সিটিনিউজবিডি, ঢাকা অফিস : অনুমোদনের জন্য অপেক্ষমাণ থাকা প্রকল্প কমানোর তাগিদ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এজন্য এসব প্রকল্প দ্রুত চূড়ান্ত করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব সংস্থাটি।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে বুধবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তারা এ তাগিদ দিয়েছেন বলে জানান অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব কাজী শফিকুল আজম। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সিনিয়র সচিব মেজবাহ উদ্দিন।
বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইউহানেস জাট এবং সংস্থাটির প্রস্তাবিত ১৩টি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বব্যাংক উইংয়ের প্রধান ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব কাজী শফিকুল আজম বৈঠকের বিষয় সম্বন্ধে বলেন, পাইপলাইনে থাকা মোট ১৩টি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ ছয় থেকে সাতটি প্রকল্প নেওয়ার কথা বিশ্বব্যাংক আমাদের জানিয়েছে। যেসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রকল্প আগে প্রস্তুত হবে গুরুত্ব বিবেচনা করে সেগুলো পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত করা হবে।
তিনি আরো জানান, চলতি বছর বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ১৫০-১৮০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। ইতিমধ্যেই রিভার ব্যাংক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের জন্য ৬০ কোটি মার্কিন ডলার এবং ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচার টেকনোলজি প্রজেক্ট ফেজ-২-এর জন্য ১৮ কোটি মার্কিন ডলার ঋণের বিষয়ে তাদের সঙ্গে দর-কষাকষি হয়েছে।
ঘোড়াশালের চতুর্থ ইউনিট বিদ্যুৎকেন্দ্র সংস্কারে ২৫ কোটি ডলার, দক্ষতা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অতিরিক্ত ১০ কোটি ডলার, যমুনা নদীর বাঁধ রক্ষায় ৬০ কোটি ডলার, নির্বাচিত কলেজের উন্নয়নে ১০ কোটি ডলার, সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে অতিরিক্ত ১৮ কোটি ডলার, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ১৫ কোটি ডলার, আঞ্চলিক কানেক্টিভিটিতে ১৫ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এ ছাড়া নদীতে পরিবহণব্যবস্থার উন্নয়নে ২১ কোটি ডলার, জলবায়ু ও আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থা আধুনিকায়নে ৭ কোটি ডলার, বস্তিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে ৫ কোটি ডলার, বিমা খাতের উন্নয়নে ৫ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
এসব ঋণের বিপরীতে বিশ্বব্যাংককে দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। ৬ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩৮ বছরের মধ্যে ঋণ শোধ করতে হবে।
