জামালপুরের গুঠাইল থেকে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করলেন মোস্তাফা আল মোমিন। তার প্রতিষ্ঠিত বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান পালকি মোটরস সংযুক্ত আরব আমিরাতের জায়েদ সাসটেইনেবিলিটি পুরস্কার জয় করেছে। পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবনের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি জিতেছে ১ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ কোটি টাকা।
মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) আবুধাবি জাতীয় প্রদর্শনী কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে আমিরাতের রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। বিশ্বের ১৫১ দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতায় টিকে “এনার্জি ক্যাটাগরি”-তে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে পালকি মোটরস। নাইজেরিয়া ও বেলজিয়ামের মতো দেশকে পেছনে ফেলে এই সাফল্য অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
পালকি মোটরসের প্রতিষ্ঠাতা মোস্তাফা জানান, ঢাকার দূষণ ও পরিবেশগত সমস্যার সমাধান এবং চালকদের জীবনমান উন্নয়নে বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। ২০২০ সালে মাত্র সাড়ে চার লাখ টাকা নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত ৭৫টি গাড়ি উৎপাদন করেছে। তাদের গাড়ি জ্বালানি খরচে ৯০% এবং রক্ষণাবেক্ষণে ৫০% সাশ্রয়ী।
পালকি মোটরসের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এক্সিকিউটিভ তাইউম হোসেন সজল জানান, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৭ সালের মধ্যে ২০ হাজার বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদন এবং ২ লাখ ৬০ হাজার টন কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি সিটিবয় ভার্সন-৩ মডেল প্রস্তুত করছে, যা আগের তুলনায় আরও উন্নত।
এই সাফল্য বাংলাদেশের উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি খাতকে বিশ্বমঞ্চে নতুন মাত্রা দিয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নে পালকি মোটরসের ভূমিকা নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়।
