নিজস্ব সংবাদদাতা, চন্দনাইশ :: শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, চন্দনাইশের বিদ্যানগরে গ্রামীন পরিবেশে জ্ঞানার্জনের যে আয়োজন তা সারা দেশের জন্য অনুপম উদাহরণ।
১’শ একর জমির উপর প্রতিষ্টিত প্রাইমারী থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষা ছাড়াও চিকিৎসা ও নাসিং শিক্ষা ব্যবস্থাপনা দেশের যেকোন শিক্ষানুরাগী সম্পদশালী ব্যক্তির জন্য অনুপ্রেরণা।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলো বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষায় নতুন মাত্রায় যোগ হয়েছে। এর মধ্যে প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন, বিকল্প মাধ্যমের উদ্ভাবন, বিশ্বায়নের প্রতিফলন,তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উন্নয়ন, প্রাসঙ্গিকতা নিশ্চিতকরণ, প্রচলিত শিক্ষা কার্যক্রমের সংস্কার, নতুন কার্যক্রমের সূচনা।
বেসরকারি এসব বিশ্ববিদ্যালয় গুলি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিতে অবদান রাখছে। শিক্ষার গুনগতমান বৃদ্ধি করা বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। আর্দশ জাতি গঠনে নৈতিক শিক্ষা খুবই জরুরী।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অর্জিত শিক্ষা ও জ্ঞান বাস্তব কর্মজীবনে প্রয়াগ করতে হবে। জ্ঞান ও মেধার প্রয়োগে সৃজনশীলতা, উদ্যোগ, বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা,জ্ঞান, অভিজ্ঞতা অর্জনের সীমা বা শেষ নেই। যে জ্ঞান আপনারা অর্জন করেছেন তা ছড়িয়ে দিয়ে, আপনাদের প্রজ্ঞা ও মেধা যেন সাধারণ মানুষের প্রাণের সাহায্য দেয়।
দেশ প্রেম,সততা আর নিষ্ঠার মাধ্যমে আপনারা তা করবেন। ২০২১ সালে স্বাধীনতা সুবর্ণ জয়ন্তীর পূর্বে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নিত হব। ২০৪১ সালে আমরা উন্নত রাষ্ট হিসেবে বিশ্ব সমাজে স্থান করে নিতে চাই। দারিদ্র দূরীকরণ আমাদের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আপনাদের নেতৃত্ব দিতে হবে।
জ্ঞানচর্চা, গবেষনা ও নতুন জ্ঞান অনুসন্ধান, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে হবে। শিক্ষা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থিতিশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের বিশ্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি। বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তিগত তথ্য বিপ্লবের সুযোগ গ্রহন করে যুগোপযোগী মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। আজকের এ শিক্ষিত সমাজ জাতির ভবিষ্যত।
সমাবর্তন বক্তা, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেছেন, মা,মাটি,মানুষ ও মাতৃভূমির প্রতি দায়বদ্ধতায় রতœগর্ভা জননী বেগম চেমন আরার নামে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্টা করেছেন মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার আবছার উদ্দীন আহমেদ। এ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গুলির মধ্যে অন্যতম।
একজন পকেটমার একজনের পকেট চুরি করে। একজন দুর্নীতি পরায়ন মানুষ দ্বারা সমাজের এবং রাষ্ট্রের সম্পদ লুণ্ঠিত হয়। অর্জিত জ্ঞানের অনৈতিক প্রয়াগের দ্বারা সমাজ যেন কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় এ ব্যাপারে সজাগ থাকার আহবান জানান। এটি আমাদের মানবিকতার বিকাশ,দৃষ্টিভঙ্গির প্রসারণ, উদারিকরণের প্রকৃষ্ট পরিসর।
এখন মানুষ ব্যক্তিগত বৈষয়িক লাভ-লোকসানের হিসাব নিকাশে ব্যস্ত। সব কাজ যেন ব্যক্তি স্বার্থ চিন্তার অংশ। আমরা স্বার্থপর হয়ে উঠেছি। ব্যাংকের টাকা, দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করে ধনী হতে চাই। মানুষকে পুড়িয়ে মেরে রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চাই।
সন্ত্রাস,টেন্ডারবাজি,চাঁদাবাজি,ঘুষ ও প্রতারণা আজ স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। সময় এসেছে ঘুরে দাড়ানোর। বিবেককে শানিত করে অঙ্গীকার করার। আমরা বাচঁব এবং মরব মানুষের জন্য। সত্য, ন্যায় মানবতার পক্ষে সাহস করে অবস্থান নেব এই হোক আমাদের প্রত্যয়।
বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্টাতা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আফছার উদ্দীন আহমেদ বলেছেন, ৪০ বছর আগে একটি অনুষ্ঠানে মানুষ করার কারখানা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আজ তা বাস্তবায়ন করেছি। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় করার। তা বাস্তবায়ন হওয়ায় এলাকার ছেলে-মেয়েরা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারছে। শিক্ষা মানুষের নায্য পাওনা। মা,মাটি,মাতৃভূমির মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের কারণে এ প্রতিষ্টান। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা দিবা স্বপ্ন দেখবেন,রাতে নয়। যে স্বপ্ন জীবনের উন্নতিতে নিয়ে যায় এবং ঘুমাতে দেয় না।
গতকাল ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে চন্দনাইশ বিজিসি বিদ্যানগরে ২০০১ সালে প্রতিষ্টিত বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম সমাবর্তন অনুষ্ঠান বিজিসি ট্রাস্ট ক্যাম্পাসের বঙ্গবন্ধু ফ্রিডম স্কয়ার চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়। এ সমাবর্তন অনুষ্টানে ৭ হাজার ৩’শ ৩৭ জন শিক্ষার্থী ¯œাতক ও ¯œাতকত্তোর সনদ পাচ্ছেন।

মহামান্য রাষ্ট্রপতির পক্ষে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপির সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান, কনভোকেশন স্পিকার (সমাবর্তন বক্তা) প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী। সভায় সূচনা বক্তব্য রাখেন ভিসি ড. সরোজ সিংহ হাজারী।
আলোচনায় অংশ নেন ট্রাস্টী বোর্ডের প্রতিষ্টাতা চেয়ারম্যান,সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আফছার উদ্দীন আহমেদ, রেজিষ্ট্রার আকতারুজ্জামান,ডীন যথাক্রমে ড. রনজিত কুমার ধর, প্রফেসর শ্বাসত ধর, অধ্যাপক সুদীপ্ত দেব, অধ্যাপক নাজনিন আকতার।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুকান্ত ভট্টাচার্য্যরে স ালনায় ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে পাঠ করেন প্রভাষক যথাক্রমে সাইফুল ইসলাম, প্রভাষ ঘোষ, ধীমান বড়–য়া, শিক্ষার্থী সুলতানা আকতার প্রমুখ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে চ্যান্সলর গোল্ড মেডেল-৪, ভাইস-চ্যান্সলর গোল্ড মেডেল-৫, চেয়ারম্যান গোল্ড মেডেল-৪ জনসহ ১৩ জনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এদের মধ্য ৮ জনই নারী। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
