গ্যাসের বিল কার্ডে না স্মার্ট মিটারে?

0

অর্থ ও বাণিজ্য, সিটি নিউজ :: গ্যাসের বিল স্মার্ট মিটারে না কার্ডে দেওয়া হবে, এই নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু করেছে জ্বালানি বিভাগ। প্রকল্পের মাঝপথে এসে ধরন পরিবর্তন করতে চাইছে সরকার। এখন গ্যাসের গ্রাহকদের কার্ডে বিলিং পদ্ধতির প্রি-পেইড মিটার দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রকল্পর অর্ধেক বাস্তবায়ন হতে না হতেই বলা হচ্ছে কার্ডের পরিবর্তে স্মার্ট বিলিং পদ্ধতির মিটার দেওয়া যায় কিনা, তা পর্যালোচনা করতে হবে। আর এ জন্য তিন দিনের সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছে তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানিকে।

গত রবিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি খাতের প্রকল্পগুলোর অগ্রগতির বিষয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, কার্ড পদ্ধতির মিটারে গ্রাহককে কার্ড কিনে মিটার রিচার্জ করতে হবে। অন্যদিকে স্মার্ট মিটারে সরাসরি মোবাইল থেকেই রিচার্জ করা যায়। কার্ড কেনা ও রিচার্জের ঝামেলা থেকে মুক্তির জন্য স্মার্ট মিটারের বিকল্প নেই। সেজন্য কোন মিটার গ্রাহকের ব্যবহারের জন্য সুবিধাজনক, তা তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিয়ে জানাতে হবে।

তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন ও ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের ডিজিএম ও প্রি-পেইড মিটারের প্রকল্প পরিচালক ফাইজার রহমানকে প্রতিবেদনটি তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ফাইজার রহমান বলেন, তিন দিনের মধ্যে গ্যাসের প্রি-পেইড মিটারের বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কোন পদ্ধতির মিটার ভালো, তা জানাতে আমাদের বলা হয়েছে। এই সপ্তাহের মধ্যেই প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

অভিযোগ আছে, এখন তিতাসের প্রি-পেইড মিটারে বিল দিতে গিয়ে অনেক গ্রাহক বিড়ম্বনায় পড়ছেন। সরকার এই বিড়ম্বনা থেকে মুক্তির জন্যই প্রি-পেইডের বদলে স্মার্ট মিটারের প্রচলন করতে চায়। তবে স্মার্ট মিটারের ক্ষেত্রে গ্রাহক কী কী সুবিধা পাবেন, সেই সুবিধা গ্রাহক ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারবেন কিনা, সে বিষয়ে শুরুতেই বিস্তারিত জানা প্রয়োজন। এজন্যই প্রতিবেদনটি তৈরি করতে বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে তিতাসের একজন কর্মকর্তা বলেন, এখন যেহেতু কার্ড মিটারের পরবর্তী ধাপ হিসেবে স্মার্ট মিটার চলে এসেছে, তাই নতুন করে কার্ড মিটারে গ্রাহককে গ্যাস দেওয়া উচিত নয়। একবার গ্রাহকের আঙিনায় কার্ড মিটার লেগে গেলে আর স্মার্ট মিটার লাগানো সম্ভব না। এক্ষেত্রে গ্রাহককে ব্যবহার সহজ করার জন্য যে সুবিধা দেওয়া যেতো, তা দেওয়াও আর সম্ভব হবে না। এ কারণে প্রতিবেদনটি তৈরি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের বিষয়ে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মশিউর রহমান বলেন, একচুলা বা দুই চুলার বিল কিন্তু আলাদা। সব গ্রাহকেরই উচিত নিজেদের ক্যাপাসিটি অনুযায়ী মিটার নেওয়া। এতে অপচয় কমে যাবে। গ্যাসের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। এখন প্রি-পেইড মিটার স্থাপন খুবই জরুরি। এরইমধ্যে আমরা অনেক এলাকায় মিটার স্থাপন করেছি। অনেক এলাকায় স্থাপনের কাজ চলছে।

বর্তমানে তিতাস ঢাকার লালমাটিয়া ও মোহম্মদপুর-আদাবর এলাকায় যথাক্রমে ৪ হাজার ৫০০ ও ৮ হাজার ৬০০ গ্রাহকের আঙিনায় প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপন করেছে। আরও দুই লাখ গ্রাহকের আঙিনায় মিটার স্থাপনের কাজ করছে। এই দুই লাখের মধ্যে বাড্ডা, গুলশান, বনানী, বারিধারা, বসুন্ধরা, তেজগাঁও শি/এ, ক্যান্টনমেন্ট, মিরপুর, আজমপুর, কাফরুল, খিলক্ষেত, উত্তরখান ও উত্তরা এলাকায় এক লাখ ৭০ হাজার আবাসিক গ্রাহকের আঙিনায় প্রি-পেইড মিটার বসানো হবে।

বাকি ৩০ হাজার প্রি-পেইড মিটার নতুন উপশহর এলাকা উত্তরা তৃতীয় প্রকল্প, পূর্বাচল প্রকল্প ও ঝিলমিল প্রকল্প এলাকার আবাসিক গ্রাহকের আঙিনায় বসানো হবে। প্রকল্পটি ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার আশা করা হলেও এখন বলা হচ্ছে, আরও একবছর সময় বাড়াতে চায় তিতাস।

৭১২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে তিতাস। যার মধ্যে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোয়াপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ৪৫৩ কোটি, সরকার ২৩৬ কোটি ও তিতাসের নিজস্ব অর্থায়ন রয়েছে ২২ কোটি টাকা। এছাড়া ঢাকার বাইরে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল)’র মাধ্যমে চট্টগ্রাম এলাকায় ৬০ হাজার প্রি-পেইড মিটার স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, তিতাসের দুই লাখের মধ্যে ৫৭ হাজার ৭২৯টি মিটার স্থাপন হয়ে গেছে। প্রকল্পের আওতায় ২৫০টি পয়েন্ট অব সেলস পরিচালনার জন্য ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এরইমধ্যে ১২টি পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) স্থাপিত হয়েছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রামের ৬০ হাজার মিটারের মধ্যে এ পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৭০৮ টি প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে। ২২ হাজার ২৭ জন গ্রাহকের আঙিনায় স্থাপিত মিটারগুলোকে প্রি-পেইড মোডে কমিশনিং করা হয়েছে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.