তম কুমার দত্তকে সাধারণ সম্পাদক মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এসময় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ৩২ সদস্যই সর্বসম্মত মতামত ব্যক্ত করেন।
বেলা সাড়ে ১২টায় অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত দুই সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী এডভোকেট আবু হানিফ ও এডভোকেট আবুল হাশেমকে বাইরে অপেক্ষা করতে বলেন নেতৃবৃন্দ। এরপর বক্তব্য দেন একেএকে এডভোকেট আনোয়ারুল কবির চৌধুরী, এডভোকেট রতুন কুমার রায়, এডভোকেট মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, এডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, এডভোকেট মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন খান, এডভোকেট এ কে এম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, এডভোকেট মুজিবুল হক, এডভোকেট আবু মোহাম্মদ হাশেম, এডভোকেট আইয়ুব খান, এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী ও এডভোকেট মনোতোষ বড়ুয়া।
সকলের বক্তব্য নিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টায় লাঞ্চ বিরতিতে যান আইনজীবী নেতারা। এরপর ৪টায় আবার সভা শুরু হলে মনোনয়নের বিষয়টি আসে। এতে চেম্বার বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ আবু হানিফের নির্বাচনী দৌঁড়কে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এ আশংকায় তাকে বাদ দেয়ার বিষয়টি উঠে আসে। আর এডভোকেট আবুল হাশেমের মনোনয়ন যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়নি মর্মে বক্তব্যও উঠে আসে কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্যে। এ অবস্থায় এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম মহানগর পিপি এডভোকেট উত্তম কুমার দত্তের নাম প্রস্তাব দেন সাধারণ সম্পাদক পদে।
এসময় সবার মতামতের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় নেতারা উত্তম কুমার দত্তকে মোবাইল ফোনে সার্কিট হাউসে আসতে বলেন। তিনি সভাস্থলে উপস্থিত হলে আনুষ্ঠানিকভাবেই সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়। এ বিষয়ে সমিতির সভাপতি এডভোকেট রতন কুমার রায় বলেন, চেম্বার বরাদ্দ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী পরিবর্তন হয়েছে। সমন্বয় পরিষদের নতুন প্রার্থী এডভোকেট উত্তম কুমার দত্ত।
একই বিষয়ে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সমন্বয় পরিষদের বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নেতারা যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন সেই অনুযায়ীই কাজ হবে। এখন সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে পুরো প্যানেলের জন্য নির্বাচনে অংশ নেবেন।
কেন্দ্রীয় নেতাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ থেকে আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি পদে মনোনয়ন চাইবেন শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন চাইবেন উত্তম কুমার দত্ত।
চেম্বার বরাদ্দকে কেন্দ্র করে গত ৮ জানুয়ারি সমন্বয় পরিষদের স্টিয়ারিং কমিটি হঠাৎ করে আবু হানিফের মনোনয়ন বাতিল করেন। তাঁর জায়গায় সাবেক জেলা পিপি আবুল হাশেমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। আবু হানিফের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের জন্য নির্মিত শাপলা ভবনের ৭৩টি চেম্বার অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। উল্লেখ্য, নির্বাচনে সমন্বয় পরিষদের সভাপতি পদ নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। সভাপতি পদে নির্বাচন করবেন শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী।
জানতে চাইলে আবু হানিফ বলেন, সমন্বয় পরিষদের প্রার্থী হয়ে গত শনিবার মনোনয়ন সংগ্রহ করি। এখন বাদ দেওয়ার বিষয়টি বর্তমান সময়ের জন্য প্রাসঙ্গিক নয়। আমি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। চট্টগ্রাম বারের রাজনীতি যেহেতু কেন্দ্রীয় নেতারা করেন না সেহেতু তাঁরা এখানকার রাজনীতি বুঝবেন না। তাঁরা সেটি কেন করেছেন তা আমার বোধগম্য নয়।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি রতন কুমার রায় বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা সর্বসম্মতভাবে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা আমরা মেনে নিয়েছি। আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সভাপতি পদে শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক পদে উত্তম কুমার দত্ত। উত্তম কুমার দত্ত আজ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করবেন। আগামী ২৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করবেন ও জমা দেবেন।
উল্লেখ্য, আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির ১৯টি পদে নির্বাচন। এতে আওয়ামীপন্থী একটি প্যানেল, বিএনপি–জামায়াত পন্থী একটি, দলনিরপেক্ষ একটি প্যানেল এবং গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি নামে চারটি প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
