শিক্ষামন্ত্রীর পিএর শত কোটি টাকা, এটা কি প্রশ্ন ফাঁসের টাকা
সিটি নিউজ ডেস্কঃ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, গায়ের জোরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার আরো একটি ভোটারবিহীন নির্বাচনের মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) করছে বলে ছেন । তবে জনগণ খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচন মেনে নেবে না বলেও দাবি করেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আরাফাত রহমান কোকো স্পোর্টিং ক্লাব আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, একটা মাস্টার প্ল্যান এবং এটা আন্তর্জাতিক মাস্টারপ্ল্যানও হতে পারে, বিদেশি প্রভুরাও সেখানে থাকতে পারে, জানি না কারা আছে। তবে সরকার যে একটা মাস্টারপ্ল্যান করছে, আর একটা ভোটারবিহীন নির্বাচন করতে চায় গায়ের জোরে। যাতে আরো বেশি বেসিক ব্যাংকের মতো অন্য কোনো ব্যাংক লুটপাট করা যায়। সোনালী ব্যাংকের মতো অন্য কোনো ব্যাংক লুটপাট করা যায়। সোনার হরিণ তারা কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে রাজি নয়। আর এটা করতে গিয়েই যত ধরনের খুন-খারাবি, হত্যা, রক্তগঙ্গা বইয়ে দেওয়া কোনোটাতেই দ্বিধা করেনি এই সরকার।’
শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তার গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, লুটপাটের কিছু কিছু ঘটনা চেষ্টা করেও সরকার ধামাচাপা দিতে পারছে না। এ রকম আরো অনেক ঘটনা অপ্রকাশিত রয়ে গেছে। শিক্ষা ব্যবস্থা শেষ। খাতায় না লিখলেও পাস করে যাবে। প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে প্রচুর অর্থের বিনিময়ে। আজ সবই ফাঁস হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীর পিএর শত শত কোটি টাকা, এটা কি প্রশ্ন ফাঁসের টাকা? পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার টাকা? সহনীয় মাত্রায় অপরাধ করা যায়, দুর্নীতি তো অপরাধেরই একটি অংশ। আজকেই খবরের কাগজে পড়ছিলাম, অনলাইনে পড়ছিলাম। কি অদ্ভুত ব্যাপার, এতদিন শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্বে ছিলেন, সরকার ছিল। সরকারের এত পুলিশ, যে ফেসবুকে কেউ যদি সরকারের সমালোচনা করে তাহলে তাঁকে কারাগারে দিতে হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও সামনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। রুহুল কবির রিজভী বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া হলো। কেন? কারণ ভোট হলে তারা জয়ী হবে না। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করা হয়েছে বা আজকে হবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঠিকঠাক হয়ে যাবে। কারণ তারা তাদের পছন্দের লোককে সেখানে বসিয়ে দেবে। এখানে তো জনগণের ভোট দেওয়ার জায়গা নাই। সাবেক যে পার্লামেন্ট, যে পার্লামেন্টে একই ধরনের আওয়াজ হয়, সংগীত- সেখান থেকে উচ্চারিত হয়, গাওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দেখবেন কোনো রিটও হবে না। আমার যতটুকু মনে হয়। সবকিছুই সাজানো গোছানো আছে। সেটা তারা করতে পারবে।’
এখন মানুষের বিচার পাওয়ার অধিকারও নেই বলে মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী। নতুন গঠিত মন্ত্রিসভায় বিএনপির কোনো সদস্য থাকবেন না, কেননা তাঁরা সংসদের সদস্য নন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের এমন মন্তব্যের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন, পার্লামেন্টে যারা নাই তাদের অংশগ্রহণ থাকবে না। তাহলে কারা থাকবে? পার্লামেন্টে যারা আছে তারা তো ভোটারবিহীন।
খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার বলেও মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, জনগণের এই প্রতিবাদের মুখেও সরকার মনে করছে আমি যদি গুম করি, আমি যদি দুর্নীতি করি, একের পর এক বিরোধী দলের তরুণ নেতাদের যদি লাশ ফেলে রাখি, জনগণ ভয়ে চমকে যাবে, তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলবে না। প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের কথা বলবে না। অবাধ ভোটের কথা বলবে না। এই কারণেই তারা সব নীলনকশা করে যাচ্ছে। নীলনকশা অনুযায়ী অনেকদিন ধরেই কাজ করছে।
