সব সমীকরণ পেছনেঃ শেষ ষোলতে আর্জেন্টিনা

0

স্পোর্টস ডেস্কঃ একদিকে হাজারো চাপ, অন্যদিকে যদি’, ‘কিন্তু, ‘যেহেতু’, ‘সুতারাং’ ,’নইলে’ এইজাতীয় শব্দ নিয়েই মুখোমুখি হয়েছিল “আর্জেনটিনা”। তবে ‘সাত সমুদ্র তের নদী’ পাড়ি দিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টাইনরা তাদের সেরাটা খেলে ম্যাচ জিতে শেষ ষোলতে যাবার জন্য টিকেট কনফার্ম করলো।

এতেই ফুটবলের দেশ লাতিন আমেরিকার এই আর্জেন্টাইনবাসী ছাড়াও সারা পৃথিবীর লক্ষ কোটি দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে। গত ২টি ম্যাচে প্রথমটিতে ড্র ২য়টিতে হার পয়েন্টের স্থান যখন তলানীতে ঠেকেছিল ঠিক তখনেই গ্রুপের শেষ ম্যাচে মেসীরা আর্জেন্টানিয়ান ফুটবল খেলা উপহার দিয়ে ষোলতে উঠলো।

সাথে লক্ষ কোটি মেসীভক্ত বা আর্জেন্টাইনপ্রেমীদের অন্তত একটি রাত নিশ্চিন্তে ঘুমানোর ব্যবস্থা করলো মেসী। সমর্থকদের হৃদয়ে কাঁপন ধরিয়ে শেষ পর্যন্ত এই ‘অসম্ভবই সম্ভব’ করলো আর্জেন্টিনা। রাশিয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে আসরের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আকাশি-নীল জার্সিধারীরা।

বিশ্বকাপে বাজে শুরু করা আর্জেন্টিনা গ্রুপ ‘ডি’র চতুর্থ দল হিসেবে এ ম্যাচে নামে। ফলে শুধু এই ম্যাচে হোর্হে সাম্পাওলির শিষ্যদের জিতলেই হতো না, তাকিয়ে থাকতে হয় একই সময়ে চলা ক্রোয়েশিয়া ও আইসল্যান্ডের ম্যাচের দিকেও। ঐ ম্যাচে আইসল্যান্ডের হারের প্রার্থনা করতে হয় আলবিসেলেস্তেদের। একেবারে হলোও তাই। এদিকে জয় পেলো আর্জেন্টিনা। ওদিকে লুকা মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়া ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছে আইসল্যান্ডকে।

সেন্ট পিটার্স বার্গ স্টেডিয়ামে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই লিওনেল মেসির গোলে এগিয়ে যায় আক্রমণাত্মক আর্জেন্টিনা। খেলার ১৪ মিনিটে এভার বানেগার সহায়তায় দুর্দান্ত গোলটি করে আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক। বিশ্বকাপে ৬৬০ মিনিট পরে গোলের দেখা পেলেন মেসি। সর্বশেষ ২০১৪ বিশ্বকাপে এই নাইজেরিয়ার বিপক্ষেই গোল করেছিলেন তিনি।

প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি সুযোগ পেলেও তা থেকে গোলবঞ্চিত থাকে আর্জেন্টিনা। বিশেষ করে ৩৪ মিনিটে মেসির ফ্রি কিক অল্পের জন্য গোলের দেখা পায়নি।

বিরতির পর কিছুটা অগোছালো ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। আর এই সুযোগটিই নেয় নাইজেরিয়া। খেলার দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নাইজেরিয়ার কর্নার কিকের সময় ডি-বক্সের ভেতরে লিওন বালোগুনকে হাভিয়ের মাসচেরানো ফাউল করলে পেনাল্টি ডেকে বসেন রেফারি। ভিএআর প্রযুক্তি থেকে নিশ্চিত হয়ে পরে ৫১ মিনিটে স্পট কিক থেকে সফলভাবে গোল আদায় করে নেন মোজেস।

জয়ে পেতে মরিয়া আর্জেন্টিনা মাঝে আরও খেই হারিয়ে ফেলে যেন। মাসচেরানোর পর ৬৪ মিনিটে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন প্রথম গোলের সহায়তাকারী বানেগা। আর এই ম্যাচে অনেক আশা নিয়ে মাঠে নামা গনজালো হিগুয়াইন আরেকবার আর্জেন্টিনাকে আশাহত করেন। ৮১ মিনিটে ডি বক্সের ভেতরে বল পেয়েও জালে না মেরে আকাশে উড়িয়ে দেন।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হতাশায় মুষড়ে পড়তে থাকা আর্জেন্টিনাকে আনন্দের জোয়ারে ভাসান রোহো। ক্রস থেকে বল পেয়ে দারুণ দক্ষতায় ভল্যির মাধ্যমে ৮৬ মিনিটে দলের জয়সূচক গোলটি করেন এই তারকা ডিফেন্ডার। ৪ বছর আগে ব্রাজিল বিশ্বকাপেও তিনি ত্রাতার ভূমিকা পালন করেন। সেবারও প্রতিপক্ষ নাইজেরিয়া। সেবার আর্জেন্টিনা যখন ২-২ গোলে সমতায়, তখন তার গোলেই জয় পায় মেসিরা।

ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের পর রেফারি আরও ৪ মিনিট যোগ করেন। সে সময় নাইজেরিয়ান তারকা জন ওবি মিকেল হলুদ কার্ড দেখেন। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে মেসিও সময় নষ্ট করার অপরাধে হলুদ কার্ড দেখেন। তবে শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা।

শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। আর একই গ্রুপ থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া ক্রোয়েশিয়া পেয়েছে ডেনমার্ককে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.